ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

৭২ সালে চট্টগ্রামের পথে বেরিয়ে এ বছর ফিরলেন

সিলেট বিয়ানীবাজারের হারিয়ে যাওয়া হাবিবুর রহমান

ফয়সাল আমীন | প্রকাশের সময় : ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম

ফেসবুকের কল্যাণে নিখোঁজের ৭৮ বছর পর সিলেটের হাবিবুর রহমান ফিরে পেলেন পরিবার। যেন অন্য রকম এক সিনেমার গল্প। ঠিক তেমনই এক গল্পে ব্যবসায়ী হাবিব জীবনে জোয়ার ভাটা শেষে ঠাঁই পেয়েছেন আপন ঠিকানায়। ৪৭ বছর আগে হারিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। এককালে রড-সিমেন্ট ব্যবসায় জড়িত ছিলেন যুবক হাবিবুর রহমান। এখন ৭৮ বছরের বৃদ্ধ। পরিবারকে কাছে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, অশেষ গল্প আশা নিরাশার দোলাচাল ছিন্ন করে অবশেষে সন্তানরাও ফিরে পেয়েছে তাদের বাবাকে। বিয়ানীবাজার মাথিউরা ইউনিয়নের বেজগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন হাবিবুর রহমান। এখন তার পরিবার বসবাস করেন বিয়ানীবাজার পৌর এলাকার কসবা গ্রামে।

পরিবার সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ১৯৭২ সালের প্রথম দিকে বাড়ি থেকে ব্যবসায়ীক কাজে চট্টগ্রামের পথে রওয়ানা হন হাবিবুর রহমান। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। অনেক খোঁজার পরও সন্ধান না পেয়ে হতাশায় কেটেছে প্রায় অর্ধশত বছর তার পরিবার পরিজনের। হাবিবুর রহমানের ৪ ছেলের মধ্যে ২ জন থাকেন লন্ডনে। ছেলেরা বাবাকে ফিরে পাবার আশায় বিভিন্নভাবে খুঁজতে ছিলেন। অবশেষে ফেসবুকে এক ভিডিও ভাইরালের মাধ্যমে গত শুক্রবার বিকেলে হাবিবুর রহমানকে ফিরে পেয়ে আবেগ-আপ্লুত সন্তানরা। প্রায় ২৫ বছর ধরে মৌলভীবাজারের শাহাবুদ্দিন মাজার এলাকায় বসবাস করতেন হাবিবুর রহমান। মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন তিনি। আর ১২ বছর ধরে মৌলভীবাজারের শাহাবুদ্দিন মাজারের পাশের রায়েশ্রী গ্রামের রাজিয়া বেগম নামের (৫০) এক মহিলা বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানকে দেখাশোনা করতেন। রাজিয়া জানান, তিনি ওই লোকের খেদমত করতেন সবসময়। ২২ দিন আগে বৃদ্ধ হাবিবুর রহমানের হাত ভেঙে যায়। প্রথমে তাকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান রাজিয়া বেগম। পরে সেখান থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। ১২ বছর ধরে যে মানুষের খেদমত করে আসছেন রাজিয়া, তাকে এই বয়সে হাসপাতালে কিভাবে ফেলে যাবেন, কিংবা একা একা কিভাবে দেখাশুনা করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না।

পাশের বেডের রোগীর স্বজনদের সাথে গল্প করছিলেন রাজিয়া, বৃদ্ধের বিগত দিনের জীবন নিয়ে। তাদের বাড়িও ছিল বিয়ানীবাজার উপজেলায়। ওই ব্যক্তি হাবিবুর রহমানের একটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন। ওই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হতে থাকে। ভিডিওতে দেয়া হাবিবুর রহমানের ছবি এবং জীবনের অনেক গল্পের মিল দেখে আমেরিকা থেকে বিয়ানীবাজারের এক ব্যক্তি ওই ভিডিও হাবিবুর রহমানের পরিবারের কাছে পাঠান গত বৃহস্পতিবার রাতে। হাবিবুর রহমানের ছবি এবং ভিডিওর মিল দেখে তার ছেলেরা গত শুক্রবার চলে আসেন সিলেট ওসমানী হাসপাতালে। তার ২ ছেলে শাহাব উদ্দিন ও জালাল উদ্দিন কথাবার্তা বলে চিনতে পারেন তাদের হারানো বাবাকে।

এরপর হাবিবুর রহমান নিজেও তার বাড়ির ঠিকানা প্রকাশ করেন। মুর্হূতেই হারানো অতীত বর্তমানে সংযুক্ত ঘটে। বাবাকে পেয়ে আবেগঘন এক পরিবেশের সৃষ্টি হয় গোটা হাসপাতাল জুড়ে। তারা ওসমানী হাসপাতাল থেকে বাবাকে নিয়ে আসেন নগরীর আল-হারামাইন হাসপাতালে। সাথে নিয়ে আসা হয় বাবাকে খেদমত করা রাজিয়া বেগমকেও। তাকেও হাবিবুর রহমানের সন্তানরা চিকিৎসা করাচ্ছেন। পরিবারের অন্যদের মতো দাদাকে ফিরে পেয়ে নাতি কেফায়েত হোসেন অত্যন্ত খুশি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
Abu Sayed ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৮ এএম says : 0
Sobhan Allah, Sobhan Allah, Sobhan Allah
Total Reply(0)
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৮ এএম says : 0
সুদীর্ঘ ৪৮টা বছর!!!
Total Reply(0)
তরুন সাকা চৌধুরী ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৮ এএম says : 0
আল্লাহ্ মেহেরবান! মানুষ মানুষের জন্য আবারো প্রমানীত!
Total Reply(0)
Razu Ahomed ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
বার বার গায়ের লোম কাঁটা দিয়ে উঠেছিল, এটা গল্প-সিনেমার চাইতেও বেশী কিছু। আল্লাহ্‌ ওনাকে দীর্ঘ হায়াত দিক, পরিবার, নাতিনাতনির সাথে হারানো দিনের কিছু অংশ অতিবাহিত করার তৌফিক দিক।
Total Reply(0)
S. M. Abdul Haque ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
শুকুর আলহামদুলিল্লাহ।
Total Reply(0)
MD Rafiqul Islam ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে অশেষ ধন্যবাদ। দোয়া করি আল্লাহ যেন হাবিবর রহমান সাহেবকে শীঘ্রই আরোগ্য দান করেন, আমিন।
Total Reply(0)
MD Ador ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
আমি তো ছবি দেখে ভাবছিলাম বৃটেনের কেউ। .
Total Reply(0)
Fazlul Karim Mina ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৯ এএম says : 0
আনন্দ বেদনার মিশ্রণে এক অসাধারণ মুহুর্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এর সফলতার ফসল।
Total Reply(0)
Taposh Das ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১:০০ এএম says : 0
এটা সামাজিক মাধ্যম- এর ভাল দিক, সামাজিক মাধ্যম এর সদ্ব্যবহার করে একটা পরিবারের আনন্দ -খুশি সবকিছুই প্রাপ্ত হল।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন