ঢাকা রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ৮ কার্তিক ১৪২৭, ০৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

সর্বাত্মক যুদ্ধে নামছে ইরান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৬ জানুয়ারি, ২০২০, ৫:১৪ পিএম

মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির মৃত্যু ও ইরানের প্রতিক্রিয়া নিয়ে সংবাদ সংস্থা এশিয়া টাইমসে প্রকাশিত ভারতের সাবেক কূটনীতিক এমকে ভদ্রকুমারের কলাম:

ইরানি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করার পরদিন ৩ ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ বন্ধ করতে গত রাতে হামলা চালিয়েছি। যুদ্ধ শুরু করার জন্য হামলা চালাইনি।…আমরা সরকার পরিবর্তন চাই না।’ ট্রাম্পের এই বক্তব্যের মধ্যেই, সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ফুটে উঠেছে।

তেহরান থেকে পাওয়া প্রতিবেদনগুলো থেকে বোঝা যায় যে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশ হওয়ার অনেক আগেই যুক্তরাষ্ট্র সুইস মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একই ধরনের বার্তাই পাঠিয়েছিল।

ট্রাম্প তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বের সেরা সামরিক বাহিনী রয়েছে।...আমাদের কাছে বিশ্বের সেরা গোয়েন্দা বাহিনী রয়েছে। যদি আমেরিকানদের কোথাও হুমকি দেয়া হয়, সে জন্য আমাদের টার্গেট ইতিমধ্যে সম্পূর্ণরূপে চিহ্নিত হয়ে গেছে এবং যা যা পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন, তা গ্রহণের জন্য আমি তৈরি এবং প্রস্তুত। এবং সবই নির্দিষ্টভাবে ইরানের বিপক্ষে যাবে।’ ট্রাম্প বক্তব্য দেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠী পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের গাড়িবহরের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়।

এদিকে পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের গ্লোবাল রেসপনস ফোর্সের ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ সেনা কুয়েতে যাবে। আরও প্রায় ১৪ হাজার সেনা এ বছর মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে মোতায়েন করা হয়েছে। এই অঞ্চলে আগে থেকেই প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন সেনা ছিল। মোতায়েন করা সেনার সংখ্যা এখন ৭০ হাজার ছুঁয়েছে, তবে এই সংখ্যা ইরানে আগ্রাসন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির তুলনায় এখনো অনেক কম।

এসব পদক্ষেপ থেকে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইরানের যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জবাব দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রথমত, ইরান যেভাবে চায়, যুক্তরাষ্ট্র সেভাবে ইঁদুর-বিড়াল খেলা খেলতে রাজি নয়। যুক্তরাষ্ট্র মনে করে, এ-জাতীয় খেলা ইরানে প্রতিরোধের রাজনীতির ধরনের কারণে কেবল তেহরানের পক্ষেই কাজ করবে। বিপরীতে, ইরানি নেতৃত্ব ধারণা করেছিল যে, ট্রাম্প, যিনি অন্য কোনও কিছুর চেয়ে তার পুনঃনির্বাচন প্রাধান্য দিচ্ছেন, তিনি হয়তো উত্তেজনা বৃদ্ধি করে এমন কোন ঘটনা ঘটানো থেকে বিরত থাকবেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে ভয় দেখানোর জন্য ইরান সম্প্রতি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালালেও বাস্তবে সেখানে ইরানের লাভ কম ছিল। তবে এসব মহড়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে বার্তা দিতে পেরেছিল মস্কো এবং বেইজিং। এর ফলে অঞ্চলটিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে এটি মার্কিনিদের জন্য লজ্জাকর ছিল।

যদিও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই খুব দ্রুততার সঙ্গে কাসেম সোলাইমানির স্থলে একজনকে নিয়োগ করেছেন, তবে এটা ঠিক যে তার অনুপস্থিতি গভীরভাবে অনুভূত হবে। একজন সামরিক নেতা ছাড়াও তিনি ব্যতিক্রমভাবে রাজনৈতিক নেটওয়ার্কিংয়ে একজন প্রতিভাধর ব্যক্তি ছিলেন। অসাধারণ ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব তাকে অন্যদের থেকে সব সময় আলাদা করে রেখেছিল। এ ধরনের ব্যক্তির জন্ম খুবই বিরল ঘটনা। তেহরান তার অনুপস্থিতি পদে পদে অনুভব করবে। তার মৃত্যুর ফলে বিশেষত, বাগদাদে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে তেহরানের প্রভাবিত করার ক্ষমতা নিঃসন্দেহে হ্রাস পেয়েছে। এটি এখন বলার অপেক্ষা রাখে না যে তেহরান এ হত্যাকাণ্ডের ভয়ংকর প্রতিশোধ নেবে।

বিগত চার দশকের ইতিহাস বলে যে যুদ্ধের ব্যাপারে ইরানের খুব একটা আগ্রহ নেই। দেশটি মোটামুটি যুদ্ধবিরোধী বলে পরিচিত। তবে এখন পরিস্থিতি যে আর আগের মতো নেই, তা বলাই বাহুল্য। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশন গার্ডস কোরের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল আলী ফাদাভি বলেছেন, ‘আমেরিকানদের উচিত হবে একটি গুরুতর প্রতিশোধের জন্য অপেক্ষা করা; প্রতিশোধ কেবল ইরানই নেবে না, বিরাট ভৌগোলিক অঞ্চলজুড়ে থাকা দুর্দান্ত প্রতিরোধ ফ্রন্ট প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত এবং তা নিশ্চিত ঘটবে।’ আলী ফাদাভি বলেন, ‘উপযুক্ত সময়ে এবং সর্বোত্তম পদ্ধতিতে এই প্রতিশোধ নেওয়া হবে এবং শিগগিরই আমরা দেখতে পাব যে আমেরিকানরা এই অঞ্চলে আর নেই।’

ওপরের মন্তব্যগুলোতে বোঝা যায় যে সোলাইমানি হত্যার বিষয়ে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে নিশ্চিতভাবে ভয়াবহ এবং তাদের উদ্দেশ্য হলো মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো, যাতে করে তারা বেশি সংখ্যায় হতাহত হয়। এতে করে যা হতে পারে তা হলো ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার লক্ষ্যকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

ইরানের পছন্দ হলো একটি অসম যুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাওয়া। তেহরান এই অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের চেয়ে কম কিছু করতে চাইবে না। একটা সর্বাত্মক যুদ্ধ হতে চলেছে, যেখানে কিনা যুদ্ধের স্বীকৃত সব নিয়মকানুনকে অবজ্ঞা করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন