ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০, ০৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ০৮ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

জাপার ‘চিফ প্যাট্রন’ রওশন, চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৭ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৬:১৭ পিএম

জাতীয় পার্টির সিনিয়র কো চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদকে প্রধান পৃষ্ঠপোষক পদ দেওয়া হচ্ছে। দলের মহাসচিব জানান, রওশন এরশাদ যত দিন জীবিত থাকবেন তত দিন তিনি ‘চিফ প্যাট্রন’ বা প্রধান পৃষ্ঠপোষক পদে থাকবেন। আজ জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়ামের বৈঠক শেষে মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
জাতীয় পার্টির নবম কাউন্সিলে পরিবর্তন প্রসঙ্গে মসিউর রহমান বলেন, এবারের মূল পরিবর্তন হচ্ছে, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সহধর্মিণী রওশন এরশাদ চিফ প্যাট্রন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। দলে ওনার সম্মান থাকবে সর্বোচ্চ। মিটিং বা সাধারণ সভা- সবখানেই ওনার এই সর্বোচ্চ সম্মানটা থাকবে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব জানান, দলের চেয়ারম্যানও জানিয়েছেন সবক্ষেত্রেই রওশন এরশাদের অবস্থান দলের চেয়ারম্যানের ঊর্ধ্বে থাকবে।
মসিউর রহমান বলেন, চেয়ারম্যানের কাছে দলের সর্বোচ্চ ক্ষমতা থাকবে। যত মিটিং হবে, তা তিনি প্রিসাইড করবেন। তবে যেহেতু হুসাইন মুহম্মদ এরশাদের সহধর্মিণী এখনো জীবিত, তাই তিনি যত দিন জীবিত রয়েছেন, তিনি চিফ প্যাট্রন হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
জাতীয় পার্টির কোনো সিদ্ধান্ত এখন এককভাবে নেওয়া হবে না বলে জানিয়ে মহাসচিব বলেন, একক সিদ্ধান্তে দল চলে না। এখন থেকে দলের সিদ্ধান্ত এককভাবে কেউ দেবে না। দলের প্রেসিডিয়াম ও দলের কো চেয়ারম্যান যারা আছেন, সবাই মিলে দলের সিদ্ধান্ত দেবেন। চেয়ারম্যানও এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চান না।
রওশন এরশাদের নতুন পদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে দ্বন্দ্ব আরও বাড়াবে কি না জানতে চাইলে মসিউর বলেন, এটা নিয়ে কোনো সমস্যা হবে না। চিফ প্যাট্রন, চেয়ারম্যান ও মহাসচিব মিলে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

জাতীয় পার্টির গঠনতন্ত্রের ২০/ক উপধারায় দলের চেয়ারম্যানকে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী করা হয়েছে। তবে নবম কাউন্সিলে সেই ধারা বাতিল বা সংশোধন হচ্ছে না বলে জানান জাপা মহাসচিব। পার্টির গঠনতন্ত্রে আরও অনেক ধারায় পরিবর্তন আসতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রেসিডিয়ামের সভায় দলের নেতারা পরিবর্তনের দাবি এনেছেন। চেয়ারম্যানকে পরিবর্তন, সংযোজন, পরিবর্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জানান, জাতীয় পার্টিতে প্রেসিডিয়াম সদস্য সংখ্যা ৪১ রয়েছে। তবে তা কমিয়ে আনা হতে পারে এবং কাউন্সিলে চার-পাঁচ জনকে দলের সিনিয়র কো চেয়ারম্যান ও কো চেয়ারম্যানের পদে আনা হতে পারে। জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকটি সহযোগী সংগঠন কাউন্সিলে অঙ্গ সংগঠনের স্বীকৃতি পাবে বলেও জানান জাপা মহাসচিব।
২০১৬ সালে মার্চে জাপার অষ্টম কাউন্সিলে দলটির চেয়ারম্যান মরহুম হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ তার ভাই জি এম কাদেরকে কো চেয়ারম্যানের পদে বসান। পরে রওশনের জন্য সিনিয়র কো চেয়ারম্যান পদ তৈরি করেন এরশাদ। এ বছরের মে মাসে এরশাদ জিএম কাদেরকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। এরপর থেকে দেবর-ভাবীর দ্বন্দ্ব বাড়তে থাকে। গত ১৪ জুলাই ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এরশাদ। তার কিছুদিন পর মসিউর রহমান রাঙ্গা এক সংবাদ সম্মেলন করে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে জিএম কাদেরের নাম ঘোষণা করেন। এ ঘোষণার বিরোধিতা করে রওশনপন্থীরা সেপ্টেম্বর মাসে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে রওশন এরশাদকে জাপার চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন। পরে দুই পক্ষের সমঝোতার কথা জানিয়ে মসিউর রহমান সংবাদ সম্মেলন করে জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান এবং রওশনকে সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ঘোষণা করেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন