ঢাকা, বুধবার , ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ছুটির দিনে মেলায় করদাতাদের উৎসব

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

জমে উঠেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলা। রাজধানীর পাশাপাশি বিভাগীয় শহরেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে। গতকাল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাব প্রাঙ্গণে কর মেলায় রীতিমতো উৎসবে রুপ নেয়। সকালের দিকে করদাতাদের ভিড় কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এ সংখ্যা। সহজেই সেবা পাওয়ায় খুশি করদাতারাও।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, মেলার দ্বিতীয় দিনে কর আদায় হয়েছে ৪৭৯ কোটি ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৯৭ টাকা। সেবা গ্রহণ করেছেন দুই লাখ ৬৮ হাজার ৬৮৪ জন, রিটার্ন দাখিল করেছেন, ৭৩ হাজার ৮৪৩ জন এবং নতুন ই-টিআইন নিবন্ধন করেছেন তিন হাজার ৬০৬ জন। আর মেলার দুই দিন মিলে কর আদায় হয়েছে ৮০২ কোটি ২০ লাখ ২২ হাজার ৬৮২ টাকা। সেবা গ্রহণ করেছেন চার লাখ চার হাজার ৪৪২ জন, রিটার্ন দাখিল করেছেন এক লাখ ৩৭ হাজার ১১৫ জন এবং নতুন ই-টিআইন নিবন্ধন করেছেন সাত হাজার ৯৬৮ জন।
গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, গতকাল ছুটির দিন শুক্রবারে আয়কর মেলায় যেন ¯্রােত নামে। সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আয়কর দিতে দেখা যায় করদাতাদের। সব কটি প্রবেশ পথ ধরেই ভেতরে প্রবেশ করছেন করদাতা ও সেবাপ্রার্থীরা। প্রথমে হেল্পডেস্কে যাচ্ছেন। তারপর দরকারি সব ফরম পূরণ শেষে কর অঞ্চলভেদে বিভিন্ন বুথে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন।
করদাতাদের দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে রিটার্ন জমা দিতে হচ্ছে। রিটার্ন জমা দেওয়ার পাশাপাশি কর শনাক্তকরণ নম্বর (ই-টিআইএন) নিতেও মেলায় ভিড় করছেন করদাতারা। করদাতা ও সেবাপ্রার্থীদের উপচেপড়া ভিড়ে এক প্রকার মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে মেলা প্রাঙ্গণ।
দ্বিতীয় দিনে মেলা শুরুর আগেই করদাতা ও সেবাপ্রার্থীরা মেলা প্রাঙ্গণে আসতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে করদাতা ও সেবাপ্রার্থীদের ভিড়। বেশি ভিড় দেখা গেছে হেল্প ডেস্ক ও রিটার্ন জমা দেওয়ার বুথে।
মেলার আয়োজক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ছুটির দিন হওয়ায় করের আওতাধীন সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তারা মেলায় আসছেন। আয়কর দিচ্ছেন। যে কারণে সকাল থেকে ভিড় বেশি। বেলা গড়ালে এ ভিড় আরও কয়েক গুণ হয়।
আয়কর দিতে আসা বাংলাদেশ হোন্ডা প্রাইভেট লিমিটেডের মানবসম্পদ ও প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তা আখতারুজ্জামান চৌধুরী মাসুদ বলেন, এখানে আজ অনেক ভিড়। তবে আগে থেকে আয়কর দেবার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো জানা থাকায় সহজেই বুথে আসতে পারছি। তবুও লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। সর্বোচ্চ আধাঘণ্টার মধ্যে আশা করি আয়কর দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারব। মেলা সংশ্লিষ্টরা অনেক হেল্পফুল। গত বছরের তুলনায় এবার সময়ও কম লাগছে। তবে হেল্প ডেস্কের সবাই পারদর্শী নয় বলে মনে হয়েছে। অন্যদিকে একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের কোয়ালিটি কন্ট্রোল বিভাগের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘণ্টাখানেক হলো আয়কর মেলার লাইনে আছি। তবে খারাপ লাগছে না। এখানে আমার মতো আরও অনেকেই আয়কর দিতে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। বড় বিষয় হচ্ছে, আমি কর দিচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ে আয়কর দিতে গেলে কাগজপত্রের জটিলতা, কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা, বারবার যাওয়া-আসাসহ নানা ধরনের ঝামেলায় পড়তে হয় করদাতাদের। ইচ্ছা থাকলেও এসব ঝামেলার কারণে অনেকেই আয়কর দিতে যান না। কিন্তু আয়কর মেলায় কাগজপত্রের সেবা, কর্মকর্তাদের সহযোগিতা, ব্যাংক সুবিধাসহ সবধরনের সুবিধা একসঙ্গে মেলে। তাই আয়কর মেলাতেই আয়কর দিতে উৎসাহী হয়ে উঠেছেন করদাতারা।
মেলার দ্বিতীয় দিন আয়কর দিতে এসেছিলেন সরকারি কর্মচারী মো. নঈম জাহাঙ্গীর। তিনি বলেন, আমি নিয়মিত আয়কর দিই। গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে নিয়মিত আয়কর দিচ্ছি। মেলাতে আয়কর দিতে কিছুটা সুবিধা। এখানে একসঙ্গে সবগুলো সেবা পাওয়া যায়। যেমন ব্যাংক, টাকা জমা দেয়া কিংবা কারও কোনো সহযোগিতা লাগলে পাওয়া যায়। ফটোকপিও পাওয়া যায়। তাই মেলাতেই আয়কর দিই।
মেলা ছাড়া ফরম পূরণের সময় অনেক ঝামেলায় পড়তে হয় উল্লেখ করে আবু নোমান বলেন, মেলা ছাড়া আয়কর দিতে গেলে যারা পূরণ করে, তাদের কাছে যাওয়া লাগতো। নানা ধরনের অসুবিধা হতো। আমরা অনেক কিছুই বুঝি। কিন্তু যেটা বুঝতে পারছি না, জিজ্ঞাসা করলেই তারা সেটা বলে দিচ্ছেন। মেলা ছাড়া এই সুবিধা পাওয়া যায় না।
এদিকে গতকাল অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এনডিসি আয়কর মেলার বিভিন্ন স্টল ও বুথ ঘুরে দেখেন। মেলায় করদাতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অভিভূত হয়ে চেয়ারম্যান বলেন, মেলায় করদাতাদের উপস্থিতি দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষের আগ্রহের পরিমাণ ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। উৎসবের আমেজে মানুষ দলে দলে আয়কর মেলায় রিটার্ন জমা দিচ্ছেন। কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই নির্ভয়ে ও স্বাচ্ছন্দ্যে রিটার্ন জমা দিয়ে রশিদ নিচ্ছেন। বিশেষ করে নারী করদাতাদের আজকের মেলাতে উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যণীয়। এসময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আয়কর দিতে গিয়ে কেউ যেন কোনো প্রকার ভয়-ভীতির সম্মূখীন না হন, সে বিষয়ে সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। তবেই আশানুরূপভাবে করদাতার সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে রাজস্বের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে তা অর্জনের জন্য আমরা নিরলস প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা তার জন্য নিজেরাসহ সাধারণ মানুষকেও মটিভেট করছি। পাশাপাশি যারা করের আওতার বাহিরে আছেন, তাদেরকে করনেটে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আমরা আশা করছি, আগামী দুই থেকে তিন বছরে রাজস্ব আহরণে আমূল পরিবর্তন আসবে।
উল্লেখ্য, এবার রাজধানীসহ সব বিভাগীয় শহরে সাতদিন, জেলা শহরগুলোয় চার দিন, ৪৮ উপজেলায় ২ দিন এবং ৮ উপজেলায় দিনব্যাপী আয়কর মেলার আয়োজন করেছে এনবিআর। সব মিলিয়ে দেশের ১২০ জায়গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে আয়কর মেলা। মেলা চলছে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। সপ্তাহব্যাপী মেলার পর্দা নামবে আগামী ২০ নভেম্বর।##

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন