ঢাকা, শনিবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৬ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ডুবন্ত সড়কে ভোগান্তি

নওগাঁ জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১৫ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

নওগাঁয় সদর উপজেলার দুবলহাটি থেকে ভীমপুর। দূরুত্ব প্রায় ৬ কিলোমিটার। । রাস্তা থাকলেও বছরের চারমাস থাকে পানির নিচে। বর্ষা মৌসুমে কালিপুর, সুনুলিয়া, হাতাস, প্রতাবদহ ও শশিধরপুরসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

শুষ্ক মৌসুমে পায়ে হেঁটে আর বর্ষা মৌসুমে নৌকায় তাদের একমাত্র ভরসা। ভীমপুর থেকে বারোমাসা বিল (বিল মুনছুর) পার হয়ে হাতাস গ্রাম। দূরুত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। যেখানে সড়কের সংযোগ ছাড়াই রয়েছে ৪টি ব্রিজ। বর্ষা মৌসুমে এই ব্রিজগুলো কোন কাজে আসে না। রাস্তা হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে যা এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

জানাগেছে, সদর উপজেলার শহরের আরজি-নওগাঁ শাহী মসজিদ থেকে হাঁসাইগাড়ী ইউনিয়নের ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১২ কিলোমিটার সড়ক। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হয়েছে। আবার দুবলহাটি বাজার থেকে ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত বাকি আছে ৬ কিলোমিটার। দুবলহাটি বাজার থেকে হাঁসাইগাড়ী বিলের মধ্য দিয়ে কাটখৈর বাজার হয়ে ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত যে পাকা সড়ক রয়েছে তার দুরুত্ব প্রায় ১৫কিলোমিটার।

অপরদিকে, দুবলহাটি বাজার থেকে প্রতাবদহ, শশিধরপুর, কালিপুর, চোয়ারাপাড়া, হাতাস, মধ্যহাতাস ও সুনুলিয়া গ্রাম হয়ে বারোমাসা (বিল মুনছুর) বিলের মাঝ দিয়ে ভীমপুর উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হলে প্রায় ৯ কিলোমিটার সাশ্রয় হবে।
বর্ষার সময়ে এ গ্রামগুলো দুর থেকে দেখলে মনে হবে এক একটি দ্বীপ। এ ৬ কিলোমিটার রাস্তা পাকাকরণ করা হলে- সদর উপজেলাসহ জেলার মান্দা উপজেলার ও মহাদেবপুর উপজেলার কয়েকটি গ্রামসহ প্রায় লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের সুবিধা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বন্যার সময় গ্রামগুলোর যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নৌকা। ব্রিজ আছে কিন্তু রাস্তা নাই। রাস্তা হলে অনেক উপকার হতো। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে দ্রুত বোরো ধান সংগ্রহ করা যেত। এমনকি ফসলের চাষ ও পরিচর্যাও করা যেত সহজেই। শুধু যাতায়াত বিড়ম্বনার জন্য ফসল অনেকটা কম হচ্ছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা হলে বোরো চাষাবাদ করতে সহজ হয়। এমনকি আরো কয়েক শ’ টন ধান বেশি উৎপাদন হবে বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা। আর ফসলের উৎপাদনও হতো দ্বিগুণ।

ভীমপুর গ্রামের কৃষক খলিলুর রহমান সরদার বলেন, হাজার হাজার বিঘা জমি রয়েছে বারোমাসা বিলে। ধান কাটার সময় হঠাৎ করে বৃষ্টি হলে ফসল ডুবে যায়। তখন ধান কাটা ও জমি থেকে উঠানো নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় কৃষকদের।

নওগাঁ সদর উপজেলা স্থানীয় সরকার (এলজিইডি) প্রকৌশলী ইমতিয়াজ জাহিরুল হক বলেন, ওই রাস্তা সরস্কারে ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকার একটা প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসার পর রাস্তাটি সংস্কার করা হবে। নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, ওই রাস্তাটি এলাকাবাসীর জন্য খুবই জরুরি। রাস্তা করা হলে- বিশেষ করে কৃষি কাজের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। প্রতি বছরই কৃষকদের ফসল নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আলোচনা করেছি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন