ঢাকা, শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

খেলাধুলা

রংপুরকে হ্যাটট্রিক হারের লজ্জা দিলো কুমিল্লা

ইমরান মাহমুদ, চট্টগ্রাম থেকে | প্রকাশের সময় : ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১২:০০ এএম

খেললেন একজনই। সেই আফগান বিষ্ফোরক ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ শেহজাদের ঝড়ে চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছিল রংপুর রেঞ্জার্স। জবাবে ইনিংসে নেই কোনো ফিফটি, কেউ খেলেননি বিস্ফোরক ইনিংসও। তারপরও পাঁচে মিলে যেটুকু করলেন, বড় রান তাড়ায় দারুণ জয়ের জন্য যথেষ্ট হলো সেটুকুই। সৌম্য সরকার-ভানুকা রাজাপাকশে আনলেন উড়ন্ত শুরু। তিনে নেমে প্রয়োজনীয় রান পেলেন সাব্বির রহমান। ওভারপ্রতি দশের উপর রান নেওয়ার চাহিদায় ঝড় তুলে শেষটা করলেন ডেভিড মালান। রংপুরকে হারের বৃত্তে রেখেই জয়ে ফিরল জিতল কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স। সমান তিনটি করে ম্যাচে কুমিল্লার এটি দ্বিতীয় জয়। সিলেটের পাশাপাশি আসরে এখনও জয়শূন্য রংপুর। দু’দলের প্রথম দেখাতে রংপুরকে মাত্র ৬৮ রানে গুটিয়ে ১০৫ রানের বিশাল জয় পেয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

শেষ তিন ওভারে জিততে ৩৫ রান দরকার ছিল কুমিল্লার। লুইস গ্রেগরির ১৮ তম ওভার থেকে ১৩ রান নেয় কুমিল্লা। ডেভিড মালান, দাসুন শানাকা মুস্তাফিজের ১৯তম ওভার থেকে নেন আরও ১১ রান। শেষ ওভারে ১১ যখন রানের চাহিদা দাসুনকে হারিয়েও ৪ বলেই তুলে নেন মালান। ২৪ বলে ৪২ করে অপরাজিত থাকেন এই বাঁহাতি। এর আগে ৪০ বলে ৪৯ করে সাব্বির আর ৩৪ বলে ৪১ করে অবদান রাখেন সৌম্য।

১৮২ রান তাড়ায় নেমে আল-আমিন জুনিয়রকে টানা চার বাউন্ডারিতে শুরু সৌম্য সরকারের। আরেক পাশে ভানুকা রাজাপাকশেও খেললেন একই ভঙ্গিমায়। প্রথম ৫ ওভারেই কুমিল্লার বোর্ডে জমা ৫৪। পাওয়ার প্লের শেষ বলে রাজাপাকশে আউট হওয়ার আগে ৬১। তবে দ্বিতীয় উইকেটে কমে যায় রানের গতি। শুরুতে মেরে খেলতে থাকা সৌম্য কিছুটা স্থির হয়ে যান। ক্রিজে আসা সাব্বির রহমান সিঙ্গেল পেতেও ভুগছিলেন। এই সময়ে মুগ্ধ করেছেন তরুণ মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। বেশ ভালো গতিতে দারুণ জায়গায় বল ফেলেছেন। রান আটকে রাখার কাজ হয়েছে। পরে মিলেছে উইকেটও। ৩৪ বলে ৪১ করে সৌম্য মুগ্ধের গতির তারতম্য না বুঝে বল তুলে দেন আকাশে।

সৌম্যর আউটের পর কিছুটা গা ঝাড়া দিয়ে ওঠেন সাব্বির। বলের চেয়ে রান কম করে এগুতে থাকা সাব্বির শেষ দিকে গিয়ে কিছুটা পুষিয়ে দেন। ম্যাচটাও শেষ করে আসার সুযোগ ছিল তার। কিন্তু ৪০ বলে ৪৯ করে মোস্তাফিজের বলে থামেন সাব্বির।

এর আগে দুপুরে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়া রংপুর রেঞ্জার্সের বড় সংগ্রহের নায়ক মূলত একজনই। আফগানিস্তানের মোহাম্মদ শেহজাদ তার টিপিক্যাল তেড়েফুঁড়ে মারার অ্যাপ্রোচ নিয়ে জ্বলে উঠেছিলেন এদিন। গায়ের জোরে সীমানা ছাড়া করেছেন একের পর এক বল। আরেক ওপেনার নাঈম শেখ রান আউটে কাটা পড়লেও শুরুতে উইকেট হারানোর ধাক্কা তাই গায়ে লাগেনি রংপুরের। ২০ বলে ফিফটি করা শেহজাদ থামেন ২৭ বলে ৬১ করে। এই ভিত থেকে দুশো পেরিয়ে যেতে পারত রংপুর। কিন্তু টম অ্যাবেল, মোহাম্মদ নবি, লুইস গ্রেগরিরা থিতু হয়েও টানতে পারেননি। অন্তত আরও ১৫ রান কম থাকার মাশুল তাই গুনেছে রংপুর।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রেঞ্জার্স : ২০ ওভারে ১৮১/৮ (শেহজাদ ৬১, নাঈম ৮, আবেল ২৫, আল-আমিন ১, নবি ২৬, গ্রেগরি ২১, নাদিফ ১৫, জহুরুল ০, সানি ১৫*, মুস্তাফিজ ১*; মুজিব ২/২৫, রনি ০/৩৯, সানজামুল ১/৩৮, আল-আমিন ১/৪৫, শানাকা ০/১৬, সৌম্য ১/১৬)।
কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স : ১৯.৪ ওভারে ১৮২/৪ (রাজাপাকসে ৩২, সৌম্য ৪১, সাব্বির ৪৯, মালান ৪২*, দাসুন ১২, ইয়াসির ০*; আল-আমিন জুনি. ০/১৭, নবি ১/২৫, মুকিদুল ১/২৬, গ্রেগরি ০/, মুস্তাফিজ ১/৩৫, অ্যাবেল ১/২১)।
ফল : কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা : ডেভিড মালান (কুমিল্লা)।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন