ঢাকা, সোমবার , ২৭ জানুয়ারী ২০২০, ১৩ মাঘ ১৪২৬, ০১ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ

সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ-মন্দির ভাঙচুর ঃমন্দির ভাঙচুর সাজানো দাবী প্রতিপক্ষের গ্রেফতার- ৬

কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:৩৬ পিএম

কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ীতে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ, মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ফুলবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে হামলাকারী সন্দেহে ৬জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। আটককৃতরা হলেন, ওই এলাকার মোস্তফা, ইসমাইল, মুকুল, সোবাহান, রশিদ ও শামছুল।
শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা: মাছুমা আরেফিন ও কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম।

এ ঘটনায় হরিকান্ত রায়ের বড়ভাই সুশীল চন্দ্র রায় বাদী হয়ে ২৪ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তবে গ্রেপ্তারকৃতরা অগ্নিকান্ড ও প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা সাজানো বলে দাবি করেন।

জানা যায়, উপজেলা সদরের কবিরমামুদ গ্রামের মৃত: হরেন্দ্রনাথ রায়ের ছেলে স্কুল শিক্ষক হরিকান্ত রায়ের সাথে একই গ্রামের মৃত: হানিফ উদ্দিনের ছেলে দুলাল হোসেন গং এর ৫২ শতক জমির মালিকানা নিয়ে ১৯৯৪ সাল থেকে বিরোধ চলে আসছিল। এনিয়ে দু’পক্ষে প্রায়ই হামলার ঘটনা ঘটে। গত দু’দিন আগেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল বলে জানা যায়। এরই জের ধরে শনিবার সকাল ৮টার দিকে দুলাল গং ও হরিকান্ত রায়ের লোকজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়। এ সময় উভয়পক্ষ লাঠিসোঠা দিয়ে পরস্পরের উপর হামলায় লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালিন সময়ে কে বা কাহারা মন্দিরের ঠাকুর মাটিতে ফেলে দেয়। এতে মাথার একটু অংশ ভেঙে যায়। এছাড়াও মন্দিরের দরজার সামনে খড়ে আগুন ধরে দেয়। এতে কোন ক্ষতি না হলেও বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানান অভিযোগ উঠে আসে।

স্কুল শিক্ষক হরিকান্ত রায় জানান, আমাকে মেরে ফেলার জন্য ২০/২৫জনের একটি দল আমার বাড়ীতে হামলা করে। কিন্তু বাড়ীতে প্রবেশ করতে না পেরে মন্দিরে আগুন দেয়, প্রতিমা ভাংচুর করে। আমি এই ঘটনার উপযুক্ত বিচার চাই।

অপরদিকে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মোস্তফা ও মুকুল জানান, হিন্দুবাড়ীতে হামলা বা মন্দিরে আগুন দেয়ার বিষয়ে আমরা কিছুই জানিনা। ঘটনাটি সাজানো। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে নিজেরাই এ নাটক মঞ্চস্থ করেছে।

ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থল থেকে ৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে মন্দিরের তেমন কোন ক্ষতি হয়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ মাছুমা আরেফিন জানান, বিষয়টি সাম্প্রদায়িক নয়। দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তাদের মধ্যে মামলা-মোকদ্দমা চলছে। সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জানান, আমরা কিছু ভিডিও ফুটেজ পেয়েছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সুযোগ সন্ধানী কেউ ঘটনাটি ঘটিয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন