ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩০ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে কাশ্মীরে

ইন্টারনেটসহ সকল নিষেধাজ্ঞা পর্যালোচনার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১১ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০৩ এএম

যেভাবে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন জায়গায় লাগাতার ১৪৪ ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে তা আসলে ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’। গতকাল মোদি সরকারকে ভর্ৎসনা করে এই কথা বলেছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি ইন্টারনেট-সহ জম্মু-কাশ্মীরে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রশাসনকে এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখা হয়েছে অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে।
অধিকৃত জম্মু-কাশ্মীরে কেন নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে সরকার এ নিয়ে মামলা দায়ের করেন কাশ্মীর টাইমস-এর সম্পাদক অনুরাধা ভাসিন এবং কংগ্রেস সাংসদ গুলাম নবি আজাদ। বিচারপতি এন ভি রামানা, আর সুভাষ রেড্ডি এবং বি আর গাভাইয়ের তিন সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি ছিল গতকাল। এদিন মামলায় ঐতিহাসিক রায় দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ‘যে কোনও গণতান্ত্রিক অধিকারের বৈধ অভিব্যক্তি বা অভিযোগের বিরোধিতা’ লঙ্ঘন আটকাতে যেভাবে জম্মু ও কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সেই বিষয়টি পর্যালোচনা করার জন্যে জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনা করার আদেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলে, তথ্য আদানপ্রদানের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ইন্টারনেট। এবং এটি মত প্রকাশের স্বাধীনতারই একটি অংশ। সুতরাং এ বিষয়ে দ্রæত পর্যালোচনা করতে হবে। শীর্ষ আদালত আরও বলে, অনির্দিষ্ট কালের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ রাখা যায় না। এটা ক্ষমতার অপব্যবহার বলেই মনে করছে তারা। সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে মতবিরোধ ইন্টারনেটে নিষেধাজ্ঞার কারণ হতে পারে না। এটা বাক্স্বাধীনতার অংশ। ইন্টারনেটের উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত প্রশাসনের।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এনভি রামানা বলেন, ‘সংবিধানের ১৯ ধারায় যে মত প্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবাও রয়েছে।’ এই বিষয়টি সাধারণ মানুষকে জানানোর কথাও বলেন বিচারপতি। কারণ অধিকার জানার পরেই তারা আইনত চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে। কারণ ভিন্নমতকে দমন করার জন্য এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা অনন্তকাল চাপিয়ে রাখা যেতে পারে না। তিনি এই প্রসঙ্গে চার্লস ডিকেন্সের বিখ্যাত উপন্যাস ‘আ টেল অফ টু সিটিজ’-এর খানিকটা অংশ উদ্ধৃত করে বলেন, ‘সুরক্ষা ও জনতার স্বাধীনতার মধ্যে সমতা রক্ষা করাই আদালতের উদ্দেশ্য।’ জম্মু-কাশ্মীরেও সাধারণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত করার কথা বলেন তিনি।

এর পাশাপাশি আদালত বলে, সমস্ত নির্দেশ এবং ফোন পরিষেবার উপর নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ১৪৪ ধারার অধীনে যে সব নির্দেশ রয়েছে সরকারকে সেগুলোও প্রকাশ করতে হবে। এমনকি আজকাল বিভিন্ন জায়গার বিক্ষোভ প্রতিরোধেও যেভাবে কেন্দ্রীয় সরকার এই আইনটি প্রয়োগ করছে তা নিয়েও রীতিমতো উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

ইন্টারনেট পরিষেবা সহ জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্ত নিষেধাজ্ঞার নির্দেশকে পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দিয়ে শীর্ষ আদালত বলে, ‘১৪৪ ধারাকে কোনও গণতান্ত্রিক অধিকারের বৈধ মতামত বা অভিযোগ রোধ করার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না। সংবিধান সবসময় বিভিন্ন ধরণের দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশকে স্বাগত জানিয়েছে ... কিন্তু সহিংসতা বা জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে আশঙ্কা এড়াতে কোনওভাবেই দিনের পর দিন ১৪৪ ধারা জারি রাখাকে মেনে নেওয়া যায় না। লাগাতার ১৪৪ ধারা জারি করে রাখা আসলে ক্ষমতার অপব্যবহার ছাড়া আর কিছু নয়।’
প্রসঙ্গত, গত বছরের আগস্ট মাসের ৫ তারিখে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে প্রত্যাহার করা হয় ৩৭০ ধারা। দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয় রাজ্যকে। রাজ্যের এই বিশেষ অধিকার তুলে নেওয়ার পর থেকেই অশান্তির আশঙ্কায় ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। ১৪৪ ধারা জারি ছিল দীর্ঘদিন ধরে। যে কোনও জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়েছে, বন্দি করে রাখা হয়েছে রাজনৈতিক নেতাদের। রয়েছে আরও বহু নিষেধাজ্ঞাও। নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে একাধিক পিটিশন জমা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ দিন ধরে চলা এই অচলাবস্থায় আশার আলো দেখাল সুপ্রিম কোর্ট। এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়ায় আপাতত স্বস্তির হাওয়া জম্মু-কাশ্মীরে। উল্টো দিকে, আদালতের এই নির্দেশ কেন্দ্রের কাছে একটা বড়সড় ধাক্কা বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। সূত্র : এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
Abdur Rahaman ১১ জানুয়ারি, ২০২০, ১:১৬ এএম says : 0
ভারতের কোর্টের চোখ আছে ?? ৫০০ বছরের ইতিহাস মুছে দেওয়া হলো অনুমানের ভিত্তিতে। অনুমানের ভিত্তিতে ভারতের কোর্ট চলে
Total Reply(0)
Jahangir Alam ১১ জানুয়ারি, ২০২০, ১:১৬ এএম says : 0
এতদিনে বুঝলেন।
Total Reply(0)
Md Mahfujur Rahman ১১ জানুয়ারি, ২০২০, ১:১৭ এএম says : 0
কাশ্মীর স্বাধীন হবেই ঈনশাআল্লাহ
Total Reply(0)
MD Naimur Rahman Himel ১১ জানুয়ারি, ২০২০, ১:১৭ এএম says : 0
right
Total Reply(0)
সাকা চৌধুরী ১১ জানুয়ারি, ২০২০, ১:১৭ এএম says : 0
ভারত আজীবন ক্ষমতার ব্যবহার করে আসছে।
Total Reply(0)
তরুন সাকা চৌধুরী ১১ জানুয়ারি, ২০২০, ১:১৮ এএম says : 0
ভারতের জুলুম নিপীড়নের বিরুদ্ধে আল্লাহ জয় দান করো।
Total Reply(0)
ড.এ এইচ এম সোলায়মান ১১ জানুয়ারি, ২০২০, ১:১৯ এএম says : 0
ভারত একটা সন্ত্রাসী রাষ্ট্র, জোর করে কাশ্মীর দখল করে আছে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন