ঢাকা, শুক্রবার , ১৭ জানুয়ারী ২০২০, ০৩ মাঘ ১৪২৬, ২০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পেঁয়াজের দাম নিয়ে সংসদে ঝড়

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৪ নভেম্বর, ২০১৯, ৯:০৫ পিএম

পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতেসংসদে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিনিয়র সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, বাজারে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ থাকলেও সরকার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে কারসাজির মাধ্যমে মূল্য বাড়ানো হচ্ছে। তাই কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। এক্ষেত্রে মাদক কারবারিদের মতো দু’এক জনের বন্দুকযুদ্ধে যাওয়া দরকার বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এমন মন্তব্য করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে এই আলোচনায় অংশ নেন সরকারি দল আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও সাবেক প্রধান হুইপ আ স ম ফিরোজ এবং বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মুজিবুল হক চুন্নু ও বিএনপির মো. হারুনুর রশীদ।

সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আলোচনার সূত্রপাত করে পেঁয়াজের ঝাঁঝ কমাতে সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, কয়েকদিন আগে ঘুর্ণিঝড় বুলবুল হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দাম একটু বেড়েছে। একটু না আজকে পত্রিকায় দেখলাম ২০০ টাকা কেজি। এটা কোন দিন আমরা ভাবি নাই। বর্ষার কারণে ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন হয়নি। সাধারণত এগুলো আমরা আগেই মূল্যায়ন করি। আমাদের বাৎসরিক চাহিদা কতো আছে। আর যেটা ঘাটতি সেটা আগেই তুরস্ক বা মিশরসহ মিয়ানমার থেকে আগেই আমদানি করার ব্যবস্থা করি। টিসিবি সে ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

তিনি আরো বলেন, অর্থমন্ত্রীকে বলবো যারা পেঁয়াজ আমদানি করে তাদের সুযোগ-সুবিধা দেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের যখন কোন একটা পণ্যের দাম বাড়ে, আমরা তার উপর ডিউটি কমিয়ে দেই। আমি মনে করি এই মুহূর্তে পেঁয়াজ আমদানি করার জন্য অন্ততঃ কিছু দিনের জন্য পেঁয়াজের ডিউটি শূণ্য করে দেন।

অতীত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি যখন শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলাম তখন লবণের দাম বেড়েছিল। তখন অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়াকে অনুরোধ করার পর লবণ আমদানি ডিউটি ফ্রি করে দিয়েছিলেন। এই খবর পরিবেশিত হওয়ার সাথে সাথে লবণের মূল্য স্বাভাবিক হয়ে যায়। এরকম একটা ঘোষনা দেন ‘পেঁয়াজ আমদানি করতে কোনো শুল্ক বা ডিউটি লাগবে না’, তাহলে দেখবেন এর একটা প্রভাব পড়বে। মূল্য নিয়ন্ত্রণে আসবে।

সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ এ প্রসঙ্গে বলেন, আসলেই বাজারে প্রচুর পেঁয়াজ আছে। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নাই। প্রধানমন্ত্রী এর আগে অনুরোধ করেছিলেন পেঁয়াজ কম খেতে। সেটাতে মানুষ সাড়া দিয়েছেন। পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি সরকারের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এজন্য দুর্নীতিবাজরা এটা করতে পারে। এটা মানা যায় না। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আমি আহবান জানাই। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন, যাতে পেঁয়াজের দাম কমে। মানুষের দুর্ভোগ দুর হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন