ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

ভারতের পণ্য ট্রান্সশিপমেন্টে প্রস্তুত চট্টগ্রাম বন্দর

মতবিনিময় সভায় জুলফিকার আজিজ

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৮ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভারতের মালামাল ট্রান্সশিপমেন্ট পরিবহনের জন্য বন্দর প্রস্তুত রয়েছে। সেই সক্ষমতা বন্দরের আছে। ট্রান্সশিপমেন্টের জাহাজ যখন আসবে হ্যান্ডলিং করা যাবে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভারতের পণ্যবাহী জাহাজ ভিড়ার (বার্থিং) বিষয়টি দুই সরকারের চুক্তির ধারার ওপর নির্ভর করবে। চলতি জানুয়ারি মাসে বন্দর দুইটি ট্রায়াল রান করবে কলকাতা বন্দরের সাথে ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য পরিবহনে সুবিধা-অসুবিধা দেখার জন্য। তবে নিয়মিত ট্রান্সশিপমেন্ট নির্ভর করবে ব্যবসায়ীরা কখন থেকে কার্গো দিতে পারছে তার ওপর। ট্রান্সশিপমেন্ট পরিবহন বাবদ সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ আদায় করবে চট্টগ্রাম বন্দর।

গতকাল মঙ্গলবার ‘বন্দর ভবন’র কনফারেন্স রুমে মতবিনিময় সভায় ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা প্রদান প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, বন্দরের দায়িত্ব হচ্ছে পণ্য নিয়ে জাহাজ এলে হ্যান্ডলিং করা। ট্রান্সশিপমেন্টের পণ্য একটি নির্দিষ্ট ইয়ার্ড বা টার্মিনালে থাকবে। এরপর ট্রাকে করে এসব কার্গো নির্দিষ্ট গন্তব্যে চলে যাবে।
লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার পরিবহনের পরিমান বৃদ্ধি পেয়ে গত বছর ২০১৯ সালে ৩০ লাখ ৮৮ হাজার টিইইউস-এ উন্নীত হয়েছে। কন্টেইনারে প্রবৃদ্ধির হার ৬.৩৪ শতাংশ। খোলা সাধারণ কার্গো উঠানামা হয়েছে ১০ কোটি ৩০ লাখ মেট্রিক টন। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৭.০৩ শতাংশ। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে এ পরিসংখ্যান চট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ বছর মেয়াদি প্রক্ষেপণকে (পূর্বাভাস) ছাড়িয়ে গেছে। এখন বন্দরের ইয়ার্ডে ৫০ হাজার কন্টেইনার মজুদ রাখা সম্ভব হচ্ছে।

রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ আশাবাদ ব্যক্ত করেন, মুজিব বর্ষে চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ৪ লাখ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যে নির্মাণাধীন পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু করা যাবে। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ৫২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পরিকল্পনাধীন বে-টার্মিনাল নির্মাণ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা তিনগুণ বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, পিসিটি’র ৬শ’ মিটার জেটি-বার্থে ১৯০ মিটার লম্বা ও সাড়ে ১০ মিটার ড্রাফটের ৩টি কন্টেইনার জাহাজ এবং ২২০ মিটার লম্বা তেলবাহী জাহাজ ভিড়ানো যাবে। ব্যাকআপ ইয়ার্ড থাকবে ১৬ একর। পিসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি তথা ক্রমবর্ধমান প্রবৃদ্ধি সামাল দিতে অগ্রণী ভ‚মিকা রাখবে।

বে-টার্মিনাল বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ৬৭ একর ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন বুঝিয়ে দিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইয়ার্ড, ট্রাক টার্মিনাল ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। প্রকল্পের বাকি ৮০৩ একর খাস জমি বরাদ্দের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। ওই জমি জেলা প্রশাসন থেকে সহসা বন্দরকে হস্তান্তর করা হবে। বে-টার্মিনালে ২০২৫ সালের মধ্যে দেড় হাজার মিটার দীর্ঘ মাল্টিপারপাস টার্মিনাল এবং ১২২৫ ও ৮৩০ মিটার দীর্ঘ ২টি কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এটি নির্মিত হলে বড় আকারের জাহাজ দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ভিড়ানো সম্ভব হবে।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ২০২৫ সালের পর চট্টগ্রাম বন্দরে কোন ট্রাক থাকবে না। বন্দরের সাথে বে-টার্মিনালের সংযোগ সড়ক হবে। এতে ৮শ’ ক্যাপাসিটির ট্রাক টার্মিনাল হবে। তিনি জানান, বন্দর স¤প্রসারণ করার পাশাপাশি মীরসরাইয়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরকে সাপোর্ট দিতে সীতাকুণ্ডে আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ চলছে। চট্টগ্রাম বন্দর সীমা (পোর্ট লিমিট) আগেকার ৭ নটিক্যাল মাইল থেকে বর্তমানে ৫০ নটিক্যাল মাইলে উন্নীত হয়েছে। এরফলে বন্দরের নৌসীমা ৬ গুণ বেড়েছে।

কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা, দখল-দূষণ প্রসঙ্গে বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলমান প্রক্রিয়া। অভিযান চলমান থাকবে। এ পর্যন্ত ৩০ শতাংশ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপের উচ্ছেদ অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আরও ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কর্ণফুলী নদীর সদরঘাট থেকে বাকলিয়া চর পর্যন্ত ‘ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক প্রকল্পটি শত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, মাতারবাড়িতে পোর্ট নির্মাণ ও এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলছে। চট্টগ্রাম বন্দর আইএসপিএস কমপ্লায়েন্স পোর্ট যা পোর্ট সিকিউরিটি লেভেল-১ বজায় রেখে চলেছে। বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, গেট এন্ট্রি সিস্টেম পূর্বের তুলনায় আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ হিসেবে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারে এ বন্দরের ভ‚মিকা রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের মোট বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ এবং কন্টেইনারবাহী পণ্যের ৯৮ শতাংশ পরিবহন করা হয়। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগই সামাল দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। কন্টেইনার ওঠানামায় নতুন রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। আগামীর বন্দর হতে যাচ্ছে আরও আকর্ষণীয়, সমৃদ্ধ এবং বেশি কার্যকর। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম বন্দর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তথা কেপিআই। বন্দর নিরাপদ থাকলে বিশ্বে শীর্ষ বন্দরসমূহের সারিতে পৌঁছানো সময়ের ব্যাপার মাত্র। এজন্য নিরাপত্তাকে সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম, কমডোর শফিউল বারী, ক্যাপ্টেন মহিদুল হাসান, পরিচালক (প্রশাসন) মমিনুর রশীদ, সচিব মো. ওমর ফারুক, পরিচালক (পরিবহন) মো. এনামুল করিম প্রমুখ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন