ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮ আশ্বিন ১৪২৭, ০৫ সফর ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

সাভারে টাকা দিয়েও চাকরি

পেলনা বিধবা শাহানাজ সাভারে ডেইরী কর্মকর্তার প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার, সাভার : | প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

সাভারে চাকরি দেয়ার কথা বলে প্রতারণা করে এক বিধবা নারীর কাছ থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকাসহ ছয় লাখ চুয়াল্লিশ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের বায়ার অফিসার মো. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে। এছাড়া পাওনা টাকা চাইতে তার বাসায় গেলে ওই বায়ার অফিসার ভুক্তভোগী নারীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে প্রতারণার বিষয়টি উল্লেখ করে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, ঢাকার ধামরাই উপজেলার ডাউটিয়া গ্রামের মৃত নূর হোসেনের মেয়ে বিধবা শাহানাজ বেগম (৩১)। এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে জীবিকার তাগিদে গত দশ বছর আগে সাভারে আসেন। প্রায় তিন বছর ধরে সাভার কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের বায়ার অফিসার মো. শফিকুর রহমান তার অফিসে শাহানাজ বেগমকে অফিস পরিচারিকা হিসেবে সাত হাজার টাকা বেতনে মৌখিক নিয়োগ দেন। এরপর থেকে প্রতিমাসে সে বেতনের টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য কেটে রেখে নগদ তিন হাজার টাকা করে দিতেন তাকে।

সম্প্রতি ডেইরী ফার্মে চুক্তিভিত্তিক লোক নিয়োগ করা হবে জানিয়ে শাহানাজকে সেখানে নিয়োগ দেয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতিমাসে জমাকৃত এক লাখ চুয়াল্লিশ হাজার টাকা ছাড়াও আরও পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বায়ার অফিসার মো. শফিকুর রহমান। তার কথায় রাজি হয়ে বিধবা শাহানাজ বেগম নিজের বাড়ির গরু বিক্রি করে এবং ঋণ করে গত ১১ নভেম্বর নগদ তিন লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ৯ ডিসেম্বর আরও দুই লাখ টাকা দেন শফিকুর রহমানকে। কিন্তু চাকরির জন্য পাওনা টাকাসহ ছয় লাখ চুয়াল্লিশ হাজার টাকা দিয়েও শেষ পর্যন্ত চাকরি মিলেনি বিধবা শাহানাজের। সেখানে অন্য লোকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাকরি প্রদান করে বিধবা শাহানাজকে চাকরি দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেয় বায়ার অফিসার শফিকুর রহমান।

চাকরি না পেয়ে বিধবা শাহানাজ বেগম বায়ার অফিসার মো. শফিকুর রহমানের কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে ঘুরাতে থাকে। একপর্যায়ে গত শুক্রবার সকালে পাওনা টাকা চাইতে শফিকুর রহমানের বাসায় গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয়। চাকরি না দিয়ে টাকা আত্মসাতের বিষয়টি উল্লেখ করে গতকাল বিকেলে আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান বলেন, শাহানাজ বেগম তিন হাজার টাকা বেতনে আমার বাসায় কাজ করতো। এর ফাকে বিভিন্ন সময় প্রয়োজন হলে সে আমার অফিসেও টুকিটাকি কাজ করে দিতো। কিন্তু টাকা নিয়ে তাকে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়টি মিথ্যা এবং সাজানো নাটক বলে দাবি করেন তিনি।
আশুলিয়া থানার ওসি শেখ রিজাউল হক দিপু বলেন, ঘুষ নিয়ে চাকরি দেয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগটি আমরা হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন