ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১০ সফর ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

হিজাব ছিঁড়ে শিক্ষার্থীদের গোপনাঙ্গে পুলিশের লাথি

দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর শারীরিক নির্যাতন করার অভিযোগ তুললেন ভারতের জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, গত ১০ ফেব্রুয়ারি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন এবং এনআরসির বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ মিছিল করে সংসদ ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাদের পথ আটকে অকথ্য নির্যাতন চালায় পুলিশ। মিছিলে সামিল প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের গোপনাঙ্গে লাথি মারে তারা, এমনকী ছিঁড়ে দেয় ছাত্রীদের হিজাবও।

জামিয়ার শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়াল ভারতের রাজধানীতে। দিল্লি পুলিশ অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ‘প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে কোনও বল প্রয়োগ করা হয়নি।’ গত সোমবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ এবং সম্ভাব্য জাতীয় নাগরিকপঞ্জিকরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে সংসদের দিকে রওনা দেয় অসংখ্য প্রতিবাদী। সেই সময় তাদের পথ আটকায় পুলিশ, সেই সময় কয়েকজন জামিয়া প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশের কর্মীদের বাদানুবাদ থেকে হাতাহাতি পর্যন্ত হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন বলেও জানা গেছে। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই তাই গণমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিলেন জামিয়ার প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা । তাদের প্রতিবাদ মিছিল রুখতেই ‘পরিকল্পিত’ ষড়যন্ত্র করে হামলা চালায় দিল্লি পুলিশ, অভিযোগ জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার শিক্ষার্থীদের। একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে কমপক্ষে ২০ জন আহত শিক্ষার্থী তাদের উপর হওয়া পুলিশি হামলার বিবরণ তুলে ধরেন। একজন আহত মহিলা শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ‘যখন আমি দেখলাম আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রকে পুলিশ ব্যাপক মারধর করছে, তখন আমি ওদের সাহায্য করার জন্যে ছুটে আসি। আমি যখন ব্যারিকেড পার হচ্ছিলাম, তখন কয়েকজন মহিলা পুলিশ আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। একজন পুরুষ পুলিশ কর্মী আমার গোপনাঙ্গে লাথি মারলে আমি সেখানেই অজ্ঞান হয়ে যাই।’

অন্য এক ছাত্রী দাবি করেন, ‘পুলিশ কর্মীরা আমার উরুর উপর উঠে দাঁড়িয়ে পড়েন। আমার একটা লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। ওরা আমার হিজাবও ছিঁড়ে ফেলেন, সংবিধানের শিক্ষা দেয়ার কথা বলে এক কোণে নিয়ে গিয়ে আমাকে অকথ্য গালাগাল দেয়া হয়।’ শুধু অভিযোগ নয়, ওই মহিলা শিক্ষার্থীরা তাদের আহত হওয়ার প্রমাণ হিসাবে মেডিকেল রিপোর্টও দেখান এবং পুরুষ শিক্ষার্থীরা আহতদের ছবি তুলে ধরেন সাংবাদিক সম্মেলনে। যদিও পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে দক্ষিণ-প‚র্ব দিল্লির ডিসিপি আরপি মীনা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে করা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা। বরং আমাদেরই কয়েকজন পুরুষ পুলিশ কর্মী হেনস্থার শিকার হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন। প্রতিবাদীদের উপর কোনও বলপ্রয়োগ করা হয়নি।’ সূত্র : এনডিটিভি।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
Mohammad Iqbal ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৩৫ এএম says : 0
মেহেরবান আল্লাহপাক এই জালিমদের জুলুমের বিচার চাই আমিন।
Total Reply(0)
নাইমুল হোসাইন ফাহাদ ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৩৫ এএম says : 0
আল্লাহ খুব সুন্দরভাবে এদের বিচার করবেন।
Total Reply(0)
Towhid Munna ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৩৬ এএম says : 0
চিনের ভয়ংকর অবস্থা দেখেও তোমাদের শিক্ষা হয় না ওরে অমুসলিম আল্লাহ কে ভয় করো,,
Total Reply(0)
Jomadder Mizan ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৩৬ এএম says : 0
TODER CORONA VIRAC KHABE
Total Reply(0)
Khan Monir ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৩৯ এএম says : 0
রাম মন্দির রায় ও সংবিধান সংশোধন যা সাধারণ মুসলমানদের হুমকির মুখে ফেলে দিয়াছে। তার প্রতিফলন হিসাবে ভারত আজকে উত্তাল। যেখানে সব বাধা -বিপত্তি ভূলে সব মানুষ একসাথে এর প্রতিবাদে সরগম। যা সাধারণ জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে, তা কখনো কাম্য নয়।তাই সংবিধান পূর্ণ বিবেচনা করতে হবে।
Total Reply(0)
Tanmoy Dey ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৩৯ এএম says : 0
বিবেক যেখানে জাগ্রত,,,শান্তি সেখানে হাতের মুঠোয়। পুরো বিশ্বে ধর্মের নামে শুধু বিভাজন সৃষ্টি হচ্ছে।।। মনুষত্ব বিবেকই পারে মানুষকে একত্র করতে,,, ধর্ম নয়।।‌
Total Reply(0)
Imran ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ২:৩৬ এএম says : 0
দশ বৎসরে বাংলাদেশে ১ কোটি ১০ লক্ষ হিন্দুরা আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে, আলালের গড়ের দুলাল. আরামে আমাদের মাথার উপরে নাচে. বাংলাদেশের হিন্দুরা দেশের বিরুদ্দে কাজ করে. হাউয়া মিলিগের লোক দিয়ে আমাদের দেশের মানুষ মারায়.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন