ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ

দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশেই প্রথম

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

দেশবাসীর জন্য মুজিববর্ষের প্রথম উপহার হলো ই-পাসপোর্ট। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সর্ব প্রথম নাগরিকদের জন্য ই-পাসপোর্ট চালু করলো। আগে থেকেই ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে প্রশাসনের যাবতীয় কাজকর্ম করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মুজিববর্ষের প্রথম উপহার ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট (ই-পাসপোর্ট)। এখন আর অতীতের ন্যায় গলাকাটা পাসপোর্ট থাকবে না। ফলে মানুষ ধোঁকায় পড়বে না। দক্ষিণ এশিয়ায় আমরাই প্রথম ই-পাসপোর্ট শুরু করলাম। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ আরও একধাপ এগিয়ে গেলো। গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিনি ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন সেবাকে যুগোপযোগী করতে ই-পাসপোর্ট প্রদান শুরু করলাম। ই-পাসপোর্টের সঙ্গে ই-গেটও সংযোজিত হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট ও ই-গেট সংযোজিত হলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সেবা সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে। বাংলাদেশের জনগণের হাতে ই-পাসপোর্ট পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে জাতির পিতার সোনার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আরও একটি মাইলফলক স্পর্শ করা হলো।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের সব উদ্যোগকে ডিজিটাল কার্যক্রমে রূপান্তরিত করেছে। দেশের অভ্যন্তরে ৬৪টি জেলায় ৬৯টি পাসপোর্ট অফিস, ৩৩টি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট, বিদেশস্থ ৭৫টি বাংলাদেশ মিশনের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট, ভিসা ও ইমিগ্রেশন সেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে আমাদের সরকার রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন সুখে এবং শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে জন্য আমরা ডেল্টাপ্লান ২১০০ ঘোষণা করেছি। ১০০ বছর পর এ দেশের মানুষ কেমন দেশ পাবে সে পরিকল্পনাও আমরা প্রণয়ন করেছি। দেশের মানুষের কল্যাণেই এই সব পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য ১৯৯৬ সাল থেকে আমরা কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলাম। তখন শেষ করতে পারিনি। পরে ক্ষমতায় এসে সেগুলো করেছি। আজকে প্রায় সমগ্র বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেব দিতে সক্ষম হয়েছি। আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞানসম্পন্ন শিক্ষিত জাতি হিসেবে বাংলাদেশ যেন গড়ে উঠতে পারে সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জনগণ আমাদের সঙ্গে ছিলেন বলেই আমরা এতকিছু করতে পেরেছি।

বিশ্বের ১১৮টি দেশে চালু রয়েছে ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোট। ওই দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও প্রবেশ করলো ই-পাসপোর্ট যুগে। নিরাপত্তা চিহ্ন হিসেবে ই-পাসপোর্টে থাকবে চোখের মণির ছবি ও আঙুলের ছাপ। আর এর পাতায় থাকা চিপসে সংরক্ষিত থাকবে পাসপোর্টধারীর সব তথ্য। ফলে পরিচয় গোপন করা সম্ভব হবে না।

দেশে ডিজিটাল বিপ্লব হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরই তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রতমুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি বলেন, সেই নির্বাচনী ইশতেহারেই আমরা ঘোষণা দিয়েছিলাম বাংলাদেশ হবে ডিজিটাল বাংলাদেশ। কারণ কম্পিউটার শিক্ষা বা ডিজিটাল ডিভাইস যেন বাংলাদেশের মানুষ ব্যবহার করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ, অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, আদালত-সকল ক্ষেত্রেই আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করি, কম্পিউটার-ল্যাপটপ জনগণের কাছে সহজলভ্য করার জন্য এসব যন্ত্রাংশ থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করি। যার সুফল আজকে আমরা পাচ্ছি। দেশে একটা ডিজিটাল বিপ্লব সাধিত হয়েছে।

ইন্টারনেটের জন্য সাড়ে ৩ হাজার ইউনিয়নে সাবমেরিন কেবল সুবিধা পৌঁছে দেয়া, মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ এবং নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে জনগণকে পরিচয় করিয়ে দেয়ায় তার সরকারের উদ্যোগ।
স্বল্পতম সময়ে ই-পাসপোর্ট চালুর উদ্যোগ গ্রহণে এবং এর আগে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট চালু করায় ইমিগ্রেশন এবং পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা একেকবার নতুন প্রযুক্তি নিয়ে আসছি এবং সেটা যে তারা কার্যকর করতে পারছেন এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

বাংলাদেশকে উচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে তার সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন পদ্ধতি আমরা গ্রহণ করেছি। যার সুযোগটা দেশের মানুষ পাবে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরাও পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন সেবাকে যুগোপযোপী করতে ই-পাসপোর্ট প্রদান করতে যাচ্ছি। যাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আর হয়রানির শিকার না হন। তিনি আরো বলেন, ই-পাসপোর্টের সঙ্গে ই-গেটও সংযোজিত হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট ও ই-গেট সংযোজিত হলে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট সেবা সহজ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হবে। জাতির পিতা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণকালে ১৯৭৩ সালে পূর্নাঙ্গ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর জাতির ভাগ্যাকাশে অন্ধকার নেমে আসে এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি থেমে গিয়ে হত্যা-ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, সকল উন্নয়ন কাজের সময় আমরা একটা বিষয় মাথায় রাখি, এর সুফল যেন একেবারে গ্রামের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছায়। সরকারের এসডিজি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের জন্য আমাদের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশের জন্য যা যা প্রযোজ্য সেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করে আমরা বাস্তবায়নেও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। একটি লক্ষ্য স্থির করে দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্যই পরিকল্পনা মাফিক তার সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জার্মান সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। জার্মানির প্রযুক্তি নিয়ে জিটুজির মাধ্যমে বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের কাজ হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট শুরু হওয়া ফলে সেবার মান আরো বাড়বে। এতে জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হবে। এর জন্য বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে ই-গেট স্থাপন হবে। ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট পেরিয়ে যাওয়া ই-পাসপোর্টধারী ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমিগ্রেশন শেষ করতে পারবেন। এতে সময় ও ভোগান্তি কমবে।

যেভাবে পাসপোর্ট করবেন : দেশে ৭১টি পাসপোর্ট অফিস রয়েছে। প্রতিদিন এসব অফিসে প্রায় ২০ হাজার নতুন পাসপোর্ট ও নবায়নের আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ঢাকার আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা ও কেরানীগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসে জমা পড়ে গড়ে চার হাজার আবেদন। সাধারণ পাসপোর্টের জন্য ফি জমা দিতে হয় তিন হাজার ৪৫০ টাকা এবং জরুরি পাসপোর্টের জন্য দিতে হয় ছয় হাজার ৯০০ টাকা।

২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত এক কোটি ৯৬ লাখ সাত হাজার ৬৬৬টি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও ছয় লাখ ২৬০টি মেশিন রিডেবল ভিসা (এমআরভি) মুদ্রণ করা হয়েছে। মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট বা এমআরপি হচ্ছে এমন একটি পাসপোর্ট যাতে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য জলছাপের মাধ্যমে ছবির নিচে লুকায়িত থাকে। একই সঙ্গে এতে থাকে একটি মেশিন রিডেবল জোন (গজত), যা পাসপোর্ট বহনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য বিবরণী ধারণ করে। এমআরজেড লাইনে লুকায়িত তথ্য শুধু নির্দিষ্ট মেশিনের মাধ্যমে পড়া যায়।

এমআরপির নির্ধারিত ফরম পূরণ করে ব্যাংকে পাসপোর্টের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে ব্যাংক ভাউচার আবেদন ফরমের সঙ্গে যুক্ত করে আবেদন করতে হয়। সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাষিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী, সরকারি চাকরিজীবীদের নির্ভরশীল স্বামী-স্ত্রী এবং তাঁদের ১৫ বছরের কম বয়সের সন্তানদের জন্য একটি ফরম ও অন্যদের ক্ষেত্রে নতুন পাসপোর্টের জন্য দুই কপি ফরম পূরণ করে জমা দিতে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক টেকনিক্যাল সনদসসূহের (যেমন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ড্রাইভার ইত্যাদি) সত্যায়িত ফটোকপি জমা দিতে হয়। ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিটি বিভাগীয়/আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক নাগরিক, অসুস্থ ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী নাগরিকদের জন্য আলাদা কাউন্টারে আবেদন করার ব্যবস্থা রয়েছে।

২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ই-পাসপোর্ট চালুর ঘোষণা দেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর ‘ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় ২০১৮ সালের জুলাইতে জার্মানির সঙ্গে জি টু জি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ই-পাসপোর্ট যুগে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল প্রধানমন্ত্রীকে ই-পাসপোর্ট হস্তান্তর করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান, জার্মান দূতাবাস ঢাকার রাষ্ট্রদূত পিটার। ই-পাসপোর্টের প্রকল্প পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান খান, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদ। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য শেষে ই-পাসপোর্ট ভবনের শুভ উদ্বোধন করেন। অধিদপ্তর ও জার্মান দ‚তাবাসের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার দেয়া হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।

ই-পাসপোর্ট করতে খরচ
তিন ধরনের ফি’র বিধান রেখে ই-পাসপোর্টের (ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট) ফি নির্ধারণ করেছে সরকার। ই-পাসপোর্টের আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সত্যায়ন করতে হবে না। এমনকি ছবি সংযোজন ও তা সত্যায়ন করারও দরকার হবে না। তবে পাসপোর্ট পেতে থাকতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি। ই-পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদকাল, বিতরণের ধরন অনুসারে ভ্যাট ছাড়া সর্বনিম্ন ফি তিন হাজার ৫০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ফি ১২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে পাসপোর্টের জরুরি ফি ভ্যাটসহ তিন হাজার ৪৫০ টাকা এবং অতি জরুরি ফি ভ্যাটসহ ছয় হাজার ৯০০ টাকা। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ হবে পাঁচ ও ১০ বছর। পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যাও হবে দুই ধরনের, ৪৮ ও ৬৪ পৃষ্ঠা। নতুন আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বিতরণের পদ্ধতি তিন ধরনের সাধারণ, জরুরি ও অতি জরুরি। দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে এবং অন্যান্য তথ্য সঠিক থাকলে পাসপোর্ট পাওয়া যাবে ২১ কর্মদিবসের মধ্যে। জরুরিভাবে পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দিলে এবং অন্যান্য তথ্য ঠিক থাকলে ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট দেওয়া হবে। অতি জরুরি পাসপোর্ট ৭২ ঘণ্টা বা ৩ দিনের মধ্যে দেয়া হবে। এ ক্ষেত্রে পাসপোর্টের আবেদনকারীকে নিজ উদ্যোগে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ সংগ্রহ করে আবশ্যিকভাবে আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে। তবে পুরনো অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নবায়নের ক্ষেত্রে জরুরি পাসপোর্ট দুই দিনে, জরুরি পাসপোর্ট তিন দিনে এবং সাধারণ পাসপোর্ট সাতদিনের মধ্যে দেয়া হবে।

ই-পাসপোর্ট কী?
বর্তমানে এমআরপি বা যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্টের মতো ই-পাসপোর্টের বইও একই রকমের থাকবে। তবে যন্ত্রে পাসপোর্টের বইয়ে প্রথমে যে তথ্য সংবলিত দুইটি পাতা থাকে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। সেখানে বরং পালিমানের তৈরি একটি কার্ড ও অ্যান্টেনা থাকবে। সেই কার্ডের ভেতরে চিপ থাকবে, যেখানে পাসপোর্ট বাহকের সব তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ডাটাবেজে থাকবে পাসপোর্টধারীর তিন ধরনের ছবি, ১০ আঙ্গুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ। ফলে যেকোনো দেশ সহজেই ভ্রমণকারীর সম্পর্কে সব তথ্য জানতে পারবেন।

ই-পাসপোর্টের সুবিধা
ই-পাসপোর্টের সুবিধা হলো যে, খুব দ্রুত ও সহজে ভ্রমণকারীরা যাতায়াত করতে পারবেন। ই-গেট ব্যবহার করে তারা যাতায়াত করবেন। ফলে বিভিন্ন বিমানবন্দরে তাদের ভিসা চেকিংয়ের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হবে না। এর মাধ্যমে দ্রুত তাদের ইমিগ্রেশন হয়ে যাবে। তবে যখন একজন ভ্রমণকারী ই-পাসপোর্ট ব্যবহার করে যাতায়াত করবেন, সঙ্গে সঙ্গে সেটি কেন্দ্রীয় তথ্যাগারের (পাবলিক কি ডাইরেক্টরি-পিকেডি) সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবে। ই-গেটের নির্দিষ্ট স্থানে পাসপোর্ট রেখে দাঁড়ালে ক্যামেরা ছবি তুলে নেবে। থাকবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট যাচাইয়ের ব্যবস্থাও। সব ঠিক থাকলে তিনি ইমিগ্রেশন পেরিয়ে যেতে পারবেন। তবে কোনো গরমিল থাকলে লালবাতি জ্বলে উঠবে। তখন সেখানে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করবেন। কারো বিরুদ্ধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা থাকলে, সেটিও সঙ্গে সঙ্গে জানা যাবে। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) এই পিকেডি পরিচালনা করে। ফলে ইন্টারপোলসহ বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এসব তথ্য যাচাই করতে পারে। এখানে ৩৮টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য থাকায় এ ধরনের পাসপোর্ট জাল করা সহজ নয় বলে তিনি জানান।

ই-পাসপোর্টেও কী ভিসা নিতে হবে?
প্রচলিত ব্যবস্থার মতো ই-পাসপোটে ক্ষেত্রে ভিসার বিষয়টি একই থাকবে। অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি বা অনলাইনে ভিসার শর্ত পূরণ করেই ভিসা নিতে হবে। ভিসা কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসগুলো এই পিকেডি ব্যবহার করে আবেদনকারীর তথ্য যাচাই করে নিতে পারবে। এরপরে তারা বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার, সিল দিতে পারবে বা বাতিল করে দিতে পারবে।

এমআরপি পাসপোর্টও বহাল
আপাতত ই-পাসপোর্টের পাশাপাশি প্রচলিত এমআরপি পাসপোর্ট ব্যবস্থাটিও বহাল থাকবে। তবে নতুন করে আর কাউকে এমআরপি পাসপোর্ট ইস্যু করা হবে না। বর্তমানে এমআরপি পাসপোর্টধারীরা যখন নবায়ন করতে যাবেন, তখন তাদেরকেও ই-পাসপোর্ট দেয়া হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে সব এমআরপি পাসপোর্ট তুলে নেয়া হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (9)
Khan Mizanur ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৩৮ এএম says : 0
একটা কাথা জিজ্ঞেস করি সকলের কাছে অনুপ্রোবেশ কারিরা কি টাকা দিলে পাসপোর্ট বানাতে পারবে কি না.আর একটা কথা বাহিরের দেশের লোক কতো দিন বাংলাদেশে থাকলে পাসপোর্ট বানাতে পারবে আইডি কার্ড বানাতে পারবে দয়া করে কেউ কি উত্তর দিবেন আমার এই কথার
Total Reply(0)
Dolna Akter ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৩৮ এএম says : 0
আমাদের দেশে যতো কিছু বের হোক এতে সরকারি কর্মচারীদের সুবিধা ঘুষ খাওয়া কমবে না জনগণ হোইরানি এ দেশের লোকের পেশা বলা চলে
Total Reply(0)
Sadek Sadek ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৩৯ এএম says : 0
আলহামদুলিল্লাহ খুব ভাল কাজ তবে পাচফুট করেতে গিয়া যে হয়রানির শিকার হতে হয় সে বেপারে কি বেবছতা নেওয়া হয়েছে এবং নেওয়া হবে মুখেনা বাছতবে জানালে খুশি হব
Total Reply(0)
Kawsar Ahmed ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৪০ এএম says : 0
বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিস গুলো ঘুষ মুক্ত করার জন্য অনুরোধ করছি মাননীয় মন্ত্রী সাহেব কে ,প্রতিটা পাসপোর্ট অফিসেই ঘুষ দিতে হয় ঘুষ ছাড়া কোন কাজ হয়না।
Total Reply(0)
Piklu Karmoker ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৪১ এএম says : 0
আমাদের বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া আমরা কি ঢাকায় গেলে ই- পাসপোর্ট করাতে পারবো
Total Reply(0)
Asad Hossain ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৪১ এএম says : 0
পাসপোর্ট উন্নতি করে কি হবে। অন্য দেশের কথা বাদ দিলাম বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে ই তো বাংলাদেশি পাসপোর্ট এর মূল্যায়ন করে না।
Total Reply(0)
Abdul Jalil ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৪১ এএম says : 0
ভালো উদ্বেগ, তবে বিমানবন্দরে প্রবাসীদের মালামালের নিরাপত্তা চাই। প্রবাসীদের লাগেজ কাটা বন্ধ করুন।
Total Reply(0)
Sadat Hossain ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:৪১ এএম says : 0
যুগের সাথে তাল মিলিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সকল প্রবাসীদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Total Reply(0)
Nizam Uddin ২৩ জানুয়ারি, ২০২০, ১০:৫০ এএম says : 0
Thanks to Awami Leauge Government
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন