ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ০৭ সফর ১৪৪২ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

বাঁশের সাঁকোই ভরসা

আনোয়ারায় জনদুর্ভোগ চরমে

নূরুল আফছার তালুকদার, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) থেকে | প্রকাশের সময় : ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে ৩ গ্রামের ২০ হাজার লোক পারাপার করে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন করছে। উপজেলার ৩নং রায়পুর ইউনিয়নের দলঘাট বখতিয়ার সড়কে মোতালব খালের উপরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে অত্র ইউনিয়নের ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডে তিনটি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার লোক দীর্ঘদিন ধরে পারাপার করছে। আরও কতদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হবে তা কেউ জানে না। ঐ গ্রামে রয়েছে পূর্ব গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্যম গহিরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গহিরা আখতারুজ্জামান চৌধুরী দাখিল মাদরাসা, ফকির হাটসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্র্ণ স্থাপনা। এছাড়াও রয়েছে সবজি ও তরমুজ ফল চাষের অমূল্য সম্পদ। পর্যটকদের দেখার মতো রয়েছে সারি সারি প্যারাবন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিউল আলম জানান, বাঁশের সাঁকো দিয়ে মালামাল বহন করা যায় না। গাড়ি চলাচলের সুবিধা না থাকায় দ্বিগুণ মজুরী দিয়ে মালামাল পারাপার করতে হয়।তাতে সময় যেমন বেশি লাগে, লাভও হয় তেমন কম। এ এলাকার ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চ বিদ্যালয় যাওয়ার পারাপারের একমাত্র পথ হলো বাঁশের সাঁকো। বর্ষা যেন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মরণ ফাঁদ। অনেক কষ্টে তাদেরকে যেতে হয় কাঁদা ও বাঁশের সাঁকো পার হয়ে। রায়পুর ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন এ এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক কষ্ট করে শিক্ষা গ্রহণের জন্য রায়পুর উচ্চ বিদ্যালয়ে আসা যাওয়া করে থাকে। সেতুটিসহ ধলঘাট বখতিয়ার সড়কটি নির্মিত হলে এলাকার ছাত্র-ছাত্রীরাসহ স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই উপকৃত হবে।
অত্র এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলম বলেন, ধলঘাট বখতিয়ার সড়কটিসহ সেতুটি নির্মাণের জন্য কয়েক বছর আগে টেন্ডার হয়। ম্যাক্স নামে একটা ঠিকাদারী প্রতিষ্টান কাজটি পায়।
কাজও শুরু করেছেন। বেশকিছু দিন পর কাজ বন্ধ করে ঠিকাদার প্রতিষ্টানটি চলে যাই। বছরের পর বছর চলে গেলেও তাদের আর দেখা মেলেনি। ফলে ৩ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার লোককে এ বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জামিরুল ইসলাম জানান, ১ শ’ ৫০ ফুটের দৈর্ঘ্য এ সেতুটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতার বহির্ভূত হওয়ায় তা এ মন্ত্রণালয় থেকে করা যাচ্ছে না।
স্থানীয় এমপি ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী আগামী বর্ষা মৌসুম পর্যন্ত সময়িকভাবে চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে তার বরাদ্ধ থেকে বরাদ্ধ দিয়ে কষ্ট লাগবের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলেছেন।
এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপদ উন্নয়ন কতৃপক্ষের সাথে মুঠো ফোনে বারবার চেষ্টা করে ও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন