ঢাকা, সোমবার , ২৭ জানুয়ারী ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ০১ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বিচার বিভাগে হস্তক্ষেপের শামিল

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পর্কে ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:১৫ এএম

 

‘বেগম খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন, গডফাদার, হুইল চেয়ারে আগে থেকেই আছেন’ প্রধানমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীল বলেছেন, তাঁর (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্বাধীন বিচার বিভাগ ও ডাক্তারদের হুমকী দিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই বিচারকালীন মামলায় তিনি হস্তক্ষেপ করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিচ্ছেন তা সরাসরিভাবে বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপের শামিল ও আদালত অবমাননার শামিল। তাঁর এই ধরণের বক্তব্য প্রমাণ করে যে, তিনি এবং তার সরকার চান না দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হন।

সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে বেগম জিয়ার জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মুক্তি তো করুনার ব্যপার না, এটা বেগম জিয়ার আইনগত প্রাপ্য। একজন বন্দি হিসেবে, সাধারণ নাগরিক হিসেবেও বেগম জিয়ার যে প্রাপ্য সেটিও কি তিনি পাবেন না? এই বিষয়গুলো আজকে গোটা জাতিকে শুধু বিস্মিতই নয়, ক্ষুব্ধ করেছে। দেশনেত্রী গুরুত্বর অসুস্থ, তিনি মারাত্মক রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত, প্রতিদিনই তিনি পঙ্গুত্বের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। তিনি এখনই প্রায় পঙ্গু হয়ে পড়েছেন।

তিনি বলেন, বিএসএমএমইউ যেসব চিকিৎসকদের নিয়ে বোর্ড গঠন করা হয়েছে তারা ইতোমধ্যে মতামত দিয়েছেন। বেগম জিয়া কারো সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারছেন না, বিছানা থেকেও উঠতে পারছেন না। এই মারাত্মক স্বাস্থ্যের অবনতির পরেও সরকার ক্রমাগত তার মুক্তি এবং জামিনে বাধা প্রদান করছে। এর কারণ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার জন্য। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আদালত অবমাননা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, বেগম জিয়া রাজার হালে আছেন, গডফাদার, আগে থেকেই হুইল চেয়ারে ছিলেন এখনো থাকবেন। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিএসএমএমইউ’র কর্তৃপক্ষ ও যেসব ডাক্তার বেগম জিয়ার চিকিৎসার বিষয়ে রিপোর্ট দিবেন তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধান অস্ত্র হচ্ছে ভয়ভীতি দেখানো।

তিনি বলেন, একইসাথে আবার গতকাল সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মামলার চার্জশিট দেয়া হয়েছে। একদিকে প্রধানমন্ত্রীর উক্তি ও অন্যদিকে এসকে সিনহার মামলার চার্জশিট, এই দুটি বিষয়কে মিলিয়ে আমরা পরিষ্কার করে বলতে পারি এটা সম্পূর্ণভাবে হুমকি টু ইন্ডিপেন্ডেন্ট জুডিসিয়ারি এন্ড থ্রেট টু দ্যা ডক্টরস। যাতে তারা স্বাধীনভাবে বিচার করতে না পারে, স্বাধীনভাবে রিপোর্ট দিতে না পারে।

মির্জা ফখরুল বলেন, আদালত আবারও আগামী ১২ ডিসেম্বর পুনরায় রায়ের দিন ধার্য্য করেছে। এই সিদ্ধান্তে আজকে সমগ্র জাতি শুধু হতাশই হয়নি বিক্ষুব্ধও হয়েছে। দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার কার্যক্রম যেদিন থেকে শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই আমরা অত্যন্ত বিস্ময় ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি দেশনেত্রীকে একজন সাধারণ নাগরিক মামলা হলে নিজেকে ডিফেন্ড করার জন্য যেটুকু সুযোগ সুবিধা পান বেগম খালেদা জিয়াকে সেই সুযোগ-সুবিধা দেয়া হয়নি। তাকে যে মামলায় সাজা দেয়া হয়েছে এসব মামলায় প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ি ৭ দিনের মধ্যে জামিন হওয়ার কথা। কিন্তু আজকে প্রায় ২০ মাস তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। তার প্রতি বিভিন্নভাবে অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দুইবারের বিরোধী দলীয় নেতা, ৭৪ বছর বয়সী ও দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে জামিন না দেয়াটা প্রচলিত রীতির বিরুদ্ধেই শুধু নয়, এটা তার বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণ।

বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ রিপোর্ট উপস্থাপন না করে আদালত অবমাননা করেছে অভিযোগ করে বিএনপির অন্যতম এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশনেত্রীর চিকিৎসার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টটি আদালতে দাখিলের কথা ছিল এবং সেটা স্বাক্ষরিত রিপোর্ট। আমরা মনে করি, বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ রিপোর্ট উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হওয়ায় আদালত অবমাননা করেছেন। কারণ এটা আদালতের নির্দেশের কারণে বাধ্যবাধকতা ছিল। গঠিত মেডিকেল বোর্ডের একটি প্রতিবেদনের কিছু অংশ তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ ডাক্তারা সেখানে বেগম জিয়ার ভয়াবহ শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে তার এ্যাডভান্স ট্রিটমেন্টের জন্য সুপারিশ করেছেন। ’
বেগম খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায় দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে সতর্ক করে দিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশনেত্রীর স্বাস্থ্যের ক্রমাগত অবনতি এবং চিকিৎসা না হওয়ার সমস্ত দায় দায়িত্ব অনির্বাচিত সরকার এবং সরকার প্রধানকেই গ্রহণ করতে হবে। জাতি কোনদিনই এই অন্যায়ের জন্য কখনোই কাউকে ক্ষমা করবে না।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস প্রমূখ। ###

 

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন