ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

গণতন্ত্র হত্যাকে গণতন্ত্রের বিজয় বলে পালন করছে দুই কানকাটা সরকার -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৩:০৯ পিএম | আপডেট : ৩:১৮ পিএম, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯

দুই কানকাটা সরকার গণতন্ত্র হত্যাকে গণতন্ত্রের বিজয় পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, নির্বাচনের পৃথিবীর সকল গণতন্ত্রবিনাশী নিষ্ঠুর একদলীয় শাসকরা নিজেদের অবৈধ কর্মকান্ডকে বৈধ বলে চালানোর চেষ্টা করে। যেমন শেখ হাসিনা আজ ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের বিজয় দিবস পালনের ঘোষনা দিয়েছেন গণতন্ত্রের লাশের ওপর বিজয় পতাকা উড়িয়ে। জনগণের সাথে এটি একটি মস্তবড় তামাশা। ৩০ ডিসেম্বরের ভোট আগের রাতে অন্ধকার কক্ষে ব্যালট বাক্স পূর্ণ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিশ্বে নজীরবিহীন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষক থেকে শুরু করে মানুষ ভোট ডাকাতির এই অভিনব নির্বাচন দেখেছে, শুধু তাই নয় দেশী-বিদেশী গণমাধ্যমগুলোতে সেটি ব্যাপকভাবে ফলাও করে প্রচার হয়েছে। অথচ সেই গণতন্ত্র হত্যাকে গণতন্ত্রের বিজয় বলে পালন করছে দুই কানকাটা সরকার।
সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।            
রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজ এই দিন যেদিন আওয়ামী লীগ রাতের আঁধারে জনগণের ভোট ডাকাতি করে স্বাধীনতার চেতনা, ত্রিশ লাখ শহীদ আর অজস্র মা বোনের ইজ্জতের সাথে বেইমানি করেছে। এই দলটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূলমন্ত্রের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা শুরু করেছে স্বাধীনতার পরপরই, শেখ হাসিনা সেটাকে এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচন এবং ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ও তার আগের রাতে ভোট ডাকাতির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় ‘৭৫ এর একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ভিন্ন মডেলে কায়েম করেছেন। মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়ে শেখ হাসিনা তাঁর পিতার সেই বাকশালকে বাস্তবে রুপদান এবং তা সম্প্রসারিত করতে সক্ষম হয়েছেন। 
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের সময়কার কতা তুলে ধরে রিজভী বলেন, একাদশ নির্বাচনে তফশীল ঘোষনা পর থেকে সরকার শুরু করেছিল দেশব্যাপী সর্বগ্রাসী গায়েবী মামলা আর গ্রেফতারের হিড়িক। কবরের লাশ থেকে শুরু করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী, হজ¦ব্রত পালনরত অবস্থায় মক্কায় অবস্থানকারী, দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থানকারী ব্যক্তি কেউই বাদ যায়নি সেইসব গায়েবী মামলা থেকে। স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীকে, মায়ের কাছ থেকে সন্তানকে, সন্তানের কাছ থেকে পিতাকে ছিনিয়ে নিয়ে কারাগারগুলো ভরে ফেলা হয়। তারপরও বিরোধী দলের যেসব নেতাকর্মী অবশিষ্ট ছিল তাদের ওপর চলে ভয়াভয় নির্যাতন, তাদেরকে আক্রমণের মাধ্যমে এলাকা ছাড়া করা হয়েছে। বিএনপি প্রার্থীদের ঘর থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। তালিকা ধরে ধরে এজেন্টদের হয় এলাকাছাড়া করা হয়েছে, এক এলাকা থেকে ধরে আরেক এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে, এরপরেও যারা ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছেন তাদেরকে আটক করে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল বাছাই করে দলীয় ক্যাডারদের। আর ২৯ ডিসেম্বর রাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের লোকেরা রাতভর ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে। আওয়ামী লীগ ছাড়া ভোটের দিন যারাই কেন্দ্রে যাবার চেষ্টা করেছে তাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। এই ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নমূণা।
তিনি বলেন,  যেভাবে অন্যান্য দেশে একদলীয় চেতনার শাসকরা ভিন্নমতের মানুষদেরকে নিশ্চিহ্ন করে নির্বাচন অনুষ্ঠান করতো। কিন্তু সেই নির্বাচনে কোন বিরোধী দল থাকতো না। সেই রাষ্ট্রের যিনি প্রধান তিনি ৯৯ শতাংশ ভোট পেতেন, কারণ সেখানে কোন দলেরই অংশগ্রহণের সুযোগ থাকতো না। কিন্তু তারা সেই নির্বাচনকে গণতন্ত্র বলে চালানোর চেষ্টা করতো। শেখ হাসিনা সেই ঐতিহ্যই বহন করছেন। যেখানে প্রকৃত গণতন্ত্রকে কফিনের মধ্যে রাখা হয়। বর্তমান অবৈধ সরকারের আত্মা আইয়ুব-ইয়াহিয়ার চেতনার দ্বারা আচ্ছন্ন বলেই নাগরিক স্বাধীনতা, কন্ঠস্বরের স্বাধীনতা, নির্ভয়ে চিন্তা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ইত্যাদিসহ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমাধিস্থ করেছে। সংবিধান, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের ওপর একচেটিয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যা শেখ হাসিনার গণতন্ত্রের আরেকটি নমূণা।  রাষ্ট্র-সমাজে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। গুম-খুন, বিচার বহির্ভূত হত্যাকে করা হয়েছে জাতীয় জীবনের অনুষঙ্গ। জনসমাজে ভয় ও শঙ্কা আধিপত্য বিস্তার করেছে। সাধারণ মানুষ স্ফুর্তিহীন, আনন্দহীন, অর্থহীন ও অশান্তির মধ্যে দিন পার করছে। সর্বত্র প্রাণ থেকে প্রাণের প্রবাহ স্তব্ধ হয়ে আসছে। রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার একনায়কতন্ত্রের ছাপ এখন বিপজ্জনক রুপ ধারণ করেছে। এরপরেও শেখ হাসিনা নিজেকে গণতন্ত্রী বলে আত্মবিজ্ঞাপন চালিয়ে যাচ্ছেন। 
বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কজনক দিন, সরকারী চাপে কোন গণমাধ্যমই এই কালিমালিপ্ত দিনটি নিয়ে কোনকিছুই লিখতে পারেনি। সকল গণমাধ্যমকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছিল গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কোন সংবাদ পরিবেশন না করতে।
সমাবেশ করতে না দেয়ায় সরকারের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন,  আজকেও বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে বাধা দিচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের পূর্বঘোষিত সমাবেশের কর্মসূচিকে বানচাল করতে পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশ সকাল থেকে দলীয় কার্যালয়ের সামনে ও আশেপাশের সড়ক এবং অলিগলিতে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধংদেহী পরিবেশ তৈরী করে রেখেছে গোটা নয়াপল্টন এলাকায়। সারাদেশটই যেন আওয়ামী লীগের তালুকদারীতে পরিণত হয়েছে। যখন তখন যেকোন সময় আওয়ামী লীগ যেকোন স্থানে সভা-সমাবেশ করতে পারে। অথচ বিরোধী দল ও ভিন্ন মতের মানুষদের সেই অধিকার নেই। এদেশে শুধুমাত্র একজনেরই গণতান্ত্রিক অধিকার আছে তিনি হলেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশে এক ব্যক্তিকেন্দ্রীক গণতন্ত্র চলছে। একমাত্র শেখ হাসিনার কন্ঠস্বরের স্বাধীনতাই রয়েছে চরম পর্যায়ে। আর শেখ হাসিনার এই দু:শাসনে বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও ভিন্নমতের মানুষরা সাবহিউম্যান পর্যায়ে।
অথচ গণতন্ত্র ও বহুত্ববাদের পক্ষে যিনি জীবনব্যাপী আপোষহীন লড়াই করেছেন সেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজ বন্দী। শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসন, অনাচারের নির্বাচন এবং কুশাসনের বিরুদ্ধে কেউ যাতে মুখ খুলতে না পারে সেজন্যই বেগম জিয়াকে বন্দী করে রাখা হয়েছে। শুধুমাত্রই শেখ হাসিনার হিংসা এবং অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতেই নির্দোষ বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দী করে রাখা হয়েছে।

 

 
 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
সুজিত হাসান ৩০ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১১:৩৬ পিএম says : 0
খুব ভালো কথা বলেছেন, আপনাদের মুখে যে কিছুই আটকাবে না সেটা খুব ভালো করেই জানে সবাই। নিজের শরীরে এত ময়লা থাকতেও আমরা দেখি না কিন্তু অন্যের শরীরে ময়লা থাকলেই আমরা কথা বলা শুরু করে দেই এসব কতটা নিচু মনের মানুষিকতার পরিচয় সেটা রিজভী সাহেবের মত মানুষের বোঝা উচিৎ।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন