ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৫ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

পুকুর খননেও অনিয়ম

মাগুরায় প্রয়োজন নেই অথচ প্রকল্প

স্টাফ রিপোর্টার, মাগুরা থেকে | প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

মাগুরায় পুকুর খনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজ শেষ হয়নি তার আগেই বরাদ্দের অর্ধেক টাকা তুলে নিয়েছেন ঠিকাদার। পুকুরের চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া, ফুটপাত ও প্রবেশদ্বার তৈরির কথা থাকলেও তা ঠিকমতো এখনো করা হয়নি। তা ছাড়া যেসব এলাকায় সুপেয় পানির অভাব, শুধু সেসব এলাকায়ই এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু মাগুরায় পর্যাপ্ত নলক‚প রয়েছে। তার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ প্রকল্প থেকে সরকারের ২ কোটি ২০ লাখ টাকা গচ্চা দিয়েছেন।
জানা যায়, স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদফতর কর্তৃক জেলার সাতগ্রামে সাতটি পুকুর খনন প্রকল্প হিসেবে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে খনন কার্যক্রম শুরু হয়, যা চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা।
স্থানীয় জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদফতর দফতর থেকে জানা গেছে, এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহই এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি রয়েছে পুকুরের গভীর পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে পানির স্তর ঠিক রাখা এবং ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমাতে উপরিভাগের পানি ব্যবহারে এলাকার মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। প্রকল্পের আওতায় প্রতিটি পুকুরের পানির গভীরতা হবে ৫ মিটার থেকে ৭ দশমিক ৫ মিটার। চারপাশে কাঁটাতারের বেড়ার পাশাপাশি পুকুরের অপব্যবহার রোধে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত করার জন্য থাকবে একটি ফটক। চারপাশে থাকবে হেঁটে চলার ইটের রাস্তা। থাকবে পুকুরপাড় রক্ষার জন্য বেষ্টনী। পুকুরের আকার সর্বনিম্ন ১ হাজার ৫০০ বর্গমিটার থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার বর্গমিটার হতে হবে। প্রকল্পের আওতায় থাকা পুকুরগুলো হচ্ছে মাগুরা সদরের বনগ্রাম, জাগলা, শিবরামপুর, রায়গ্রাম, শ্রীপুরের খামারপাড়া, কল্যাণপুর ও রাজাপুর। এসব পুকুর কার্যত জেলা পরিষদের। এ কারণে গোটা কার্যক্রম তদারকি করার জন্য পুকুর এলাকায় জেলা পরিষদের স্থানীয় সদস্যসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দিয়ে একটি তদারকি কমিটি করা হয়েছে।
জানা যায়, যেসব জেলায় স্যালাইন তথা লবণাক্ত পানির আধিক্য রয়েছে, সেসব এলাকায় এ প্রকল্পের কাজ হওয়ার কথা। সে হিসেবে বাগেরহাটে এ ধরণের পুকুরের সংখ্যা ১৬৫। মাগুরায় স্যালাইন ওয়াটারের আধিক্য নেই। এখানকার মানুষ নলক‚পের মাধ্যমে সুপেয় পানি পানে অভ্যস্ত। এ কারণে তারা এই পুকুরের পানি পান করবে এমন সম্ভাবনা একেবারেই নেই। মাগুরায় পর্যাপ্ত নলক‚প থাকায় খনন করা পুকুরের প্রকৃত লক্ষ্য বুঝতে পারছে না স্থানীয় লোকজন। ফলে এসব পুকুরে মাছ চাষের পাশাপাশি গোসলসহ অন্য ব্যাবহারিক কাজ করছে তারা। অথচ এসব পুকুরে মাছ চাষ কিংবা অন্য ব্যাবহারিক কাজ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাগুরা সদরের শিবরামপুরের পুকুরটির খননকাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। সেই পুকুরে পলাশ নামের স্থানীয় এক যুবক মাছের পোনা অবমুক্ত করেছেন। একই চিত্র দেখা গেছে রাজাপুর, কল্যাণপুর, খামারপাড়া পুকুরেও। শ্রীপুরে রাজাপুরের পুকুরে মাছ চাষ করছেন মোজাহার আলী নামের এক ব্যক্তি। একই উপজেলার কল্যাণপুর পুকুরে মাছ চাষ করছেন সাহেব আলী। রাজাপুরের রফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকেই পুকুরে ময়লা-আবর্জনা ফেলছে। মাছের খাবার দিয়ে বিষাক্ত করছে পানি। আমরা কোনো দিনই পুকুরের পানি পান করি না।
সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ অ্যান্ড বিল্ডার্সের তত্ত¡াবধায়ক আসিফ আল আসাদ বলেন, কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। মাগুরা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পংকজ কুমার কুন্ডু বলেন, ঠিকাদারি জবাবদিহির ক্ষেত্রে আমাদের কথা বলার সুযোগ কম।
শ্রীপুর জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল অধিদফরের উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল হাসনাত কাজল বলেন, সাতটি পুকুরের মধ্যে শ্রীপুরের তিনটির কাজ ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ হয়েছে। সদরের চারটি পুকুরের কাজ গড়ে ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ইতিমধ্যেই বরাদ্দের ৫০ শতাংশ টাকা তুলে নিয়েছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন