ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২০, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ২০ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

নতুন টি-সেল আবিষ্কার, ক্যান্সার জয়ের দ্বারপ্রান্তে বিজ্ঞানীরা!

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ জানুয়ারি, ২০২০, ৫:০৬ পিএম

বিজ্ঞানীরা এমন এক ধরনের রোগ প্রতিরোধকারী কোষ (টি-সেল) আবিষ্কার করেছেন যা ক্যান্সার আক্রান্ত কোষকে নিশানা করে তার আক্রমণ ক্ষমতা বা কার্যক্ষমতাকে ধ্বংস করতে সক্ষম। বিজ্ঞানীদের দাবি, টি-সেল ক্যান্সার থেরাপির সাহায্যে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ছাড়াই একাধিক ধরনের ক্যান্সার কোষকেই ধ্বংস করতে সক্ষম।

টি-সেল হল এক ধরণের শ্বেত রক্তকণিকা যা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা ও তার (ইমিউন সিস্টেম) কার্যকলাপের অন্যতম অঙ্গ। এই টি-সেল শরীরে প্রবেশ করা ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া বা ছত্রাকের সংক্রমণকে প্রতিহত করে আমাদের সুস্থতা বজায় রাখে।

কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির একটি গবেষক দল একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন যার ফলে ফুসফুস, ত্বক, লিউকেমিয়া, কোলন, স্তন, প্রোস্টেট, বোন, কিডনি, জরায়ু এবং ওভারিয়ান ক্যান্সারগুলো ধ্বংস করা সম্ভব হবে। নেচার ইমিউনোলজি জার্নালে তাদের এই গবেষণা প্রকাশ হয়েছে। বিজ্ঞানীরা কৃত্তিম উপায়ে এই রোগ প্রতিরোধকারী টি-সেল বা শ্বেত রক্তকণিকার সংখ্যা বাড়িয়ে সেগুলিকে ক্যান্সারের টিউমার বা ক্যান্সার কোষকে (ম্যালিগন্যান্ট টিউমার) ধ্বংসের উদ্দেশ্যে চালিত করছেন। এর ফলে কেমোথেরাপি ছাড়াই ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করা সম্ভব।

বিজ্ঞানীরা রক্ত থেকে শ্বেত কণিকা (টি-সেল) সংগ্রহ করে সেগুলিকে পরীক্ষাগারে কৃত্তিম উপায়ে বিভাজিত ও বৃদ্ধি ঘটাচ্ছেন। এর পর ওই কোষগুলির জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে সেগুলিকে এমন ভাবে চালিত করছেন, যাতে কৃত্তিম ভাবে তৈরি ওই কোষগুলি শুধুমাত্র ক্যান্সার কোষকেই ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে চালিত হয়।

বিজ্ঞানীরা নতুন ধরনের এই কোষগুলির নাম দিয়েছেন এমআর-১। তবে এখনও পর্যন্ত এটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়েই রয়েছে। এখনও পর্যন্ত পরীক্ষাগারেই ইঁদুর বা মানব কোষের উপর প্রয়োগ করা হয়েছে এই বিশেষ টি-সেল। পরীক্ষা সফলও হয়েছে। সরাসরি মানুষের উপর প্রয়োগের জন্য আরও কয়েক ধাপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষক অধ্যাপক অ্যানড্রু সিওয়েল বিবিসিকে বলেছেন ‘এটাতে সব রোগিকে চিকিৎসা করার একটা সুযোগ রয়েছে।’ তিনি জানান, আগে কেউ বিশ্বাস করেনি এটা সম্ভব হতে পারে। একটা কোষ দিয়ে সব ক্যান্সারের চিকিৎসার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। যেটাকে ইংরেজিতে বলে ‘ওয়ান ইজ ফিটস্‌ অল।’

টি-সেলের ‘রিসেপ্টর’ আছে। রিসেপ্টর হল একটা সেল বা কোষ যেটা আলো, তাপ বা অন্যান্য উদ্দীপক বস্তুর প্রতিক্রিয়া পাঠাতে পারে। এর ফলে তারা রাসায়নিকের মাত্রাটা দেখতে পারে। কার্ডিফের এই গবেষক দলটি রক্তের এই টি-সেল এবং তার রিসেপ্টর আবিষ্কার করেছে যেটা দিয়ে পরীক্ষাগারে বৃহৎ পরিসরে ক্যান্সারের সেল আবিষ্কার করা এবং ধ্বংস করতে পারে। এই নির্দিষ্ট টি-সেলের রেসেপ্টর এমআরওয়ান নামে একটা অণুর সাথে মিথস্ক্রিয়া করানো হয়েছে যেটা মানুষের শরীরের প্রত্যেক সেলের উপরিভাগে থাকে।

টি-সেল থেরাপি আগে থেকেই রয়েছে। তবে ক্যান্সার প্রতিরোধক থেরাপির উন্নয়ন এই ক্ষেত্রে অন্যতম উত্তেজনাকর অগ্রগতি। অতি বিখ্যাত উদাহরণ হল সিএআর-টি। এটা হল একটা জীবিত ওষুধ যেটা রোগির টি-সেল খুঁজে বের করবে এবং ধ্বংস করবে। সিএআর-টি'র একটা নাটকীয় ফলাফল হতে পারে, যার ফলে যে রোগি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে পারতো তাকে আগেই পুরোপুরি সারিয়ে তুলবে। যাইহোক, এর লক্ষ্য ছিল খুবই নির্দিষ্ট এবং যেটা সীমিত সংখ্যার ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কাজে লাগে।

অন্যদিকে টি-সেলকে প্রশিক্ষণ দেয়ার একটা পরিষ্কার লক্ষ্য আছে যাতে ক্যান্সার ধরতে পারে। এবং এটা ব্লাড ক্যান্সার বা লিউকেমিয়াতে যতটা সফলতা পেয়েছে টিউমার থেকে যে ক্যান্সার হয় সেটাতে সফলতা আনতে ততটাই হিমশিম খাচ্ছে। গবেষকরা বলছেন তাদের টি-সেল রিসেপ্টর সার্বজনীন ক্যান্সারের চিকিৎসার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বাসিলের দুইজন গবেষক লুসিয়া মোরি এবং জিনারো ডি লিভেরো বলছেন এই গবেষণার ‘বড় সম্ভাবনা’ আছে। কিন্তু এটা এতটাই প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে যে এটা সব ক্যান্সারে কাজ করবে সেটা এখনি বলা যাচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি, নিউজউইক।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন