ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

পদ্মার ভাঙনের মুখে মসজিদ

টঙ্গীবাড়ী (মুন্সিগঞ্জ) উপজেলা সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৮ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

আগ্রাসী পদ্মার ভাঙনের কবলে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের হাইয়ারপাড় গ্রামে একটি মসজিদ। মসজিদটির নাম হাইয়ারপাড় আল-মদিনা জামে মসজিদ। আর এ মসজিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নামাজ আদায় করছেন স্থানীয় মুসল্লিরা।

গত কয়েক বছর পদ্মার খরস্রোতে তীরবর্তী টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পদ্মা পারের হাইয়ারপাড় গ্রামসহ আশপাশের প্রায় ২-৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন শুরু হয়। আর তাতেই এ মজজিদের পেছন দিকের পিলারগুলোর মাটি পদ্মার ভাঙনের কবলে বিলিন হয়ে গেলে মসজিদটা অনেকটাই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই দাড়িয়ে আছে। এখন শীত মৌসুম, তাই পদ্মার পানি কমতে শুরু করায় মসজিদটা ক্রমেই হেলে পড়ছে নদীর দিকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মার তীরবর্তী হাইয়ারপাড় গ্রামে ও আশপাশের এলাকায় আর কোনো মসজিদ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখানেই নামাজ আদায় করছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। আর মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায় মসজিদের দেয়াল, মেঝে ও পিলারগুলোতে অনেকটাই ফাটল ধরেছে মসজিদটি যে কোন মূহুর্তে ধসে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যেতে পারে।

মসজিদের মুসল্লী ও হাইয়ারপাড় গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা মো. শামসুল শেখ (৪৩) বলেন, আমরা কোনোভাবে নামাজের কাতারে দাড়াতে পারলেও রুকু ও সেজদা দিতে অনেক সমস্যা হয়, কারণ মসজিদটা সামনের দিকে প্রায় ২/৩ ফুট দেবে গেছে, যারা বয়স্ক মুসল্লী আছেন তারা অনেক সময় রুকুতে যেয়ে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।
মসজিদের ঈমাম আব্দুল হাই বলেন, এই মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করি। এখানে জুমার নামাজও হয়। কিন্তু প্রতিনিয়ত ধসে পরার শঙ্কায় থাকি। এতে করে মুসল্লী কমে আসছে। আর এখন সকালে মসজিদের মক্তবে ছোটো ছোটো ছেলে-মেয়েরা আরবি পড়তে আসে না ধসে পড়ার ভয়ে।

মজজিদ কমিটির সভাপতি আ. লতিফ হাওলাদার এ বিষয়ে বলেন, ইতোমধ্যে ইমাম সাহেবের ঘরটি একটু দূরে তৈরি করা হয়েছে। আর নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করতে গেলে যেমন অর্থের প্রয়োজন আছে তেমনই একটি জমিরও দরকার। আল্লাহ যদি চায় আমরা সকল গ্রামবাসী মিলে আবার একটা মসজিদ নির্মাণ করব ইনশাআল্লাহ।
এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মৎ হাসিনা আক্তার বললে, এর আগে মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় ভাঙন শুরু হলে বেশ কিছু বালু ভর্তি ব্যাগ মসজিদ ও আশপাশের স্থানে ফেলেছি। মসজিদ পরিদর্শন করে ওই এলাকার মুসল্লিদের নামাজ পড়ার জন্য একটা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন