ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি ২০২১, ০৫ মাঘ ১৪২৭, ০৫ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

সাহিত্য

বিদেশী গল্প রোবট

মূলঃ শাম বারিকপুরি অনুবাদঃ অরণ্য আপন | প্রকাশের সময় : ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৭:৪৩ পিএম

বন্দরে জাহাজ নোঙর ফেলেছে, ক্রেনের মাধ্যমে রোবট নামান হচ্ছে, রোবট গুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য ট্রাকের ওপর রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয় দিনে সমস্তরোবট মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখায় গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিযুক্ত করা হল। রোবটরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্তহয়ে পড়ল। শাখার সমস্তকাজ বিদ্যুৎগতিতে, নিপুণভাবে, সুন্দর পদ্ধতিতে কাজ সমাপ্ত হতে লাগল। অফিসে ফাইল আটকে রাখা, ফাইল ফেলে রাখা, স্বজনপ্রীতি, ঘুষ লেন দেন, দখলদারি, শুপারিশ, ইত্যাদির কোথাও দেখা গেল না । অফিসের সমস্তফাইল বাধাবিপত্তি ছাড়া দ্রুততার সাথে যথাসময়ে শেষ হতে লাগল।
রোবট প্রত্যেকদিন সকাল আট টায় অফিসে আসে, সমস্তফাইলের কাজ শেষ করে দুপুর দুটোয় অফিস থেকে বের হয়। এক সপ্তাহ পর দেখা গেল যে আর কোনো কাজ অসম্পূর্ণ থাকল না, সমস্তঅফিসার, কেরানীরা চিন্তিত হয়ে পড়ল, যে কাজ তারা সারা বছরেও শেষ করতে পারত না, রোবটরা তা এক সপ্তাহে শেষ করে ফেলে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অফিসারদের কপালে ভাঁজ পড়ল, তারা শুধু নিজেদের চাকরি হারানোর ভয় করছে না, বরং বাড়তি উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেও ভয়েও বুক কাঁপছে। বেকার অবস্থায় নিজেদের চেয়ারে বসে মশা মারা ছাড়া আর কাজ ছিল না। তারা নিজেদের শাখার জন্য সম্পূর্ণভাবে বেকার হয়ে পড়ল, তাদের টেবিলে ফাইল না আসত না, তাই লাল ফিতায় বাঁধানোর সুযোগও ছিল না। এই বিপদ থেকে পরিত্রাণের জন্য তারা শলা – পরামর্শ করতে লাগল, তারা রোবটদের বিরুদ্ধে গোপনীয় একটা বৈঠক করল।
কয়েক সপ্তাহ পরে দেখা গেল যে যে রোবট ঠিক আটটা বাজতে অফিসে আসত, এখন দশটায় আসে। কাজে অসন্তুষ্টি নজরে আসল, স্বভাবে উদাসভাব দেখা গেল, কখনো সখনো ভুলেও কোনো ফাইলে হাত দিলে তা অসম্পূর্ণ অবস্থায় রেখে দিত। সমস্তফাইল টেবিলের ওপর পড়ে থাকত, যারা দুপুর দুটো বাজলে যেত, তারা বারটা বাজতেই চলে যেতে লাগল।
তাদের চালচলনে, স্বভাবে অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে।
এখন কাজ করে নেওয়ার জন্য তাদের মুখে গাদা গাদা টাকা গুঁজে দিতে হয়, ঘুষ ছাড়া কোনো কাজে হাত দিতে চায় না, যার কারণে কাজের গতি শ্লথ হয়ে গেল, দফতরের এরকম কারবারে জনগণের মধ্যে অস্থিরতা বাড়তে লাগল, টেবিলে ফাইলের স্তুপ হয়ে গেল, প্রশাসনের কাজকর্মে উল্টা পাল্টা শুরু হল, কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করল, কিছু ধামকি দিল, কিন্তু এতে রোবটদের ওপর কোনো প্রভাব পড়ল না, মেশিনমানব তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তারা হিসেব নিকেশ শুরু করল, অগত্যা তারা ক্যালিফোর্নিয়ার রোবট কোম্পানির কাছে তারবার্তা পাঠাল।
আপনারা যে একশ রোবট পাঠিয়েছিলেন তা অকর্মণ্য, শুরুতে দফতরের কাজ খুব ভালোভাবে শেষ করত, কিন্তু ধীরে ধীরে তাদের পদ্ধতিতে পার্থক্য দেখা দেয়, কোনো কাজই এখন সঠিকভাবে শেষ করতে পারছে না, মানুষের চেয়ে বেশি অকর্মণ্য প্রমাণিত হয়েছে।গ্ধ তাই এগুলো ফেরত নিয়ে নতুন রোবট পাঠাবেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার কোম্পানি থেকে তারবার্তার জবাব এল, তাহলে নতুন রোবট পাঠানোর আর দরকার নেই, আপনাদের ওখানে আমাদের চেয়ে বড় বিজ্ঞানী আছে, যে কাজ আমরা বছর বছর ধরে গবেষণার পরেও করতে পারিনি, তা আপনাদের মানুষেরা কয়েক সপ্তাহে করতে পেরেছে। এজন্য বিজ্ঞানী আর গবেষকরা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। আমরা এত গবেষণা করেও রোবটের মধ্যে মানুষের স্বভাব, বৈশিষ্ট্য আনতে পারিনি, আপনাদের আগের রোবটগুলোর মূল্য ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আপনারা এমন দৃষ্টান্তমূলক কাজ করেছেন যা আমরা এখনও পারিনি। রোবটের ভেতরে মানবিক গুণ নিয়ে আসার জন্য আপনাদেরকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
আগের রোবটের মূল্য ফেরত পাওয়ার আগেই রোবটগুলো সিংহাসন দখল করে নিয়েছিল । প্রশাশনের রাঘব বোয়াল কর্মকর্তাদের হাত করে নিয়েছিল, এখন ব্যবস্থাপনার কলম তাদের হাতে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন