ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১২ ফাল্গুন ১৪২৬, ৩০ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

কাশ্মীর ইস্যু জাতিসংঘে উত্থাপনে চীনের সমর্থন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যুটি উত্থাপনে নিজের সিদ্ধান্তের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়ে চীন বলেছে, ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়াস ও ‘কল্যাণকামিতা’ থেকে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। চীন শুক্রবার আরো দাবি করে যে, পরিষদের ‘বেশির ভাগ সদস্যই’ উপত্যকার পরিস্থিতিতে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এই মন্তব্যের এক দিন আগে ভারত দৃঢ়তার সাথে জানায় যে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যুটি উত্থাপনের বেইজিংয়ের সর্বশেষ প্রয়াসটি ব্যর্থ হয়েছে। কারণ ১৫ সদস্যবিশিষ্ট সংস্থাটির বেশির ভাগ সদস্যই এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছে যে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় ইস্যুটি আলোচনার জন্য এটি যথাযথ ফোরাম নয়। পাকিস্তানের সব মওসুমের বন্ধু চীন বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কনসাল্টেশন রুমে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের সময় ‘অন্যান্য বিষয়ের’ আওতায় কাশ্মীর ইস্যুটি উত্থাপনের নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যুটি উত্থাপনে পাকিস্তানের উদ্যোগ কেন চীন সমর্থন করছে, মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এমন প্রশ্নের জবাবে চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াঙ বলেন, চীনের অবস্থান ধারাবাহিক ও পরিষ্কার। এই ইস্যুটি ইতিহাসের রেখে যাওয়া একটি বিরোধ। এটি জাতিসংঘ সনদ, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে হবে।
তিনি বলেন, পাকিস্তানের অনুরোধে নিরাপত্তা পরিষদ ১৫ জানুয়ারি কাশ্মীর ইস্যুটি পর্যালোচনা করে। নিরাপত্তা পরিষদ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা রাজনৈতিক সংলাপ, সংযম প্রদর্শন ও প্রশমনমূলক কাজের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিরসন করার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রাবিশ কুমার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ঘটনাটি সম্পর্কে বলেন, পরিষদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই বলেছে যে, এটি এ ধরনের ইস্যুর জন্য যথাযথ ফোরাম নয়। পাকিস্তান ভিত্তিহীন অভিযোগে এই উদ্যোগ নিয়েছে।
ভারতের বিবৃতিতের জবাবে গেং বলেন, ভারতের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি আমরা জানি। আর আমি যা বলেছি তা চীনের মনোভাব ও অবস্থান। আমি বিশ্বাস করি যে, ভারত তা জানে এবং আমাদের মধ্যে এ নিয়ে যোগাযোগ রয়েছে।
চীন ও ভারতের শীর্ষ নেতারা যখন অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রয়াস চালাচ্ছে তখন ভারতীয়দের মনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কা থাকা সত্তে¡ও চীন কেন জাতিসংঘ নিরপত্তা পরিষদে কাশ্মীর ইস্যুটি উত্থাপন করল, এমন প্রশ্নের জবাবে গেং বলেন, আমরা যেহেতু উত্তেজনা প্রশমনে কাজ করছি, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করছি। এটা করা হয়েছে কল্যাণকামিতা থেকে। অবশ্য ভারতীয় পক্ষ বিষয়টি অন্য দৃষ্টিভঙ্গিতে তা গ্রহণ করেছে, যা ভুল ব্যাখ্যার সৃষ্টি করবে।
ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করা ও একে দ্বিখন্ডিত করার সিদ্ধান্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর চীন এর তীব্র সমালোচনা করেছে। বিশেষ করে লাদাখকে ভারতের কেন্দ্র-নিয়ন্ত্রিত ভূখন্ড করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। চীন লাদাখের বেশ কিছু অংশ দাবি করে আসছে। সূত্র : পিটিআই।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Reaz Ahmed Bhuiyan ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
এতো কিছু করার পর না তুললে ক্ষোভ তৈরি হতো পাকিস্তান এর তাই তুলছে। চীন তোলায় ভারতের ফাটছে । তাই তারা উইঘুর নিয়ে প্রশ্ন তুলছে মনে রাখবেন যারা দাদাগীরি করে তাদের ভুল কোন ভুল নয়। (যেমন রাজার দেশে কেউ রাজার বিরুদ্ধে ভুল বলতে পারে না অন্য দেশের রাজা বাদে) তেমনি দাদাগীরির দাদা আমেরিকা তারা উইঘুর ইসু জাতিসংঘে তুলতে পারে (যেমন এক রাজা আরেক রাজা কে রাজত্ব থেকে থামানোর জন্য নেগেটিভ ইসু কাজে লাগায়) বাট (অন্যান্য দেশ)প্রজারা রাজাদের বিরুদ্ধে লেগে লাভবান হয় না। ভারত উইঘুর ইসু আমেরিকা কে দিয়ে জাতিসংঘে তুলুক । এতে কি হবে হয় মোড়ল মোড়ল মিলে যাবে না হয় উইঘুর কাশ্মীর দুটারই সমাধান হবে। ২য়টা হওয়ার চান্স খুব কম।
Total Reply(0)
মোঃসহেল মোঃসহেল ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
Yes Right Very Good Idea
Total Reply(0)
Md Al Mamun ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
ভারত উইঘুর ইস্যু তুলুক।
Total Reply(0)
Md Rafiqul Islam ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
চীন ওপাকিস্তানের অভিন্ন স্বার্থ হচ্ছে কাশ্মির।তাই চীন কাশ্মির ইসুতে পাকিস্তানে পাশে থাকবে।ভারতে কাশ্মির নিয়ে দুইটি দেশের মোকাবলা করতে হবে।কারন বর্তমানে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে দুইটি বিরাট শক্তি কাজে লাগাচ্ছে।একটি হলো চীনকে দিয়ে সামরিক শক্তি আর অন্যটি হলো আরব কে দিয়ে অর্থনৈতিক শক্তি।এই দুই দিক থেকেই ভারত বেশ চাপে আছে।এরই মধ্যে এর প্রভাব চোখে পড়ছে।
Total Reply(0)
Zamal U Ahmed ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১:২৫ এএম says : 0
এখন পাকিস্তানকেই প্রমাণ করতে হবে বা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে, কাশ্মীর ইস্যু পাক ভারতের দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় সম্ভব নয় তৃতীয় শক্তি/পক্ষ লাগবেই।
Total Reply(0)
Farhana Yasmin ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১:২৫ এএম says : 0
ভারতের উচিৎ উইঘুর বিষয় তোলা এতে আমেরিকার সমর্থন পাবে যেহেতু চীনের সাথে আমেরিকার ও সম্পর্ক এখন দা কুড়াল
Total Reply(0)
ক্ষণিকের মুসাফির ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১:২৬ এএম says : 0
চীন কাশ্মীর নিয়ে কথা বলে ভালো কথা কিন্ত নিজ দেশে উইঘুর মুসলিমদের সাথে কি করছে তা মুসলিমরা ভালো করেই জানে, শুধু সময়ের অপেক্ষা ভারত,আমেরিকা, চীন রাশিয়া কোনটাই ছাড় পাবে না ইনশাআল্লাহ।
Total Reply(0)
Ariful Islam Ariyan ১৯ জানুয়ারি, ২০২০, ১:২৬ এএম says : 0
খুব ভালো কাজ করছে চীন।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন