ঢাকা রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১২ আশ্বিন ১৪২৭, ০৯ সফর ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

পাবনার হুরাসাগর নদীতে অবৈধ নৌবন্দর উচ্ছেদ করেছে বিআইডাব্লিউটিএ

পাবনা থেকে স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:১২ পিএম

পাবনার বেড়ায় পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির অবৈধ নৌবন্দর উচ্ছেদ করেছে বিআইডাব্লিইটিএ।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ অভিযানে বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয় হুরাসাগর-যমুনা নদীর পাড়ে বৃশালিখা বেসরকারী রাজ ঘাট নামের অবৈধ নৌবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা। এসময় পন্য খালাস করতে আসা ৯টি জাহাজ থেকে ৯জন শ্রমিককেও আটক করা হয়।
নৌ পরিবহন মন্ত্রনালয়ের উপসচিব হাবিবুর রহমান নের্তৃত্বে অভিযানে পুলিশ, র‌্যাব ও বিআইডাব্লিটিএ-এর কর্মকর্ত কর্মচারীরা অংশ নেন।
বিআইডাব্লিটিএ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে,, কোনো ধরণের র নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে, বিআইডাব্লিটিএ -এর অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ বন্দর তৈরী করে দীর্ঘদিন ধরে তা পরিচালনা করে আসছিল একটি চক্র। এতে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছিল সরকার। কয়েক দফা নোটিশ দেওয়ার পরেও তা বন্ধ না করায় অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে।
উপ-সচিব হাবিবুর রহমান জানান, গত প্রায় এক দশকেরও বেশী সময় ধরে বেড়া পৌর এলাকার ব-ৃশালিখায় হুরাসাগর নদে ছোট পরিসরের এই বন্দরে অবৈধভাবে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে মালামাল খালাস করা হচ্ছিল। বৃশালিখা ঘাটের মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরেই রাষ্ট্রায়ত্ত্ব উত্তরবঙ্গের বৃহত্তর বাঘাবাড়ী নৌবন্দর অবস্থিত। দূর-দূরান্ত থেকে আসা মালবাহী নৌযানগুলো বৃশালিখার অবৈধ ঘাটে নোঙর করায় কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল সরকার । এ কারণেই অবৈধ এই বন্দরটি উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে । অভিযানে বন্দরে ওজন যন্ত্র, অফিস কক্ষ, ৮টি ঘাট ও ৪টি সংযোগ সড়কও ধ্বংস করে দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমান আরো জানান, অভিযান চলাকালে অবৈধ বন্দরে পন্য খালাস করতে আসা নয়টি জাহাজ আটক করে ৯ জনকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের কারাদন্ড প্রদান করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ সময় নৌযান শ্রমিক ও মালিকদের অবৈধ ঘাটটি ব্যবহার না করে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব নগরবাড়ী ও বাঘাবাড়ি ঘাট ব্যবহারের নির্দেশ দেয়া হয়। অভিযান চলাকালে স্থানীয় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরে তারা বিক্ষোভ করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, বৃশালিখা ঘাটে প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার পণ্য ওঠা নামা হয়। এতে কয়েক হাজার মানুষের জীবন জীবিকা জড়িত। হঠাৎ করেই এমন উচ্ছেদে তারা কর্মহীন হয়ে পড়বেন। অন্তত: কিছুদিন সময় দেওয়া উচিত ছিল। দুপুরে অভিযান পরিদর্শনের আসেন বিআইডাব্লিটিএ -এর চেয়ারম্যান কমোডোর মাহবুবুল আলম।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের প্রচলিত আইনানুসারে কেবল মাত্র বিআইডাব্লিটিএ দেশে নৌবন্দর পরিচালনায় বৈধ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সরকার খেয়া পারাপারের জন্য ঘাট ইজারা দিতে পারেন, কিন্তু পণ্যবাহী জাহাজ নোঙর করে বৃশালিখা ঘাটে যেভাবে বন্দরের কার্যক্রম চালানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ। বৃশালিখা ঘাটের কারণে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছিল।
কোন ভাবেই আর এই অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেয়া হবে না।
উল্লেখ্য, বৃশালিখা বেসরকারী রাজ ঘাট থেকে মাত্র দশ কিলোমিটার দুরত্বে রাষ্ট্রায়ত্ত্ব বাঘাবাড়ি ঘাট। গত দশ বছরের বেশী সময় ধরে অবৈধ ঘাটে সরকারী ঘাটের চেয়ে কম টাকায় সিমেন্ট, সার, পাথরসহ বিভিন্ন পন্য ওঠা-নামার কাজ চলছিল।
পাবনা বেড়া পৌর মেয়র আব্দুল বাতেন, হুরাসাগর-যমুনা নদীর বৃ শালিখার ঘাটকে অবৈধ মানতে নারাজ । যেহেতু বৃশালিখা বেড়া পৌরসভার মধ্যে যে কারণে এখান ঘাট থেকে পৌর রাজস্ব আদায় অবৈধ নয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই এখতিয়ার রয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন