ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৫ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

হাসপাতাল থেকে ফিরেই রাজপথে নেমে পড়লেন রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৪৮ পিএম | আপডেট : ৪:৪৮ পিএম, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারণার সময় হামলার শিকার হন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সন্ত্রাসীদের  হামলায় তিনি পায়ে ও হাতে প্রচণ্ড আঘাত পান। তার পায়ে ও হাতে রক্ত ঝরছিল। পরে দ্রুত কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ব্যান্ডেজ করিয়েই অংশগ্রহণ করেন হরতাল কর্মসূচিতে। পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় হরতাল শেষে আবারও ভর্তি হন হাসপাতালে। চিকিৎসা শেষে ফিরেই রুহুল কবির রিজভী আজ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে নেমে পড়েন। তার নেতৃত্বে রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়।  বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তি এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা ও সাজা প্রত্যাহারের দাবিতে আয়োজিত এই মিছিল নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। মিছিলে তাঁতী দলের আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব হাজী মজিবুর রহমান, জাসাস কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম রিপন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা আহসান উদ্দিন খান শিপন, শেখ আব্দুল হালিম খোকন, মেহবুব মাসুম শান্ত, কে এম রেজাউল করিম রাজু, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক কাওসার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মশিউর রহমান রনিসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

মিছিল শেষে এক পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন,
“বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি’র চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাভোগের আজ ৭৩০ দিন। তিনি সাবেক সেনাপ্রধান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সহধর্মীনি। স্বৈরশাসনের যাঁতাকলে দেশে গণতন্ত্র যখনই সংকটাপন্ন হয়েছে, মানুষের বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা যখনই পিষ্ট হয়েছে তখনই বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ‘৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ‘আপোষহীন নেত্রী’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন। দেশের মানুষের নিকট স্মরণকালের জনপ্রিয় এই নেত্রী একাধিকবার প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে দেশ পরিচালনা করেছেন। অথচ এই মহিয়সী নারী বিনা অপরাধে মিথ্যা মামলায় শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে আজ ৭৩০ দিন কারাজীবন অতিবাহিত করছেন।

তিনি বলেন,  ক্ষমতার দম্ভে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বক্ষেত্রে ‘ধরাকে সরা জ্ঞান’ করছে। শুধুৃ ধরাকে সরা জ্ঞান নয়, দেশ পরিণত হয়েছে হীরক রাজার দেশে। হীরক রাজার দেশের মতোই বাংলাদেশের মন্ত্রী-নেতাদের উদ্ভট, অসামঞ্জস্য ও লাগামহীন কথাবার্তা এবং আচরণে দেশবাসী এখন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে বিচার, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে কব্জায় নিয়ে দেশে নব্য বাকশালী শাসন কায়েম করা হয়েছে। ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে দেশকে এক ভয়াল নগরী বানানো হয়েছে। আওয়ামী প্রতিহিংসার রাজনীতির বেড়াজালে দেশ ও দেশের মানুষ এখন কাতরাচ্ছে। বিনা ভোটের সরকার জনগণের ওপর দমন-পীড়ণ চালিয়ে এবং গণতন্ত্রকে তাদের দুশমন হিসেবে গণ্য করে দেশ থেকে বিএনপিসহ সকল বিরোধী দল ও মতকে উধাও করার মাধ্যমে একচ্ছত্র ও এক ব্যক্তির শাসন বলবৎ রাখতে চায়। এই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ‘গণতন্ত্রের মা’ এবং জনগণের অধিকার আদায়ের আশ্রয়স্থল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ সাজানো মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় আদালতের ঘাড়ে  বন্দুক চাপিয়ে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী রাখা হয়েছে। 
রিজভী বলেন, দেশনেত্রীর কারাবন্দীত্ব কেবলমাত্র এক ব্যক্তির হিংসা- প্রতিহিংসার কারণে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে শারীরিকভাবে ভীষণ অসুস্থ। তিনি ক্রমান্বয়ে চলৎশক্তি হারিয়ে ফেলছেন। তিনি অন্যের সাহায্য ব্যতিরেকে প্রাত্যহিক কোন কর্মই সম্পাদন করতে পারছেন না। কিন্তু তাঁকে সুচিকিৎসাটুকুও দেয়া হচ্ছে না। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতা দিনকে দিন চরম অবনতি হতে থাকলেও প্রতিহিংসাপরায়ণ সরকারের ক্রোধের আগুন যেন নিভছেই না।
রিজভী বলেন,  সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা জনগণের আন্দোলন-সংগ্রামকে স্তব্ধ করতেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে চান। শেখ হাসিনা হয়তো ভেবেছেন-জনগণ নয়, ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে জনগণ ও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ণ চালালেই তাঁর ক্ষমতার রাজমুকুট কেউ কেড়ে নিতে সক্ষম হবে না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই-আপনি যত ভয়ঙ্কর ডিক্টেটরই হন না কেন, জনগণের পুঞ্জীভূত ক্রোধ এখন বিস্ফোরন্মেুখ হয়ে আছে। যেকোন সময়  আপনার সরকার ভূতলে শায়িত হবে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন