ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

নতুন দিনের সন্ধানে

স্বাগত ২০২০

স্টালিন সরকার | প্রকাশের সময় : ১ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

‘মুছে যাক গ্লানি ঘুচে যাক জরা/ অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা/ নতুন বছরের শুরুর লগ্নে/ ধুয়ে মুছে পবিত্র হোক ধরণী’ (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)। বিশ্বকবির এই আকুতি নতুন বছরের কাছে দেশের ১৭ কোটি মানুষের। প্রত্যাশা পৌষের মাঝামাঝি কুয়াশার চাদর ভেদ করে পূর্বাকাশে নতুন স‚র্যের আলোয় পুরনো গ্লানি-জরা ধুঁইয়ে মুছে যাবে। স্বাগত ২০২০। হ্যাপি নিউ ইয়ার (শুভ নববর্ষ)। নতুন বছরের প্রথম দিন আজ। প্রকৃতির নিয়ময়েই উঠেছে নতুন সূর্য। অতীতের হিংসা-বিদ্বেষ পেছনে ফেলে, সৌহার্দ্য-স¤প্রীতির সম্মেলনের এগিয়ে যাওয়ার শপথ হোক। গতকাল মঙ্গলবার সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে ২০১৯ সাল। আজকের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হলো ২০২০ সালের দিনপঞ্জি।

২০২০ সাল দেশের মানুষের জন্য খুবই তৎপর্যপূর্ণ। এ বছর পালিত হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী। পরের বছর স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এ উপলক্ষে ২০২০-২১ সালকে ‘মুজিব বর্ষ’ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২০ সালে ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মতারিখ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিব বর্ষ পালিত হবে। ‘মুজিব বর্ষ’ পালন অনুষ্ঠানে হাজির হবেন বিশ্বের বরেণ্য নেতারা। বাংলাদেশের উন্নয়ন, টানা তিন দফায় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের সরকারের সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে বিদেশীদের চোখ ধাঁধিয়ে ‘ভোট ও গণতন্ত্র’ নিয়ে উঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একচেটিয়া বিজয় দিয়ে শুরু হয় ২০১৯। মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের ছড়াছড়ি ‘চমক’ দেখিয়ে কিংকর্তব্যবিম‚ঢ় প্রতিপক্ষ দলগুলোকে চুপসে দেয়া হয়। একাকার হয়ে যায় রাজনৈতিক দল ও সরকার। বিরোধী দলগুলোকে ঠেকিয়ে রেখে বাধা-বিপত্তিহীন সরকারি দল দিবসভিত্তিক কর্মস‚চি পালন করেছে। বছরজুড়েই ভোট-গণতন্ত্র নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমে বিতর্কের ঝড় উঠে। বিপরীতে আওয়ামী লীগ সরকার উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরে এসব প্রশ্ন চাপা দেয়।
নিম্নবৃত্ত থেকে নিম্নমধ্যবৃত্তের দেশে রূপান্তর, উন্নয়নের মহাসড়কে উঠা, বিশ্ব অর্থনীতিতে সামনের কাতারে আসা, রেমিট্যান্স রেকর্ড, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির পারদ ৮.১৫ শতাংশে তুলে দেখানো হয় চমক। নিজ অর্থে পদ্মা সেতু, ঢাকায় মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লিসহ বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন; নতুন নতুন মেগা প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়নের স্রোত বইয়ে দেয়া হয়।

উন্নয়নের এই স্রোতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, পরিবেশ দূষণ ও সুশাসনের মতো গুরুত্বপ‚র্ণ বিষয়গুলো চাপা পড়ে। আমলাতন্ত্রের বদৌলতে রাষ্ট্রীয়যন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধীদের হামলা-মামলা-ঠেঙ্গিয়ে এবং উচ্ছিষ্টভোগী বুদ্ধিজীবীদের ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রেখে গত কয়েক বছরে রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ অপ্রতিদ্ব›দ্বী হয়ে উঠে।
নির্বাহী বিভাগের হস্তক্ষেপে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের দাবি উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; আইন কমিশন, মানবাধিকার কমিশনের ইমেজ তলানিতে। ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হলেও ভোটের ক্যারিকেচা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শুধু তাই নয়, নির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নূরের মুখ বন্ধ করতে ৯ দফায় হামলা বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে।

জঙ্গিবাদ দমনে সাফল্য এসেছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি; থামেনি কথিত বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুর ঘটনা। গুজবের জেরে একের পর এক পিটিয়ে হত্যার ঘটনা আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নুসরাত জাহান রাফি, রিফাত শরিফ ও বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ড নাড়িয়ে দিয়ে গেছে দেশকে। বালিশ কান্ড, পর্দা কান্ড দুর্নীতির গভীরতা জানিয়ে দিয়েছে। ক্যাসিনোকান্ড বড় ধরণের ভ‚মিকম্প ঘটিয়েছে। মতিঝিলের ক্লাবপাড়ায় অবৈধভাবে চালানো ক্যাসিনো বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ছিল বিদায়ী বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

ক্যাসিনোর সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সম্পৃক্ততার হয়ে পড়ে ওপেন সিক্রেট। ক্যাসিনো বন্ধের অভিযান সরকারি দলের নেতাদের ভাষায় হয়ে ওঠে শুদ্ধি অভিযান। সেই অভিযান রাজনীতির অঙ্গনে কাঁপন ধরিয়ে দেয়। ‘পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা লাগবে’- এমন গুজব ছড়ানো হয় বছরের মাঝামাঝি। সেই মাথার জন্য শিশুদের চুরি হচ্ছে গুজব ছড়িয়ে পড়লে জনমনে তৈরি হয় আতঙ্ক। কয়েকটি হত্যাকান্ড ঘটে। সড়ক আইন, মাদক ইয়াবা ব্যবসা আলোচনায় ছিল বছরজুড়ে।

অর্থনীতির হালচাল : যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ২০৩২ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের বড় ২৫টি অর্থনীতির দেশের একটি হবে। তখন বাংলাদেশের অবস্থান হবে ২৪তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। বর্তমানে অবস্থান ৪১তম।
২০৩৩ সালে অর্থনীতিতে মালয়েশিয়া, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ আফ্রিকাকে পিছনে ফেলবে বাংলাদেশ। এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনে। ১৯৩টি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখি। লাফিয়ে লাফিয়ে অর্থনীতি বাড়ছে। কিন্তু দেশের ব্যাংক সেক্টরের বেহাল দশা। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে সরকার কর্মচারীদের বেতন দিচ্ছে। বেকারত্ব বাড়ছে, নতুন বিনিয়োগ কমে গেছে। সরকার যে ৮.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বলছে; দেশের অর্থনীতিবিদরা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। সরকারের এই হিসেব শুভঙ্করের ফাঁকি বলে মন্তব্য করছেন।

বিদেশ রেমিট্যান্স এবং গ্রার্মেন্টস সেক্টরের মাধ্যমে দেশের রিজার্ভ ফুলেফেপে উঠেছে। এখন সেখানেও ভাটার টান। পুঁজিবাজারের বেহাল দশা। ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারির পর থেকে থেমে থেমে দরপতন চলছে। এই পতনে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫ লাখ ৭৮ হাজার বিনিয়োগকারীর পুঁজি ৮৩ হাজার কোটি টাকা উধাও। টানা ১১ মাস ধসে শেয়ার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার ব্যক্তি চাকরি হারিয়েছে। লোকসান কমাতে ব্রোকারেজ হাউসগুলো বহু শাখা অফিস বন্ধ করেছে।

আমলা নির্ভরতা : উপনিবেশিক শাসনামলে আমলারাই ছিলেন সর্বসর্বা। ইংরেজরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে দেশ শাসন করতেন। জনগণের ভোটের অধিকার ছিল না (১৯৩৫ সালে প্রথম ভোট হয়)। প্রজা হিসেবে জনগণের ওপর জুলুম-নির্যাতন করে বশীভূত করে রাখতো ইংরেজরা। এজন্য আমলাদের অধিক গুরুত্ব দেয়া হতো। বার্ষিক বাজেট থেকে শুরু করে সবকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হতো আমলাদের সুযোগ-সুবিধা বিবেচনা করে।

২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর থেকে কার্যত বাংলাদেশ গণতন্ত্রের বদলে আমলাতন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে সবকিছু করা হয় আমলাদের স্বার্থ বিবেচনা করে। একদিকে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ রাখা অন্যদিকে বড় দলগুলোতে এক ব্যাক্তির উপর নির্ভরশীলতা দেশকে এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। জনগণের ভোটে নির্বাচনের বদলে আমলা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় ক্ষমতায় আসায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-এমপিরা প্রশাসনে কর্মরত আমলাদের অনুকম্পার পাত্রে পরিণত হন।

তাছাড়া আমলারা প্রশিক্ষিত এবংদদীর্ঘদিন থেকে সরকারে থাকায় সবকিছুই তাদের নখদর্পণে। তারা অনেক ক্ষমতাধর। নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হলেও আমলাদের কোনো পরিবর্তন হয় না। বর্তমানে উন্নয়নের কলকাঠি আমলাদের হাতে। সেখানে রাজনীতিবিদদের কোনো হাত নেই। আমলারা এতোই ক্ষমতাধর যে, দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে রাজনৈতিক দলের নেতাদের গ্রেফতার করার পর আমলাদের দিকে হাত বাড়াতেই থমকে যায় সে অভিযান।

গণতন্ত্রের তালিকায় নেই : এক যুগ ধরে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করায় উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ। মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গা মুসলিমদের আশ্রয় দিয়ে সারাবিশ্বের প্রশংসা পেয়েছে। কিন্তু বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর তালিকা থেকে ছিটকে পড়েছে। যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (ইআইইউ) বিশ্বের ১৬৭টি দেশের উপর গবেষণা করে এ রিপোর্ট প্রকাশ করে বলেছে বাংলাদেশে গণতন্ত্র নেই। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ও বহুদলীয় অবস্থান, নাগরিক অধিকার, সরকারে সক্রিয়তা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এসব মানদন্ডে প্রতিবেদন তৈরি করে ৯ জানুয়ারি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইআইইউ’র যে প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে সেখানে ‘গণতান্ত্রিক’ কিংবা ‘ত্রুটিপ‚র্ণ গণতান্ত্রিক’ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। বলা হয় গত এক দশক ধরে স্বৈরতান্ত্রিক ও ত্রুটিপূর্ণ গণতান্ত্রিক অবস্থার মাঝামাঝি ‘হাইব্রিড রেজিম’ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান। তবে বৈশ্বিক গণতন্ত্র স‚চকে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের স্কোর আগের বছরের তুলনায় ০.১৪ বেড়েছে। ফলে ২০১৭ সালে যেখানে দেশটির অবস্থান ছিলো ৯২তম, পরের বছর হয়েছে ৮৮তম।

‘স্বৈরতান্ত্রিক’ তালিকায় দেশ : নারীর ক্ষমতায়নে সাফল্য দেখালেও বিশ্বের নতুন পাঁচটি ‘স্বৈরতান্ত্রিক’ দেশের তালিকায় উঠেছে বাংলাদেশের নাম। জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্যার্টেল্সমান ফাউন্ডেশন বিশ্বের ১২৯টি উন্নয়নশীল দেশে গবেষণা করে ৫৮টি দেশকে স্বৈরতন্ত্রের অধীন এবং ৭১টি দেশকে গণতান্ত্রিক তকমা দেয়।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এবার ‘ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্স ২০১৮’ স‚চকে নিচে নেমে যাওয়া ১৩টি দেশের মধ্যে ৫টি দেশ গণতন্ত্রের ন‚্যনতম বৈশিষ্ট্যও ধারণ করে না। এগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ, লেবানন, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া ও উগান্ডা। রিপোর্টে বলা হয় এই পাঁচটি দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা বছরের পর বছর উপেক্ষিত। দেশগুলোতে চলছে স্বৈরতান্ত্রিক শাসন।

গবেষণায় দেশ গণতান্ত্রিক না স্বৈরতান্ত্রিক তা নির্ধারণে ৫টি বিষয় বিবেচনায় নেয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক সমন্বয়, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং রাষ্ট্রসুলভ বৈশিষ্ট্য। ১২৯টি দেশের গণতন্ত্রের অবস্থা নিয়ে যে সূচক এই গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ৮০ নম্বরে।
সীমান্ত হত্যা : ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব সর্বচ্চো পর্যায়ে। মানবিক কারণে ত্রিপুরার কয়েক লাখ মানুষের জন্য ফেনী নদীর পানি ভারতকে দেয়া হয়েছে। অথচ এক যুগ থেকে তিস্তার ন্যার্য হিস্যা পানি ভারত দিচ্ছে না; চুক্তি ঝুলিয়ে রেখেছে। চট্টগ্রাম, মংলা সমুদ্র বন্দরসহ অনেককিছুই ভারতকে ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে।

অথচ নাগরিক পুঞ্জির নামে দেশটি বাংলাদেশের লাখ লাখ মুসলমানকে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা করছে। দুই দেশ সীমান্তে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করার পরও সীমান্তে বিএসএফের খুনোখুনি বেড়েছে। ২০১৯ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে ৪৩ বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।

২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে নিহতের সংখ্যা অনেক বেশি। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসাবে এ তথ্য উঠে এসেছে। বেসরকারি সংস্থাটির হিসাবে, ২০১৮ সালে বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশির সংখ্যা ছিলো ১৪। এবছর তা বেড়ে ৪৩-এ দাঁড়িয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে বিএসএফের হাতে ৪৬ বাংলাদেশির নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠে। ২০১৬ সালে সেই সংখ্যা কমে ৩১ এ দাঁড়ায়। ২০১৭ সালে তা আরও কমে দাঁড়ায় ২৪ এ।
মানবাধিকার কর্মীরা সীমান্তে নিরস্ত্র মানুষদের নিহত হওয়ার ঘটনাগুলোকে ‘ঠান্ডা মাথায়’ হত্যাকান্ড হিসেবে উল্লেখ করে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে বাংলাদেশে মোট ৩৮৮ জন বিচারবহির্ভ‚ত হত্যাকান্ডের শিকার হন।

ইনু-মেনন আঘাত : ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরীক জাসদের হাসানুল হক ইনু ও ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের বুকে পেরেক ঠুকে দেয়।
৮ নভেম্বর কুষ্টিয়ার এক সমাবেশে ইনু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আপনি (আ.লীগ নেতা) আশি পয়সা। আর এরশাদ, দিলীপ বড়ুয়া, মেনন আর ইনু মিললে এক টাকা। আমরা যদি না থাকি, তাহলে আশি পয়সা নিয়ে রাস্তায় ফ্যা-ফ্যা করে ঘুরবেন। এক হাজার বছরেও ক্ষমতার মুখ দেখবেন না।’

২০ অক্টোবর বরিশালের দলীয় সভায় আওয়ামী লীগ সরকারের গ্রহণযোগ্যতায় পেরেক ঠুকে দিয়ে রাশেদ খান মেনন বলেন, জনগণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। আমি সাক্ষী দিয়ে বলছি এই নির্বাচনে আমিও নির্বাচিত হয়েছি, কিন্তু জনগণ ভোট দিতে পারেনি। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আমি নিজেও আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। অথচ এখন সেই ভোটে সাধারণ জনগণ নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারছে না। এমনকি উপজেলা নির্বাচন, ইউনিয়ন নির্বাচনেও ভোটের অধিকার হারাচ্ছে মানুষ।’

তলানিতে ইসি : ২০১৯ সালকে বলা যেতে পারে সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের আস্থাহীনতার বছর। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের আগের রাতে প্রশাসনযন্ত্র ব্যবহার করে ভোট নেয়ার মতো নজীরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার পর নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কথাবার্তায় বর্তমান ইসির মুখোশ খুলে গেছে।

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা টিআইবি গত ১২ ডিসেম্বরের এক বিবৃতিতে ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সব কমিশনারের অপসারণ করে ইসিকে নতুন করে সাজানোর প্রস্তাব দেয়। টিআইবি বলেছে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসি যেভাবে একের পর এক কেলেঙ্কারির জন্ম দিচ্ছে, তা অভ‚তপ‚র্ব ও বিব্রতকর।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও কমিশনারদের বিরুদ্ধে জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের জন্য প্রেসিডেন্টের প্রতি আবহান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ইসি কার্যত আঁতাত করছে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় একজন কমিশনারের অনৈতিক কেলেঙ্কারির খবর প্রচার হয়েছে।

৮ মার্চ প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা নির্বাচনী কর্তাদের এক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘যদি ইভিএমে ভোটের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে আর আগের রাতে ব্যালট পেপারে সিল মেরে বাক্স ভর্তি করার সুযোগ থাকবে না’। কমিশনার শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘যে উপজেলা নির্বাচনে আগের রাতে ভোট চলবে না। এ ছাড়াও জুলাই মাসে ইসির ওয়েবসাইটেও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করে দেখানো হয় ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোট পড়েছে শতভাগ’।

তখন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম ন‚রুল হুদা বলেন, ‘শতভাগ ভোট পড়া স্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর আর কিছু করার থাকে না’। কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন আইনতভাবে স্বাধীন হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে সেই স্বাধীনতা নির্বাচন-প্রক্রিয়ার কাছে বন্দী। নির্বাচন যদি গণতন্ত্রের প‚র্বশর্ত হয়, তাহলে গণতন্ত্রের পদযাত্রা অবারিত করতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হতে হবে। অবৈধভাবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জনগণের প্রতি বা গণতন্ত্রের প্রতি কোনো কমিটমেন্ট থাকে না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সময় বলেন, ‘ভোটারদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমরা নেব। তারা ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন, সেই নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করব। তাই আহŸান করব, ভোটাররা যেন ভোট দিতে আসেন।’ এসব বক্তব্য প্রমাণ দেয় ইসি গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু।
রক্তশূন্যতায় বিএনপি : ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে চড়াই-উতরাইয়ে বছর পার করছে বিএনপি। ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পর এক যুগে মামলা-মোকাদ্দমায় বিপর্যন্ত শীর্ষ থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। প্রায় ১৩ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা, দলের চেয়ারপারসনের কারাভোগ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছায় প্রবাসে অবস্থান, ২০১৪ সালে নির্বাচন বর্জন এবং একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কাঙ্খিত ফল না পাওয়া-এমন নানা কারণেই সংকটের গভীরে দলটি।

এর মধ্যে ৭ এমপির শপথ গ্রহণ করে সংসদে যোগদানের আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত, ভীতিকর মানসিকতা, দিল্লি তোষণনীতি দলটিকে জনগণ থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছে। ব্যাপক জনসমর্থন থাকা দলটির গত এক বছরে কোনো অর্জনই নেই; ভারি হচ্ছে ব্যর্থতার ঝুলি। বেগম জিয়াকে কারাগরে রেখে নির্বাচনে গিয়ে আন্দোলন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি, রোহিঙ্গা ইস্যু, ভারতের এনআরসি, ডাকসুর ভিপি নূরের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, গ্যাস-তেলের মূল্য বৃদ্ধি, পেঁয়াজের রেকর্ড মূল্যসহ অসংখ্য ইস্যু এসেছে; কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেনি।

এমনকি ৩০ ডিসেম্বর বাম দলগুলো কালো দিবস, গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করে রাজপথে পুলিশের পিটুনি খায়; কর্মসূচি দিয়ে তা বাতিল করে দলটি। ২০১৯ সালের বিএনপির দিকে তাকালে দেখা যায় বাধা-বিপত্তির মুখে অনুমতি নিয়ে নয়াপল্ট, সিলেট, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় সমাবেশ করেছে। সমাবেশগুলোতে জনতার উপস্থিত ছিলো চোখে পড়ার মত। বছরের শেষ দিকে সিলেটে ও নয়াপল্টনে পুলিশের অনুমতি না পেয়েও সমাবেশ করেছে দলটি। তবে দলটির হাজারো ব্যর্থতার মধ্যে সফলতা হলো নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠন। আর দলকে ভঙ্গে ফেলা এবং বেগম জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ফ্লাটফর্ম করে বিএনপিতে ভাঙনের কৌশল রুখে দিতে পেরেছে।

ড্রাইভিং সিটে আ.লীগ : প্রায় টানা এক যুগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। কয়েক বছরে জনগণের কাতার থেকে শাসক দলে পরিণত হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় প্রশাসন যন্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনের মাধ্যমে দুই দফায় ক্ষমতায় দলটি। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম নেয়া দলটির বর্তমান বয়স সাড়ে ৭১ বছর। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দলটি প্রতিটি জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতার প্রতিদ্ব›দ্বী। সামরিক শাসনের সময়ও দলটি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রধান শক্তি। ১৯৫৮, ১৯৬৯, ১৯৭৫, ১৯৮২ সালে সামরিক শাসন জারি হলে দলটি হয়েছে প্রধান প্রতিপক্ষ।

কিন্তু ২০০৭ সালে সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর দলটি হয়ে উঠে তাদের সহযোগী! মাঠের আন্দোলন করে জনগণের ভোটের অধিকারের কথা প্রচার করলেও ২০১৪ সাল থেকে দলটি জনগণের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেয়া দলটির হাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা গড়াগড়ি যাচ্ছে। জনগণের ভোটের অধিকারের পাশাপাশি কার্যত মত প্রকাশের স্বাধীনতাও সংকুচিত।

প্রশাসনযন্ত্র ব্যবহার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় কর্মী বাহিনীর মতো ব্যবহার করে জনগণকে ভীতি-আতঙ্ক-উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। ‘আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র’ থিউরি প্রচার করে এবং কিছু উচ্ছিষ্ট ছিটিয়ে দেশের বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজ, পেশাজীবীদের একটি বড় অংশকে গোলাম বানিয়ে রেখেছে। একই সঙ্গে বন্ধুত্বের নামে প্রতিবেশি ভারতের আশীর্বাদ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা রক্ষার চেষ্টা করছে।
গত ২১ ডিসেম্বর দলটির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন কমিটিতে নতুন কিছু মুখ এসেছে ঠিকই; কিন্তু নতুনত্ব কিছু নেই। তবে ড্রাইভিং সিটে থাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে স্বস্তির পরিবেশে রয়েছে। কিছু অস্বস্তি ছিল টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর কিছু নেতাকর্মীর ভয়ঙ্কর হয়ে উঠায়। ক্যাসিনোকান্ডে যুবলীগ, আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম আসা, চাঁদাবাজির অভিযোগে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অব্যাহতি, রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম আসা, ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পেঁয়াজের ম‚ল্য নিয়ন্ত্রণে মন্ত্রণালয় বিভাগের ব্যর্থতায় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে।

ফেনীর নুসরাত হত্যাকান্ডে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের জড়িত থাকা, ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে বুয়েটে মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকান্ড কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। দলটির নেতারা কথায় কথা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নের কথা বললেও কাজেকর্মে তারা বঙ্গবন্ধুর লেখা ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বিপরীত কর্মকান্ড করছে।
দেবর-ভাবীর কাজিয়া : এরশাদ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি সরকারি দলের অনুকম্পায় জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হলেও কাজিয়া করেই বছর পার করেছে। প্রথমে স্বামী-স্ত্রীরবিরোধী, পরবর্তীতে দেবর-ভাবী বিরোধ। বছরের শেষ দিকে দলের পদ ভাগাভাগি করে করে ভাঙন ঠেকানো হলেও সারাবছর দলের কর্তৃত্ব নিয়ে দেবর জি এম কাদেরের সঙ্গে ভাবি রওশন এরশাদের কোন্দল এবং এরশাদপুত্র সাদ-এরিককে নিয়ে বছরজুড়ে আলোচনা হয়।

১৪ জুলাই এরশাদের ইন্তেকালের পর একের পর এক নাটকীয়তায় শাদ এরশাদ রংপুর-৩ আসনের এমপি হন; বিদিশা আবার এরশাদের প্রেসিডেন্ট পার্কে ছেলে এরিকের কাছে চলে আসেন। সবশেষে রওশন এরশাদকে ‘বিশেষ উপদেষ্টার’ পদ দিয়ে জিএম কাদের চেয়ারম্যান পদ ধরে রাখেন।

অন্যরা দল : দ্বিদলীয় রাজনীতির বৃত্তে গড়ে উঠা দলগুলোতে বছরজুড়ে ভাঙনের পদধ্বনি ছিল। আওয়ামী লীগের ছায়ার নীচে থাকা রাশেদ খান মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি দ্বিখন্ডিত হয়েছে। কর্নেল (অব.) অলি আহমদের লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি, মরহুম শফিউল আলম প্রধানের জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, আ স ম রবের জেএসডি, ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম ভাঙনের মুখে পড়েছে। জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত মজিবুর রহমান মঞ্জু আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (6)
নাঈম ১ জানুয়ারি, ২০২০, ২:১৭ এএম says : 0
দেশের বাস্তব চিত্র তুলে ধরায় দৈনিক ইনকিলাব ও স্টালিন সরকার সাহেবকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি
Total Reply(0)
Shibani Debnath ১ জানুয়ারি, ২০২০, ২:২১ এএম says : 0
২০২০ নতুন বছর সবার জীবনে নতুন আলো নিয়ে আসুক |সব আঁধার সরিয়ে ,সবাই খুশি থাকুক|
Total Reply(0)
জাবেদ ১ জানুয়ারি, ২০২০, ২:২৩ এএম says : 0
ড্রাইভিং সিটে আ.লীগ, পিষে যাচ্ছে জনগণ
Total Reply(0)
আঃ রাজ্জাক ১ জানুয়ারি, ২০২০, ২:১৬ এএম says : 0
চারদিকে খালি হতাশা আর হতাশা
Total Reply(0)
শরীফ ১ জানুয়ারি, ২০২০, ২:২৪ এএম says : 0
আল্লাহই ভালো জানেন আমাদের দেশের জনগণের কপালে কি আছে
Total Reply(0)
মারিয়া ১ জানুয়ারি, ২০২০, ২:২৫ এএম says : 0
কোথাও কোন আশার আলো দেখতে পাচ্ছি না
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন