ঢাকা, সোমবার , ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০১ পৌষ ১৪২৬, ১৮ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

৫ অক্টোবর পিটিয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

গত ৫ অক্টোবর শেরে বাংলা হলের গেস্টরুমে (অতিথিকক্ষে) অভিযুক্ত আসামিদের কয়েকজন সভা করেন। সেই সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয় নেয়া হয় আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করার। এর পরদিন ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে আবরারকে হত্যা করা হয়। আবরারের বিরুদ্ধে শিবির করার ‘তথ্যের’ ভিত্তিতে তাকে নিষ্ঠুর ও মির্মভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। ডিবি দেয়া চার্জশীটে এসব কথা বলা হয়েছে। আবরার হত্যাকাÐের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গত ১৩ নভেম্বর বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ২৫ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট জমা দেয় পুলিশ। গত ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে আবরারকে হত্যা করা হয়। পরে তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান ওরফে রাসেলসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন। আবরার বুয়েটের ১৭ তম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পরস্পর যোগসাজশে পরস্পরের সহায়তায় শিবির সন্দেহে আবরারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে নির্মমভাবে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। চার্জশীটে বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যার ‘মূল হোতা’ হিসেবে শেরে বাংলা হলে আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমানকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তদন্ত প্রতিবেদন বলা হয়েছে, আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ডে মিজান মূল হোতা এবং সূচনাকারী হিসেবে চিহ্নিত। আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমানই বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান ওরফে রবিনকে বলেছিলেন, আবরার ফাহাদকে তার শিবির বলে সন্দেহ হয়। চার্জশীটে উঠে এসেছে, কতটা পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতন করে আবরারকে হত্যা করা হয়। কে কখন কীভাবে আবরারকে নির্যাতন করেছে, কার কী ভূমিকা ছিল, তার বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া আছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ক্রিকেট স্টাম্প, মোটা দড়ি দিয়ে নির্যাতন করার একপর্যায়ে আবরার ফাহাদ বমি ও প্রস্রাব করে ফেলেন। এরপর তাকে হলের বাথরুমে নিয়ে যাওয়া হয়। বদলানো হয় তার জামা-কাপড়।

মিজানুরের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মেহেদি হাসান ওরফে রবিন এই বিষয়টি শেরেবাংলা হল ছাত্রলীগের নিজস্ব ফেসবুক মেসেঞ্জারে জানান। ৪ অক্টোবর শেরেবাংলা হলের ক্যানটিনে মেহেদি হাসান ওরফে রবিন এবং ইশতিয়াক আহমেদ ওরফে মুন্নার নেতৃত্বে অমিত সাহা, ইফতি মোশাররফ সকাল, আকাশ হোসেন, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মনির, মিফতাহুল ইসলাম জীয়নসহ অন্য আসামিরা মিটিং করেন। এ সময় আবরার তার কক্ষে আছেন কিনা তা জানতে একাধিক সহযোগীকে পাঠিয়ে খোঁজ নেয়া হয়। কিন্তু আবরার সেদিন তার কক্ষে ছিলেন না। ছিলেন কুষ্টিয়ায়, নিজ বাড়িতে। পরদিন ৫ অক্টোবর মনিরুজ্জামান মনিরের নেতৃত্বে আসামি হোসেন মোহাম্মাদ তোহা, আকাশ হোসেন, মাজেদুর রহমান মাজেদ, মোয়াজ আবু হুরায়রা সহ সকলেই গেস্টরুমে একত্রিত হয়ে মিটিং করেন। সেই মিটিংয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করার সিদ্ধান্ত হয়।

তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, আবরার ফাহাদকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে নেয়ার পর ইফতি মোশাররফ অন্যদের বলেন, তোরা এবার আবরারের কাছ থেকে তথ্য বের কর। বুয়েটে কে-কে শিবির করে। তখন মোয়াজ আবু হোরায়রা ও অমর্ত্য আবরারের মুমূর্ষু অবস্থা দেখে মেহেদি হাসান ওরফে রবিনকে জানান, আবরারকে হাসপাতালে নিতে হবে। এই কথা শোনার পর মেহেদি হাসান ওরফে রবিন বলেন, ও নাটক করছে। শিবির চেনস না। শিবির চেনা কষ্ট। রাত আড়াইটার সময় ইফতি মোশাররফ, মুজাহিদ, তাবাখখারুল ও তোহা মিলে আবরারকে তোশকে করে হলের দোতালার সিঁড়িতে রাখেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (15)
Mosharraf Hosan ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৭ এএম says : 0
জানোয়ারদের প্রকাশ্য বিচার করা দরকার ছিল।
Total Reply(0)
mohammad rahman ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৭ এএম says : 0
যে রাজনীতি এদের মনে জিঘাংসার সৃষটি করে সে রাজনীতির নির্মূলই হবে আবরার হত্যার প্রতিশোধ
Total Reply(0)
Abinash ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৮ এএম says : 0
এদের কি বুদ্ধিমান প্রাণি বলা যায়! একটা মানুষকে পিটিয়ে মারার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সভা করে! যেন ওরা সর্বশক্তিমান! আইন ওদের স্পর্শ করতে পারবে না বা ঘটনার কথা কেউ জানতে পারবে না।
Total Reply(0)
S K Suman ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৮ এএম says : 0
এই ২৫ জন ...কে এভাবে মারা যায় না?? এদের ...এদের কোনো শিক্ষাই কি দেয় নাই?? ছি ছি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়েও কিছুই শিখতে পারে নাই। আমাদের সরকারের নিকট আকুল আবেদন এই ২৫ ....দের আবরারের মতন করে মেরে তারপর জন সম্মুখে ফাঁসি দিন। সবাই যেনো একটা শিক্ষা পায় আর কেউ এরকম ধৃষ্টতা যেনো দেখাতে না পারে।
Total Reply(0)
Sohel S.parvez ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৮ এএম says : 0
এই না হলে বাংলাদেশের পুলিশ!!এটা অবশ্যই পরিকল্পিত খুন নয়।পরিকল্পিত খুনে এতো মানুষ জড়িত থাকে না।পেটাতে পেটাতে বেকায়দায় লেগে আবরার মারা গেছে।এর বিচার হতেই হবে।তবে ইচ্ছাকৃত খুন এটা নয়।খুন করার জন্য তারা মারে নি,যে কেউ বলবে এই কথা।গেস্ট রুমে বসে হত্যার সিদ্ধান্ত হয় এটা একটা ফালতু কথা।সব মামলায় পুলিশ এইসব করে।
Total Reply(2)
Yourchoice51 ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ৯:২৪ এএম says : 0
আসামিদের পক্ষে ওকালতি এখনই শুরু করেছো? ওরা ........র অধম; ওদেরকে কঠোর শাস্তি থেকে যারা বাঁচাতে চায়, তারাও ওদের মতো।
Muhammad Saidur Rahman ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:১৪ পিএম says : 0
ও তাই নাকি ? বেকায়দায় লেগে মারা গেছে । তাইলে তুমি জান কোথায় বেকায়দায় লাগছে । তোরেওতো মামলায় ঢোকান উচিত।
Md.Abul Basher ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৯ এএম says : 0
মানুষ সৃষ্টির সেরা।এটা ১০০% সত্য। তবে যারা আবরারকে পিটিয়ে মারল তারা দেশের মেধাবী ও সূর্য সন্তান। ওরাও কি সৃষ্টির সেরা??ওরা কি মানুষ??
Total Reply(0)
আশরাফ ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৯ এএম says : 0
বিচার কিন্তু ঠিকমত করতে হবে। নইলে একসময় আসবে যখন ছাত্রলীগ সন্দেহে কিন্তু পিটিয়ে মেরে ফেলা যাবে, নাকি বলেন ছাত্রলীগের বন্ধুরা?
Total Reply(0)
Monzur ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৯ এএম says : 0
এখানে কেবল একজনকে হোতা হিসাবে চিহ্নিত করার পেছনে উদ্দেশ্য কি? যারা পিটিয়ে হত্যা করেছে তারা সবাই সমভাবে দোষী। সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানাই।
Total Reply(1)
Yourchoice51 ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ৯:২৬ এএম says : 0
ঠিক বলেছেন। এধরণের বীভৎস কাজ কেউ একা করতে পারতো না।
abdul moyeen ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১:০০ এএম says : 0
আহারে, ছেলেটি কে কি বীভৎস ভাবে হত্যা করা হলো। ছাত্ররা এভাবে আর একজন ছাত্র কে এতক্ষন ধরে পিটিয়ে মারতে পারে এটা ভাবলে গা শিউরে উঠে। এই ঘটনা পড়ে বাবা মায়ের হৃদয় যে ব্যথায় আকুল হয়ে যায় তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন। বাবা মা যে ছেলেকে কত আদোরে বড় করেছে তাকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হল আমাদের মনুষ্যত্ব কোথায় গিয়েছে। হত্যাকারীরা কি ভাবে নাই যে তাদের কে এভাবে মারলে তাদের বাবা - মায়েরা কিভাবে কষ্ট পেত? এই হত্যাকারীদের এমন বিচার হওয়া উচিত যা দেখে এ ধরণের কাজ থেকে যেন সবাই বিরত থাকে।
Total Reply(0)
Shumon Miah ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১:০০ এএম says : 0
যে স্ট্যাটাসের কারণে শিবির বানানো হলো অভিযোগপত্রে তার কোনো উল্লেখই নাই!" বলা যায় গোড়া-ই গলদ?? এই হত্যাকান্ডের বিচার হবেতো?? নাকি উদুরপিন্ডি বুদুর ঘাড়ে চাপিয়ে দায় সারা কাজ হবে?? বিচারহীনতার সংস্কৃতি চালু হলে,, শিবির সন্দেহে ছাত্রলীগ হত্যাকান্ড সংঘঠিত করবে।। নাহয় ক্ষমতার পটপরিবর্তনেে ঘটবে উল্টোটা।। আমরা সাধারণ জনগণ ন্যায় বিচার পাবো কিনা???
Total Reply(0)
taijul Islam ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ২:০৬ পিএম says : 0
........ .......der fasi ta mar uchit.......
Total Reply(0)
M ismail Kabir Ahmed ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৪৪ পিএম says : 0
jei rokom pitiye hotta korece shie rokom tader hotta kora niyai bicar hoy
Total Reply(0)
Jamal ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ৭:৪১ এএম says : 0
তারা এতই confidence ছিল যে সভা করে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় আইন প্রসাশন তাদের কিছুই করতে পারবেনা কারন তারা রোলিং পাটির লোক।
Total Reply(0)
HABIB ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১০:৪৩ এএম says : 0
Kill all the offender those who was involved killing Abrar Fahad. they should punish like Abrar killing style..
Total Reply(0)
Anwar Hossain ১৬ নভেম্বর, ২০১৯, ১০:৪৯ এএম says : 0
এই ২৫ জন ...কে এভাবে মারা যায় না?? এদের ...এদের কোনো শিক্ষাই কি দেয় নাই?? ছি ছি দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পড়েও কিছুই শিখতে পারে নাই। আমাদের সরকারের নিকট আকুল আবেদন এই ২৫ ....দের আবরারের মতন করে মেরে তারপর জন সম্মুখে ফাঁসি দিন। সবাই যেনো একটা শিক্ষা পায় আর কেউ এরকম ধৃষ্টতা যেনো দেখাতে না পারে। আহারে, ছেলেটি কে কি বীভৎস ভাবে হত্যা করা হলো। ছাত্ররা এভাবে আর একজন ছাত্র কে এতক্ষন ধরে পিটিয়ে মারতে পারে এটা ভাবলে গা শিউরে উঠে। এই ঘটনা পড়ে বাবা মায়ের হৃদয় যে ব্যথায় আকুল হয়ে যায় তা কি কেউ ভেবে দেখেছেন। বাবা মা যে ছেলেকে কত আদোরে বড় করেছে তাকে এভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলা হল আমাদের মনুষ্যত্ব কোথায় গিয়েছে। হত্যাকারীরা কি ভাবে নাই যে তাদের কে এভাবে মারলে তাদের বাবা - মায়েরা কিভাবে কষ্ট পেত? এই হত্যাকারীদের এমন বিচার হওজানোয়ারদের প্রকাশ্য বিচার করা দরকার ছিল।
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন