ঢাকা, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬, ০১ রজব ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

অবশেষে বরিস জনসনের ব্রেক্সিট বিল পাস : যুক্তরাজ্যের বিচ্ছেদ ৩১শে জানুয়ারি

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২:৫৬ পিএম

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে উত্থাপিত বিল ব্রিটিশ পার্লামেন্ট পাস হওয়ায় ব্রেক্সিট বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়েছে যুক্তরাজ্য। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েই ব্রেক্সিট ইস্যুতে সংসদে ভোটাভুটির আয়োজন করে জয় পেয়েছেন বরিস জনসন।
অবশেষে ২০২০ সালের ৩১শে জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ পার্লামেন্টে শুক্রবার এজন্যে আনা বিলটি বড় ভোটের ব্যবধানে পাস করেছেন এমপিরা।
গতকাল শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সে ‘উইথড্রয়ল অ্যাগ্রিমেন্ট বিল’টি উত্থাপনের পর ৩৫৮-২৩৪ ভোটে তা পাস হয়। এই বিলে বিরোধী দলের অনেক আইনপ্রণেতাও সমর্থন দিয়েছেন।
বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিনসহ অন্যরা বিলটির বিরোধিতা করেন। পার্লামেন্টে এই বিলের বিপক্ষে পড়ে ২৩৪টি ভোট। তবে এই পার্লামেন্টে বরিসের কনজারভেটিভ পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় বিল পাস আটকে থাকেনি। নিম্নকক্ষে বিলটি পাসের পর এর খুঁটিনাটি নিয়ে আরো বিতর্ক হবে। আগামী ৭-৯ জানুয়ারি বিলটি উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডসে পাস হলে আইনে পরিণত হবে।
শুক্রবার উত্থাপিত ব্রেক্সিট বিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এতে কোনভাবেই ২০২০ সালের বেশি বাড়ানো যাবে না বলে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
বিলটি পার্লামেন্টে পাস হওয়ার পর এক টুইটবার্তায় প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ‘ব্রেক্সিট কার্যকর করার পথে ব্রিটেন এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলো।’
এর আগে বিরোধী লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন বিলটির বিপক্ষে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে তার দলেরই ছয়জন এমপি তা অমান্য করে বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আশা করছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তি ২০২০ সালের মধ্যেই করা সম্ভব। তবে বিরোধীরা এই সময়সীমাকে ‘অবাস্তব’ বলে মনে করছেন।
তবে এই বিলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যে অন্তবর্তীকালীন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সেটি কোনভাবেই ২০২০ সালের বেশি বাড়ানো যাবে না বলে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে।
কনজারভেটিভ পার্টি এ মাসের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সহজেই এই বিলটি পাস হবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। সরকার বলছে, এই বিলটিকে ৩১শে জানুয়ারির আগেই তারা আইনে পরিণত করবেন।
ব্রেক্সিট কী : 'ব্রিটিশ এক্সিট' নামটিকে সংক্ষেপে ডাকা হচ্ছে ব্রেক্সিট নামে। এটি হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাবার প্রক্রিয়া।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন কী : ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) হচ্ছে ২৮টি দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য করে থাকে, এসব দেশের নাগরিকরা জোটভুক্ত যেকোন দেশে গিয়ে থাকতে ও কাজ করতে পারেন।
ইইউ ছাড়ছে কেন যুক্তরাজ্য : ৪০ বছরের বেশি সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩শে জুন একটি গণভোট নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সেখানে সেদেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল - যুক্তরাজ্যের কি ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে থাকা উচিত নাকি উচিত না?
৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে, আর থাকার পক্ষে ছিল বাকি ৪৮ শতাংশ ভোট। কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলের সাথে সাথেই ব্রেক্সিট হয়ে যায়নি। এই বিচ্ছেদ ঘটবে আগামী ৩১শে জানুয়ারি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন