ঢাকা, শনিবার , ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ঝুঁকিপূর্ণ রেলপথ

সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, নিয়মিত তদারকি মেরামতের অভাব ও জনবল সঙ্কট দায়ী

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০১ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনার তিন দিনের মাথায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আবার দুর্ঘটনায় পড়ে রংপুর এক্সপ্রেস। প্রথম দুর্ঘটনার জন্য প্রাথমিকভাবে ট্রেন চালককে দায়ী করা হলেও পরেরটার জন্য অব্যবস্থাপনাই দায়ী। দু’টি দুর্ঘটনার পরপরই রেলওয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক দুর্ঘটনা ঘটায় ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, দুর্ঘটনা দুর্ঘটনাই। ভবিষ্যতে যাতে আর এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য সারাদেশের রেলকর্মীদের সতর্ক করা হয়েছে।
রেলওয়ের তথ্য মতে, সারাদেশে ট্রেন লাইনচ্যুতি ঘটনার ৭৫ শতাংশই ঘটে রেললাইনের কারণে। রেললাইনের প্যান্ডেল, ক্লিপ, ফিশপ্লেট ও নাট-বল্টু চুরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এর সাথে সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ রেল সেতু রয়েছে চারশ’টি। রেলওয়ের সংশ্লিষ্টদের অবহেলা, নিয়মিত তদারকি ও মেরামতের অভাবে ট্রেন চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এজন্য জনবল সঙ্কটকেও দায়ী করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে রেলওয়ের দুই অঞ্চলের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে অর্ধেক জনবল দিয়ে। অথচ প্রতি বছরই নতুন নতুন ট্রেন সার্ভিস চালু হচ্ছে। কিন্তু নিয়োগ হচ্ছে না কোনো কর্মী। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ৪৭ শতাংশ কম কর্মী নিয়েই কার্যক্রম চালাচ্ছে রেলের পূর্ব বিভাগ। এতে যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে পিছিয়ে পড়ছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ ওই রেল অঞ্চল। রেলের পূর্বাঞ্চলে পরিবহন বিভাগের জন্য অনুমোদিত জনবলের সংখ্যা ২ হাজার ৫৩৭ জন। কিন্তু তার বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩৬৪ জন। অর্থাৎ বিভাগটিতে লোকবলের ঘাটতি রয়েছে ১ হাজার ১৭৩ জন, যা মোট অনুমোদিত জনবলের ৪৬ দশমিক ২৪ শতাংশ। তার মধ্যে ২০২০ সালের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে অবসর প্রস্তুতি ছুটিতে যাবেন আরো ৩৫৭ জন রেলকর্মী। তাতে বিভাগটিতে ঘাটতি লোকবল ৬০ দশমিক ৩১ শতাংশে উন্নীত হবে, যা রেলের সুষ্ঠু ও নিরাপদ সেবা প্রদানে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই অবস্থা পশ্চিমাঞ্চলেও।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রেলসেবায় পরিবহন কর্মীদের ভূমিকাই প্রধান। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক কর্মী দিয়ে ওই সেবার মান কোনোভাবেই বাড়ানো সম্ভব নয়। সরাসরি পরিবহনের সাথে যুক্ত কাজগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় রেলকর্মীদের পর্যাপ্ত বিশ্রামেরও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু কর্মী সঙ্কটের কারণে অধিকাংশ সময়ই বর্তমান কর্মীদের ওভারটাইম করতে হচ্ছে। তাতে রেলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি সেবার মানেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।
চলতি বছর ২৩ জুন ঢাকা-সিলেট রুটের কুলাউড়ায় ঘটে যাওয়া ‘ভয়াবহ’ ট্রেন দুর্ঘটনার পর একে একে বেরিয়ে আসছে ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইনের চিত্র। এর পরপরই শুরু হয় রেললাইন মেরামতের কাজ। ইতোমধ্যে ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেট থেকে আখাউড়া পর্যন্ত ১৩৫ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঢাকা থেকে টঙ্গী হয়ে জয়দেবপুর পর্যন্তও রেললাইন মেরামতের কাজ চলছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দেশে ২ হাজার ৯২৯ কিলোমিটার রেলপথে বছরে প্রায় ৫ লাখ পিস ক্লিপ চুরি হচ্ছে, যার বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া পরিত্যক্ত রেললাইন, রেলবিট, লেভেল ক্রসিংয়ের রেল, ফিশপ্লেট, ক্লিপ, নাট-বল্টুও চুরি হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। চুরি যাওয়া এসব যন্ত্রাংশ তদারকির পর দ্রæত লাগানোর নিয়ম থাকলেও বছরের পর বছর তা লাগানো হচ্ছে না। প্রতি মাসে কমপক্ষে একবার রেলওয়ে পরিদর্শক (জিআইবিআর) লাইন পরিদর্শনের কথা থাকলেও তা মোটেও পালন করা হয় না। এমনও ঘটনা আছে, কোনো কোনো সেকশন বছরে একবারও পরিদর্শন করা হয় না। এ ছাড়া ক্লিপ, ফিশপ্লেট, নাট-বল্টু সাপ্লাই ও প্রতিস্থাপনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কংক্রিট ¯িøপারের সঙ্গে লাইন আটকে রাখা প্যান্ডেল ক্লিপসহ যন্ত্রাংশ রেলপথের অপরিহার্য উপাদান। গুরুত্বপূর্ণ এসব যন্ত্রাংশ প্রতিস্থাপন ও সাপ্লাইয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ট্রেন লাইনচ্যুতসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। এর ফলে সিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রী দুর্ভোগের পাশাপাশি এক একটি লাইনচ্যুত ট্রেন উদ্ধারে ২ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার ওপরে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। দুর্ঘটনায় সিডিউল বিপর্যয়ের কারণে ট্রেন বাতিলের জন্যও লোকসান গুনতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
গত বৃহস্পতিবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় সংঘটিত দুর্ঘটনার জন্য রেললাইনের অপারেশন সিস্টেমকে দায়ী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে যে স্থানটিতে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে বহু আগে থেকেই রেললাইনের জয়েন্টে সমস্যা ছিল। ট্রেন চালকরা জানিয়েছেন, উল্লাপাড়ার ওই ফেসিং পয়েন্ট অতিক্রমকালে ইঞ্জিন প্রবল ঝাঁকুনি খেত। পাকশি কন্ট্রোলকে বিষয়টি কয়েকবার জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
রেল সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার ওই স্থানে রেললাইন সংস্কারের কাজ চলছিল। কাজ চলমান অবস্থায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি উল্লাপাড়া স্টেশনে প্রবেশের আগে ফেসিং পয়েন্টে অতিক্রমকালে ট্রেনের বগি প্রথমে লাইনচ্যুত হয়। চালক বিষয়টি আঁচ করতে পেরে ইমার্জেন্সি ব্রেক করার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে চলন্ত বগিগুলো ইঞ্জিনের উপরে আছড়ে পড়ে ইঞ্জিন উল্টে যায়। একই সাথে ট্রেনের পাওয়ার কারে আগুন লাগে। সে আগুন গিয়ে প্রথমে ইঞ্জিনে ও পরে বগিতে লাগে।
এ ঘটনার জন্য শুরু থেকেই রেলের পয়েন্টম্যানের ভুল বলে ধারণা করছে রেল কর্তৃপক্ষ। প্রশ্ন হলো, রেললাইন সংস্কার অবস্থায় কোনো ট্রেন সেই লাইন অতিক্রম করলে চালককে আগে থেকেই ‘সাবধানে চলাচল’ করার সতর্কপত্র দেয়ার কথা। রংপুর এক্সপ্রেসের চালককে সেই সতর্কপত্র দেয়া হয়নি; বরং কন্ট্রোল থেকে তাকে থ্রু পাসের সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যে আহত চালকের সাথে কথা বলে রেল কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে উল্লাপাড়ার ফেসিং পয়েন্ট অতিক্রম করার সময় রংপুর এক্সপ্রেসের গতিবেগ ছিল ৬৬ কিলোমিটার। অথচ ওই স্থানে ট্রেনের নির্ধারিত গতিবেগ কমপক্ষে ৭৫ কিলোমিটার। সুতরাং চালকের কোনো ভুল ছিল না তা প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় রংপুর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের কথা শুনে জানা গেছে, ঢাকা থেকে রওনা হওয়া রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেসের দুই নম্বর লাইন দিয়ে উল্লাপাড়া রেলস্টেশনে ঢোকার কথা ছিল। কিন্তু দায়িত্বরত পয়েন্টম্যান এক নম্বর লাইনে সিগন্যাল দিয়ে দেন। এতে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয় এবং ইঞ্জিনের ট্যাংক ফেটে বগিতে আগুন লেগে যায়। সুতরাং প্রাথমিক তদন্তে সিগন্যাল ভুলের কারণে এবং দায়িত্বরত পয়েন্টম্যানের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে। পুরোপুরি তদন্ত শেষে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
রেল সূত্র জানায়, যেসব ওয়েম্যান উল্লাপাড়ায় রেললাইনের মেরামতের কাজ করছিল তাদেরও ভুল থাকতে পারে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, খালাসি আরিফুল ইসলাম এবং মিস্ত্রি আবদুর রাজ্জাক ও মকবুল হোসেন।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রেন দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ট্রেনের চালকদের গাফিলতি পাওয়া গেছে। এজন্য অভিযুক্ত ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের লোকো মাস্টার (এলএম) তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকো মাস্টার (এএলএম) অপু দে ও গার্ড আবদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। অভিযুক্ত লোকো মাস্টারদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুর্ঘটনাস্থলের আগে বাইরের (আউটার সিগন্যাল) মাত্র কয়েক সেকেন্ড দেখা যায়। ডাবল লাইন কাজের জন্য পাথর স্ত‚প করে রাখায় সিগন্যাল ঠিকমতো দেখা যায় না। তাছাড়া মান্দাবাগে চট্টগ্রামগামী ট্রেন ক্রস করবে, সেটা তূর্ণা নিশীথা এক্সপ্রেসের চালক ও গার্ডকে ফোনে জানানো হয়নি।
রেলের হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ বছরে তিন হাজার ৪৮৬টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। যাতে প্রায় চারশ’ যাত্রীর প্রাণহানি ঘটেছে। এসব ঘটনার পর একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয় ও কিছু সুপারিশও করে। কিন্তু সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, নিলে হয়তো ট্রেন দুর্ঘটনা কম হতো। তবে বেশির ভাগ দুর্ঘটনার জন্য ট্রেনচালক, গার্ড ও স্টেশন মাস্টারকে দায়ী করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর পর ঘটে যাওয়া এ দুটি দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টেশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি স্পষ্ট। মাঠপর্যায়ের অভিযুক্ত কর্মকর্তারা যেমন দায় এড়াতে পারে না, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারাও দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। চালকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের অভাব, অদক্ষ কর্মচারী, রেললাইন সংস্কার না হওয়া ও দুর্বল সিগন্যাল ব্যবস্থার ফলে ঘটছে এ ধরনের দুর্ঘটনা।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক মহাপরিচালক আবু তাহের বলেন, রেল একটি টেকনিক্যাল বিষয়। খুব সুক্ষভাবে চলাচল করে। সামান্য ত্রুটির কারণে ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। পরপর দু’টি রেল দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর বিষয়টি সবাইকে নাড়া দিয়েছে। কেন এবং কার ভুলে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা খুঁজে বের করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক কাজী সাইফুল নেওয়াজ বলেন, রেল সেক্টরে এখন আধুনিক প্রযুক্তি চলে এসেছে। কোনো লোকো মাস্টার যদি সিগন্যাল দেখতে না পায়, তারপরও প্রযুক্তির মাধ্যমে অটোমেটিকভাবে ট্রেনকে দাঁড় করানো সম্ভব। সুতরাং লোকো মাস্টারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ট্রেনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। কারণ একটি ট্রেনে হাজার হাজার যাত্রী থাকে। তিনি বলেন, রেল লাইনের নিচে মাটি ও পাথর থাকে না। রেল ট্র্যাকের কানেকশন পয়েন্টগুলোতে সমস্যা থাকে। এগুলো মেনটেন্যান্সের অভাবে ট্রেন লাইনচ্যুত হয় এবং বড় বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। বিদেশ থেকে কোচ আমদানি করার সময় রেল কর্তৃপক্ষের খেয়াল রাখতে হবে অগ্নিনিরোধক মেটেরিয়াল সমৃদ্ধ কোচ নিতে হবে। তাহলে আগুন দ্রুত লাগবে না। তিনি বলেন, রেল সেক্টরে নিয়মিত ইনস্পেকশন হওয়া দরকার। এটা করতে হবে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ানদের। নিয়মিত অডিট করে সমস্যা সমাধান করতে হবে। তাহলে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমে আসবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন