ঢাকা, সোমবার , ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

লাভজনক প্রবৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর তথ্য-চালিত প্রযুক্তি সক্ষমতা প্রয়োজন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৬:২৭ পিএম

এশিয়ার ডিজিটাল ব্যাংকগুলোকে উন্নততর ব্যাংকিং সেবা সরবরাহ করতে কোন কোন বিষয়গুলোতে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সেটি উঠে এসেছে ওরাকলের নতুন গবেষণায়। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বিয়ন্ড ডিজিটাল- ডাটা- ড্রাইভেন স্ট্র্যাটেজিস টু গ্রো স্কেল এ্যান্ড প্রোফিট’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে মূলত সেইসব বিষয়গুলো খুঁজে বের করা হয়েছে যেগুলোতে জোর দিলে ব্যাংকগুলো বাজারে তাদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে পারবে। এশিয়ার প্রধান তিনটি ব্যাংকিং বাজার হংকং, সিঙ্গাপুর এবং মালয়শিয়ার ডিজিটাল ও প্রথাগত ব্যাংকগুলোর বিকাশের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনের মূল পর্যবেক্ষণগুলো হল, প্রথমত, প্রবৃদ্ধির জন্য আইনগত বাঁধা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির দিকে লক্ষ্য রেখে, ব্যাংকগুলোর উচিত তথ্যকে গ্রাহক অভিজ্ঞতায় সীমাবদ্ধ না রেখে সম্মিলিতভাবে ব্যবহার করা। দ্বিতীয়ত, ব্যাংকগুলোকে ক্ষুদ্র ও মাঝারী উদ্যোগগুলোকে প্রণোদনা দিতে হবে এবং এইসব ক্ষেত্রে ঋণদান অভিজ্ঞতায় তথ্যভা-ারকে কাজে লাগাতে হবে। তৃতীয়ত, ওপেন ব্যাংকিং এবং ভার্চুয়াল ব্যাংকিং লাইসেন্স প্রদানের মত প্রগতিশীল প্রবিধানগুলো হবে আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের মূল চাবিকাঠি। এবং চতুর্থত, বিধিবিধানের প্রতি নিরাপদ ও সুরক্ষিত অনুশীলনের মাধ্যমে বিশ্বাস গড়ে তোলা জরুরি।

প্রথাগত ব্যাংকগুলোর বর্তমান সময়ের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো হল- আর্থিক সেবাগুলোতে প্রযুক্তি শক্তিগুলোর অবাধ প্রবেশ, বিকল্প ব্যাংকিংয়ের উত্থান এবং উন্মুক্ত ব্যাংকিং আইন ও বিধিবিধান। এছাড়াও ভার্চুয়াল ব্যাংকিংয়ের লাইসেন্স প্রদান প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে যেমনটা সিঙ্গাপুর, হংকং ও মালয়শিয়ার ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে পরিলক্ষিত হচ্ছে।

ওরাকল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস জাপান ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট ভেঙ্কি শ্রীনিভাসান বলেন, “প্রথাগত ব্যাংকগুলো আধুনিক পরিষেবা উদ্ভাবনে প্রচুর প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে, যা প্রথাগত ব্যাংকিং মডেলকে পুনর্র্নিমাণে বারবার জোর দিচ্ছে। ভার্চুয়াল ব্যাংকিং প্রয়োজনের তুলনায় বর্ধনশীল হতে পারে। তবুও তারা বর্তমানে তিনটি তাৎক্ষনিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে যেগুলো হল- আইনপ্রনেতাদের তাদের বিধিবিধান মেনে চলার দক্ষতা প্রদর্শন করা, তথ্যের নগদীকরণ এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা প্রাপ্তির জন্য সম্মতি আদায়।”

ডিজিটাল ব্যাংকিং বিশ্বব্যাপী চলমান প্রক্রিয়ায় একটি দুর্দান্ত কাজ করেছে। এখন তাদেরকে গ্রাহকের জীবনচক্রের সাথে যুক্ত এসএমই ব্যাংকিং, বন্ধক, বিনিয়োগ এবং ফিনান্স ম্যানেজমেন্টের মত বিষয়গুলোতে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে হবে কেননা এই বিষয়গুলোতে বর্তমানে গ্রাহক সন্তুষ্টির মাত্রা হ্রাস পেয়েছে।

প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারসের এশিয়া প্যাসিফিক ডিজিটাল ব্যাংকিং লিডার হারজিৎ বাওরা বলেন, “প্রেক্ষাপট এতোই দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে যে, নতুন আগতদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে প্রথাগত ব্যাংকগুলোর কর্মপন্থা নির্ধারণের কাজ তুলনামূলক খুবই ভঙ্গুর গতিতে চলছে। সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও গ্রাকদের আকর্ষণে তথ্যকে কাজে লাগিয়ে ভোক্তার অর্থে নিজেদের অংশীদারিত্ব বাড়াতে প্রথাগত ও ডিজিটাল দুই ধরণের ব্যাঙ্কেরই অপরিসীম সুযোগ রয়েছে।”

ব্যাংকগুলো নিজেদের কিভাবে পূর্নাঙ্গ তথ্য-চালিত সংগঠনে রূপান্তর করবে এবং সাথে সাথে বিধিনিষেধ অনুসারে গ্রাহকের চাহিদা ও ভালো চর্চাগুলো তুলে ধরবে তা প্রতিবেদনটিতে সবিস্তারে বর্ণনা করা হয়েছে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন