ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

কথা-দুর্নীতিতেই সরকারের উন্নয়ন হয়েছে : বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০২ এএম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজের সবখানেই এখন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়মে পরিণত হয়েছে। গণতন্ত্র, মানুষের বাক ও ব্যক্তিস্বাধীনতা এবং মানবিক মর্যাদা নেই। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। নারী-শিশু ধর্ষণ এখন নৈমিত্তিক ঘটনা।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ বছরটি ঘোষণা করেছেন তাঁর পিতার নামে। মানুষের ধারণা ছিল তাঁর পিতার সম্মানে হলেও মানুষকে একটু স্বস্তি ও নিরাপত্তা দেবেন। বন্ধ করবেন ব্যাংক ডাকাতি, লুটপাট আর টাকা পাচারের মহৌৎসব। বন্ধ করবেন বিরোধী প্রতিপক্ষের প্রতি কুৎসা রটানো।
তিনি বলেন, প্রতিদিন হতাশার খবর ছাড়া আর কিছুই নেই। বরং দেশজুড়ে নানা অপরাধের মধ্যে প্রতিদিন কোথাও না কোথাও ধর্ষিতা হচ্ছে নারী ও শিশু। অপরাধীদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীনদের লোক। তাদের দ্বারা উন্নত ও মানবিক সমাজ সম্ভব নয়। তাহলে কি কথাই এই সরকারের উন্নয়ন? কাদের উন্নয়ন কিংবা কাদের জন্য উন্নয়ন? আসলে পর্বত-প্রমান দুর্নীতিই এদের উন্নয়ন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সিলেটে সুরমা নদীর ওপর হযরত শাহজালাল তৃতীয় সেতুর প্যানের এক্সপানশন জয়েন্টে লোহার পাতের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। কেন এমন হচ্ছে? কারণ এখানে সেতু নির্মাণ মুখ্য নয়। এখানে সেতু নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করাই হচ্ছে মুখ্য উদ্দেশ্য। কারণ, গত এক দশকে দেশের সকল লুটেরা-দুর্নীতিবাজরা দেখেছে, এই সরকারের শাসনামলে চলছে, দুর্নীতির উন্নয়ন আর উন্নয়নের নামে দুর্নীতি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পূর্বে দুটো ইশতেহার থাকে, একটি ঘোষিত আরেকটি অব দ্য রেকর্ড। ঘোষিত ইশতেহারে ভাল ভাল কথা থাকলেও ক্ষমতায় আসার পর সেই ইশতেহারটির বদলে অব দ্য রেকর্ড ইশতেহারের বাস্তবায়ন দেখা যায়। সেটি হলো-কর্তৃত্তবাদী বাকশালী শাসন, গণতন্ত্র হরণ, বিরোধী দল নিধন এবং অর্থনীতি লুন্ঠন। এ কারণে গত একদশকে নয় লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৮১০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে। রাষ্ট্রায়াত্ত ব্যাংকগুলো হয়ে পড়েছে দেউলিয়া।
রিজভী বলেন, খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্টে বলা হচ্ছে, দেশের শীর্ষ তিনজন গ্রাহক যদি কোনও কারণে ঋণ খেলাপি হন তাহলে দেশের ২১ ব্যাংক মূলধন সংরক্ষণে ব্যর্থ হবে। আর মাত্র ৭ জন শীর্ষ গ্রাহক খেলাপি হলে ৩৫টি ব্যাংক এবং ১০ জন শীর্ষ গ্রাহক খেলাপি হলে ৩৭টি ব্যাংক মূলধন ঘাটতিতে পড়বে। এর অর্থ দাঁড়ায়, ব্যাংকগুলোতে গচ্ছিত জনগণের সম্পদ হাতে গোনা কয়েকজনের কাছে জিম্মি।
তিনি বলেন, ব্যাংক থেকে টাকা মেরে বিভিন্ন সময় বিদেশে পালিয়ে গেছেন এমন শতাধিক লুটেরাকে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের টাকা তুলতে না পেরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো এসব ঋণকে মন্দ ঋণ (খেলাপি) ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছে। এমনকি এদের কারণে একটি অব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবসায়ন করা হয়েছে। এই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পি কে হালদার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছেন। বিদেশে করেছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠান আছে কানাডাতেও। কয়েকশ কোটি টাকা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফজাল হোসেন।
তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংক থেকে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ৩০০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে কানাডায় পালিয়েছেন স্ক্র্যাপ (জাহাজভাঙা) ব্যবসায়ী গাজী বেলায়েত হোসেন মিঠু ওরফে জি বি হোসেন। দুদক তার পাসপোর্টের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেও তাকে আটকানো যায়নি। গাজী বেলায়েত এখন কানাডার টরেন্টোয় থাকেন। অগ্রণী ব্যাংকের ২৫৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৬ হাজার টাকা ও বিডিবিএল থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করে মালয়েশিয়ায় পালিয়েছেন এর মালিকরা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা নিয়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন এরশাদ ব্রাদার্সের মালিকরা। মালিকরা কানাডার টরেন্টোয় বাদশাহী-জীবন যাপন করছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, মহালুটপাট হরিলুটের কোন প্রতিকার বা প্রতিরোধ হচ্ছে না। বিএসএফ বাংলাদেশিদের হত্যা করলেও সরকার ভয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেনা। প্রতিদিন সহায় সম্বল হারা মানুষ প্রবাস থেকে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরছে, কিছুই করতে পারছেনা সরকার। আবার অনেকে উন্নত জীবনের আশায় সাগর পাড়ি দিয়ে বিদেশ যেতে গিয়ে ডুবে মরছে সাগরে।
তিনি বলেন, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী বলেছেন-পিঁয়াজের দাম স্থিতিশীল হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলতে চাই-বৈশাখ থেকে এক এক করে মাঘ গেল। কিন্তু পিঁয়াজের দাম কমলো না। এখন পিঁয়াজসহ শাকসবজির সময়। অথচ শুধু পিঁয়াজই নয়, সকল শাকসবজির দামই মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। শাকসবজি ছাড়াও নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার নাগালের বাইরে। বাস্তবতা হলো, এই স্বাধীন দেশে এখন জনগণ পরাধীন। তাই জনগণের স্বাধীনতার জন্য আজ আমাদের শ্লোগান ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন