ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা নিরসনের আহŸান জানিয়ে ওয়াশিংটনসহ সারাদেশে বিক্ষোভ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওই দেশটির সঙ্গে যুদ্ধে না জড়াতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি আহŸান জানিয়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। চলতি সপ্তাহের গোড়ার দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ সত্তে¡ও বুধবার (৮ ডিসেম্বর) ওয়াশিংটনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করে। আর এর পরেরদিন সারাদেশে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ট্রাম্পের নির্দেশে গত ৩ জানুয়ারি ইরাকের রাজধানী বাগদাদে বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) কুদস বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। এই হামলার ‘মারাত্মক প্রতিশোধ’ হিসেবে বুধবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ইরাকের মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। এরপর ওয়াশিংটন-তেহরান উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।
এমন বাস্তবতায় গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনসহ সারাদেশে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ করেছে শত শত মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে তীব্র শীত উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেয়। ‘নো ওয়ার উইথ ইরান’সহ নানা যুদ্ধবিরোধী শ্লোগান দেয় তারা।
ডান গাজেউস্কি নামের এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, গত ৭০ থেকে ৭০ বছরে ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ক্রমাগত আমাদেরকে তাদের বিরোধী করে চলেছে। দিনকে দিন পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই’কে জানিয়েছেন, ‘তেহরান এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী না। আমরাই কয়েক দশক ধরে এটা তৈরি করেছি। এটার অবসান হওয়া দরকার।’
যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের সামনে এই বিক্ষোভ এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যখনে ভেতরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা কমাতে ভোট দিচ্ছিলেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা। ডেমোক্র্যাট দলের আইনপ্রণেতা রাশিদা তালিব, ইলহাম ওমর, প্রমিলা জয়পাল ও বারবারা লিসহ অনেকে ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।
ওমর বলেছেন, ‘আমরা জানি এটা কখন যুদ্ধ ও শান্তির বিষয় হয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠবে। যখন এটা রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক অবস্থায় থাকে তখন এটা নিয়ে কথা বলতে দেরি করা উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধের মানসিক সমস্যায় কেবল সৈনিক বা যুদ্ধক্ষেত্রের মানুষ আক্রান্ত হয় না, জানালা দিয়ে আসা বোমায় বিছানায় থাকা শিশুরাও আক্রান্ত হয়।’ আর তালিব মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ট্রাম্পের নীতিহীন ও অসাংবিধানিক কার্যক্রমই বৈশ্বিক অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।’
বিলাল আসকারিয়ার নামের এক বিক্ষোভকারী বলেছেন, আমি আফগানিস্তান থেকে এসেছি; আমি যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুত ও সহিংসতার প্রভাব জানি। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সারমিক সংশ্লিষ্টতা থেকে ভাল ফল আসবে না। এখন সময় প্রতিবেশী ও সারাবিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া।’ ইরাক থেকে যাওয়া বাকির মোহি আল দ্বীন নামের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট, ইরাক ছাড়ুন, ইরান ছাড়ুন। আমাদের আরও মৃত্যুর প্রয়োজন নেই। আমরা আর বিভক্ত হবো না।’
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নয় এই ব্যানারে অনেকগুলো সংগঠন এই বিক্ষোভে অংশ নেয়। তাদের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা ইরাক, আফগানিস্তান, ইয়েমেন ও বৈশ্বিক সীমাহীন যুদ্ধ থেকে শিক্ষা নিয়েছি। আমরা আরেকটা যুদ্ধে জড়িয়ে আর বিভক্ত হতে চাই না।’ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভকারী লরা অ্যাটউড বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ খুবই বিপজ্জনক এবং এটা অপ্রয়োজনীয়। কেবল যারাই এই যুদ্ধ বন্ধ করতে পারেন, কংগ্রেসে তাদের এই যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের জন্য আহŸান জানাই।’
ইরানের হামলার পর গত বুধবার হোয়াইট হাউজে দেওয়া ভাষণে ইরানের ওই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ারও কোনও হুমকি দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ইরান থেমে গেছে; যেটা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ ও বিশ্বের জন্য মঙ্গলজনক।’ তিনি বলেন, ‘ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা বাতিল করার মাধ্যমে সন্ত্রাসের পথ ত্যাগ করে,তাহলে শান্তি স্থাপনেও আমি প্রস্তুত।’ এরপর ওই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন