ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ আশ্বিন ১৪২৭, ০৫ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

জনগণের অভ্যুত্থানে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে- মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৭:৫১ পিএম

জনগণের অভ্যুত্থানেই বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, আমরা অনেক কথা বলেছি, অনেক সভা করেছি, অনেক দাবি জানিয়েছি, নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। এখন আমাদের একটাই কথা- দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হবে। সরকারকে বাধ্য করব, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে জনগণের সমস্ত অধিকার ফিরিয়ে দিতে। এটাই হচ্ছে আমাদের এখন একমাত্র কাজ। আন্দোলনের মধ্য দিয়ে, সমস্ত জনগণের জেগে উঠার মধ্য দিয়ে, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই ভয়াবহ দানবকে পরাজিত করতে হবে এবং মানুষের অধিকারকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

শনিবার (৮ ফেব্রæয়ারি) বিকালে খালেদা জিয়ার কারাবন্দীর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে তার মুক্তির দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল সমাবেশে আগামী ১৫ ফেব্রæয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বলেন, আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে আগামী শনিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল হবে দেশনেত্রীর মুক্তির দাবিতে। আমরা আবার বলছি, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিতে হবে। তা নাহলে আপনাদের (সরকার) কর্মকান্ডের জন্য আপনারাই দায়ী হবেন, জবাবদিহি আপনাদেরই জনগণের কাছে করতে হবে।

বিএসএমএমইউতে চিকিসাধীন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে শুধু আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ, এতো অসুস্থ তিনি এখন ঠিকমতো হাটতে পারেন না। তাকে সাহায্য নিয়ে চলতে হয়। তার ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে নেই। তার আর্থারাইটিস বেড়ে গিয়েছে। তিনি ঠিকমতো খেতে পারেন না। কমপক্ষে ৬/৭ পাউন্ড ওজন কমে গেছে।

তিনি বলেন, এই সরকার আইন ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না। তারা নিজেরাই এই সংবিধানকে কেটে-ছেটে তছনছ করে দিয়েছে। মানুষের সমস্ত অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আজকে জনগণের কোনো ম্যান্ডেট ছাড়াই শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তারা ক্ষমতা জোর করে দখলদারির মতো টিকে আছে। এরা জনগণের সরকার নয়। মুক্তিযুদ্ধের ও গণতান্ত্রিক চেতনাকে তারা ধবংস করে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তারা এই দেশকে একটা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এখানকার সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে তছনছ করে দিচ্ছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই, বিচার বিভাগ বলতে কিছু আছে কিনা আমার সন্দেহ হয়। যেদেশের প্রধান বিচারপতিকে বন্দুকের নলে মুখে দেশ থেকে তাঁড়িয়ে দেয়া হয় এবং তাঁড়িয়ে দেয়ার পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় সেখানে বিচার বিভাগ চলতে পারে না। যেদেশে তারেক রহমান একটা আদালতের বিচার বেকুসুর খালাশ দিয়ে দিলেন তখন সেই বিচারককে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয় সেই দেশে ন্যায় বিচার কেউ পেতে পারে না। এভাবে বিচার বিভাগকে ধ্বংস করে দিয়েছে, প্রশাসনকে সম্পূর্ণ দলীয়করণ করেছে।

সদ্য শেষ হওয়া ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, মাত্র ১৫ ভাগ ভোট পেয়ে কোনোদিন মেয়র ও জনগণের প্রতিনিধি হওয়া যায় না। সব নির্বাচনে নিয়ম আছে যদি ৫০ ভাগের নিচে যদি ভোট পড়ে তাহলে সেটাকে নির্বাচন বলে গণ্য করা যায় না। আজকে পরিস্কার করে আমাদের নেতা দাবি করেছেন, নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে দাও। পুনরায় জনগণের ভোটে নির্বাচিত মেয়রদের নির্বাচিত করো।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক দুরাবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন। এদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন, গণতন্ত্রকে কেড়ে নিয়েছেন। অবিলম্বে পদত্যাগ করুন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যত্থায় জনগণের উত্তাল তরঙ্গে আপনারা ভেসে যাবেন।

বিএনপি মহাসচিবের সভাপতিত্বে ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ প্রচার সম্পাদক আমীরুল ইসলাম খান আলিমের পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, শাসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, ফজুলর রহমান, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ধানের শীষের দুই মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন, ঢাকা জেলার খন্দকার আবু আশফাক, ঢাকা মহানগরের কাজী আবুল বাশার, মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু, যুবদলের সাইফুল আলম নিরব, স্বেচ্ছাসেবক দলের শফিউল বারী বাবু, মহিলা দলের আফরোজা আব্বাস, শ্রমিক দলের আনোয়ার হোসেন, কৃষক দলের হাসান জারিফ তুহিন, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাদেক খান, ছাত্রদলের ফজলুর রহমান খোকন বক্তব্য রাখেন। মঞ্চে থাকা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বক্তব্য দেননি।

এছাড়াও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, আতাউর রহমান ঢালী, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শ্যামা ওবায়েদ, বিলকিস জাহান শিরিন, শিরিন সুলতানা, এহছানুল হক মিলন, এম এ মালেক, মীর সরফত আলী সপু, আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, নিপুণ রায় চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের গোলাম সরোয়ার, সাইফুল ইসলাম ফিরোজসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
** হতদরিদ্র দীনমজুর কহে ** ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:৫৩ পিএম says : 0
প্রথমে জাতীয় নেতারা নির্ভেজাল ঐক্যবদ্ধ হোন।কর্মিদের ঐক্যবদ্ধ করুন।জুটঝামেলা মুক্ত আন্দলনের ডাকদিন।আমরন অনশন,স্বেচ্চা কারাবরন,কিংবা রাজপথে অবস্থান কর্মসুচির মতো কঠিন কর্মসুচি পালন করুন।জনগনের জান মালের কোন খতি হয় এমন কর্মসুচি নিবেননা ।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন