ঢাকা, রোববার , ২৬ জানুয়ারী ২০২০, ১২ মাঘ ১৪২৬, ২৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বিএনপি যে চিঠি দিয়েছে তা আসলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য: তথ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৮ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:১৩ পিএম

‘বিএনপি যে বক্তব্যগুলো দিচ্ছে, চিঠি দিয়েছে, তা আসলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তাদের এই চিঠি প্রমাণ করে, তারা সমঝোতা স্মারক ও চুক্তির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের যেসব 'চুক্তি' হয়েছে সেগুলোর বিবরণী জনসম্মুখে প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দেয় বিএনপি। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এসব কথা বলেছেন।

মন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে বলবো, বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করতে। জননেত্রী শেখ হাসিনা যে সমঝোতা স্মারক সই করে এসেছেন সেগুলো প্রতিটি দেশের স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে এবং দেশকে সমৃদ্ধি করার লক্ষ্যে, এবিষয়টি বোঝার চেষ্টা করতে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তির (এগ্রিমেন্ট) মধ্যে পার্থক্য বুঝতে যে বিএনপি ব্যর্থ হয়েছে, এই চিঠিতে তা স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যে ভারত সফরের পর রাষ্ট্রপতিকে, সংসদে ও সংবাদ সম্মেলনে তার ভারত সফরে করা সমঝোতা স্মারক সইসহ সব বিষয় ব্যাখ্যা দিয়েছেন- সেটি জানার পরও বিএনপির এই চিঠি অন্তঃসারশূণ্য ও ভারতবিরোধী স্ট্যান্টবাজি ছাড়া কিছু না। বিএনপি যে ভারতবিরোধী রাজনীতি থেকে বের হয়ে আসেনি সেটি বোঝানোর জন্যই তারা মূলত এ চিঠিটি দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে ঢাকায় সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
এদিকে খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দেওয়া চিঠিতে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে একটি শব্দও না থাকায় প্রশ্ন জাগে- তারা আসলেই তার মুক্তি চায় কি না।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আরেকটি বিষয়- এলপিজি গ্যাস আমাদের দেশে আমরা উৎপাদন করি না, বিদেশ থেকে আসে। অপরিশোধিত তেল পরিশোধনে উপজাত হিসেবে কিছু এলপিজি এবং দেশের গ্যাস ফিল্ড থেকে তেল উৎপাদনের সময়ও উপজাত হিসেবে সামান্য কিছু এলপিজি পাওয়া যায়। মূলত আমাদের দেশের পুরো বাজারটা হচ্ছে আমদানি নির্ভর এলপিজি গ্যাসের। সেই এলপিজিতে 'ভ্যালু অ্যাড' করে ভারতে রপ্তানির জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বিদেশ থেকে কাপড় এনে রেডিমেড গামেন্টস পণ্য এক্সপোর্ট করে আমাদের অর্থনীতিতে যেমন প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তেমনি আমাদের 'এক্সপোর্ট বাস্কেটে' আরেকটি এরকম পণ্য যুক্ত হয়েছে- এলপিজি। এটি আমাদের অর্থনীতির জন্য সহায়ক। এটি তারা ভালোই বোঝে। এরপরও বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য তারা (বিএনপি) এই কথাগুলো বলে।

সমুদ্রবন্দরের বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য আগের চুক্তির আলোকে স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিউর সই হয়েছে। এই দু’টি বন্দর তারা যদি ব্যবহার করে, তাহলে আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধতর হয়। কারণ, এই বন্দর ব্যবহার ও বন্দর থেকে মালামাল পরিবহনের জন্য তারা রেভিনিউ দেবে। আমাদের দেশের ব্যবসায়ীরা মালামাল পরিবহণের অনেক সুযোগ পাবেন। সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট থেকে শুরু করে বন্দর অনেক রেভিনিউ পাবে, এটা তো আমাদের অর্থনীতির সহায়ক। সিঙ্গাপুর তাদের বন্দর অন্য দেশগুলোকে ব্যবহার করতে দেওয়ার কারণে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হয়েছে। পৃথিবীর এরকম আরো অনেক বন্দর রয়েছে, যে গুলো ওইসব দেশ অন্য দেশগুলোকে ব্যবহার করতে দেওয়ার কারণে সমৃদ্ধ হয়েছে। এটা যে তারা (বিএনপি) বোঝেন না, তা কিন্তু নয়। তারা মূর্খ বলে আমি মনে করি না, কিন্ত তাদের বক্তব্যগুলো মূর্খের মতো।

বঙ্গোপসাগরে রাডার স্থাপন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশের ট্রলার এসে আমাদের মাছ ধরে নিয়ে যায়। এটি ধরার জন্য আমাদের কোস্টগার্ডের রাডার সিস্টেম যথেষ্ট নয়, রাডার সংকট রয়েছে। রাডার সিস্টেমকে উন্নত করার জন্য ভারত আর্থিক সহায়তা দেবে, যা নিয়ে রাডার আমরাই স্থাপন করবো। আমরা সেটা অপারেশন করবো। আমাদেরই মালিকানা। এতে করে আমাদের কোস্টগার্ড সমৃদ্ধ হবে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি হচ্ছে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়। আমাদের স্বার্থকে অবশ্যই সংরক্ষণ করতে হবে, কোনো অবস্থাতেই আমাদের স্বার্থ আদায় করার ক্ষেত্রে পিছ পা হবো না, হই না। প্রতিবেশীদের সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলতে চাই। সেই নীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী দেশ পরিচালনা করছেন। ভারতে সফরে গিয়েও সেই নীতির আলোকেই সমঝোতা স্মারক সই করেছেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন