ঢাকা, সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৯ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

বিনোদন প্রতিদিন

সাক্ষাৎকার

সাহিত্যের দৃশ্যায়ন অনেকটা লেখকের সাহিত্যকর্মের ট্রেলর মাত্র : তানভীর তারেক

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০৩ এএম

সঙ্গীত, লেখালেখি আর উপস্থাপনার কাজ নিয়ে বছরজুড়ে ব্যস্ত থাকেন তানভীর তারেক। সঙ্গীতে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সেরা সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে পেয়েছেন চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ড। অন্যান্য ক্ষেত্রেও পেয়েছেন অসংখ্য সম্মাননা। সঙ্গীত উপস্থাপনার পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও চালিয়ে যান। এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে তার নতুন গল্পগ্রন্থ তোমার কথা বলিতে ব্যাকুল। তার সার্বিক কর্মকান্ড নিয়ে কথা হয়।
অপনার ব্যস্ততা এখন কি নিয়ে?
দিনের সবটুকু সময়ই ব্যস্ততার মধ্যে কাটে। আর ফেব্রুয়ারি এলে স্বাভাবিকভাবেই বইমেলা ও ভালোবাসা দিবসের কিছু কাজ নিয়ে ব্যস্ততা বেড়ে যায়। আমার চেষ্টাই থাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষণ ও মুহূর্তকে কোনো না কোন কাজে ব্যয় করা।
বই মেলায় প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ প্রসঙ্গে জানতে চাই।
এটি আমার ৯ম গ্রন্থ। গল্পের বই হিসেবে এটি ৪র্থ। ছোট গল্প, বড় গল্প মিলিয়ে ১৫ টি গল্প গ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে। এর ভেতরে বেশকটি গল্পের চিত্রনাট্যের কাজ চলছে, যেগুলো নাটক বা ওয়েব সিরিজ হিসেবে প্রকাশিত হবে। আমার কাছে বড় আনন্দের বিষয় হচ্ছে, এই বইয়ের বেশ কটি গল্প বিভিন্নসময়ে নানা সাহিত্যপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। সেগুলো পড়ে সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম স্যার থেকে শুরু করে দেশের গুণী মানুষেরা খুব প্রশংসা করেছেন। অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। এইসব অনুপ্রেরণা আমার লেখক জীবনের অন্যতম পুরস্কার। সেই হিসেবে আমার বাছাই করা গল্পের সংকলন এটি।
সঙ্গীতের ব্যস্ততা কেমন?
সঙ্গীত আমার প্রতিক্ষণের। এটা আমার অন্তরের খোরাজ। সারক্ষণই লেখালেখি আর গান চলতে থাকে। এখন দুটি চলচ্চিত্রের গানের কাজ করছি। দীর্ঘদিন ধরে করা সুবীর দা (প্রয়াত সুবীর নন্দীর) ৮টি গান নিয়ে অ্যালবাম প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এছাড়া নবাগত গায়ক রাকেশের ১০টি গানের একটি অ্যালবামের কাজ শেষ করেছি। এটি ইমপ্রেস অডিও থেকে প্রকাশিত হবে। এর বাইরে কিছু কপিরাইট ফ্রি ইন্সট্রুমেন্টাল তৈরির কাজ চলছে, যা আমার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ করবো।
বইমেলা এলেই তরুণ লেখকদের সাহিত্যমান নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তোলেন? এব্যাপারে আপনার নিজস্ব অভিমত কি?
প্রশ্ন তোলাটা একেবারে অমূলক নয়। গত দুই তিন বছরে মোটিভেশনাল কনটেন্ট-এর নামে কজন জনপ্রিয় ফেসবুকারদের স্ট্যাটাস নিয়ে বই বেরুচ্ছে। সেগুলো বেস্ট সেলারও হচ্ছে। কেউ কেউ শঠতা করে অল্প কিছু বইপ্রকাশ করে অনেক এডিশনের বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রচার করছে। এসব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে অনেকে। কিন্তু আমার কাছে এগুলোও ভালো লাগে। কারণ সব মাধ্যমেই কিছু জোকার প্রয়োজন হয়। এই জোকাররা বিনোদন দেয়। আর ভালো কাজ, মননশীল কাজ সবসময়ই সারা পৃথিবীতে প্রচারণার পাদপীড়ে কম আসে, তবে তা স্থায়ী কর্মে রূপ লাভ করে। আজও আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস বিক্রি হচ্ছে, কাফকা সারা পৃথিবীতে অনুবাদ চলছে। আর তরুণদের লেখালেখি চর্চাকে যারা কটাক্ষ করছে, তারা ঐ দলের মানুষ, যারা ভাল কাজেও কটু মন্তব্য করে। তরুণ লেখকরা আর যাই করুক তারা লেখালেখিতে তো আছে। মাদক কিংবা অন্যের ক্ষতিতে জড়াচ্ছে না। মান যেমনই হোক, বইটাইতো লিখছে। তারা লিখুক। তাদের লেখা ভাল লাগলে পাঠক পড়বে, ভালো না লাগলে বর্জন করবে। এখানে কটাক্ষ করাটা শোভন নয়।
আপনার গল্প থেকে নাটক হচ্ছে। এর সাথে সাহিত্য মানের কি অবনমন হচ্ছে না?
অবনমন ঠিক নয়, তবে সাহিত্য থেকে দৃশ্যায়ন করা জটিল বিষয়। একটি উপন্যাস বা গল্পে লেখক যেসব দৃশ্যের চিত্রপট তৈরি করেন, নাটক করতে গিয়ে তার যথাযথ দৃশ্যায়ন অনেক সময় সম্ভব হয় না। তখন তা থিমেটিকভাবে উপস্থাপন করতে হয়। এতে দেখার বিষয় লেখকের মূল থিমটির প্রকাশ যথাযথভাবে করা হয়েছে কিনা। তবে আমি মনে করি, নাটকের মাধ্যমে সাহিত্যের প্রকাশ ও ব্র্যান্ডিং বেশি হওয়া উচিত। এতে সাহিত্যের যেমন বিকাশ ঘটবে, তেমনি নাটকের মানও উন্নত হবে। বিভুতি ভূষণ, সুনীল, হূমায়ুন আহমেদের সাহিত্য নাটক ও চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কিন্তু পাঠকের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। আমার মতে সাহিত্যের দৃশ্যায়ন অনেকটা লেখকের সাহিত্যকর্মের ট্রেইলর মাত্র। যা দেখে পাঠক লেখকের অন্য সব লেখার প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু সাহিত্যের পুরো রসবোধ নিতে হলে তা পড়ার কোনো বিকল্প নেই।
আপনার প্রিয় লেখক কারা?
আমি একটা সময় লেখক দেখে বই পড়তাম, কিনতাম। এখন বিষয় দেখে পড়ি ও কিনি। গত তিন বছর ধরে আমি প্রবন্ধ, আত্মকথা ও সাক্ষাৎকারমূলক বই পড়ছি ও সংগ্রহ করছি। তাই প্রিয় লেখক তালিকা আমার দীর্ঘ-সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, হূমায়ুন আহমেদ, শঙ্খ ঘোষ, সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, শাহাদুজ্জামান, শাকুর মজিদসহ আরো অনেকে রয়েছেন। বিদেশী সাহিত্যে মার্কেস, মুরাকামি থেকে শুরু করে জনপ্রিয় সাহিত্যিকদের বই পড়া ও সংগ্রহ করার চেষ্টা করি। আমার বই কেনা ও পড়া নেশার মতো।
আপনার কর্ম নিয়ে ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?
আমি খুব বেশিদূর দেখতে চাই না। পারিও না। কালকে বাঁচবো কি না জানি না। আমি আজকের জন্যই বাঁচি। যেমন আগামী বছর আমার বিনোদন সাংবাদিকতায় দুই যুগ হবে। সে উপলক্ষে একটা কিছু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সবাই তো শুধু জন্মতারিখটা বাবা-মার কাছ থেকে জেনেই বড় হতে থাকে। বাকি আনন্দদিন, সাফল্য, বিয়ে, বাবা হওয়া সবই নিয়তি ঠিক করে দেয়। আর মৃত্যুদিনটা তো মানুষ না জেনেই চলে যায়। অন্যরা সেই তারিখটা জানে যা উদযাপন করে বা করে না। তাই খুব বেশি পরিকল্পনা করেও লাভ নেই। একটা জীবনের রেখাপাত করি মাত্র, যেন একটা জীবনে নির্মোহ আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকতে পারি কারো ক্ষতি না করে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন