ঢাকা শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭, ০৭ সফর ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

মুনসীফ আলীর বিরুদ্ধে ৮৪ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলার হুমকি ফ্ল্যাট মালিকদের

সিলেটে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের সংবাদ সম্মেলন

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৬:৩০ পিএম

রেজিষ্ট্রেশন দিতে না পেরে ফ্ল্যাট মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছেন সৈয়দ মুনসীফ আলী। সেই সাথে প্রবাসী বিনিয়োগকারী ফ্ল্যাট মালিকদের বিরুদ্ধে নানা কুৎসা রটনা করে মানহানি করেছেন তিনি। মঙ্গলবার সিলেট নগরীর একটি হোটেলে শাহজালাল উপশহরস্থ মাল্টিপ্ল্যান শাহজালাল সিটির প্রবাসী বিনিয়োগকারী ফ্ল্যাট মালিকরা সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেছেন। প্রয়োজনে তারা মুনসীফ আলীর বিরদ্ধে ৮৪ হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারেন বলে ও জানিয়েছেন। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মাল্টিপ্ল্যান সিটির হিজল ভবনে আমরা যারা ফ্ল্যাট ক্রয় করেছি তাদের মধ্যে ৮০ ভাগ ফ্ল্যাট মালিক প্রবাসী। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশে আমরা বসবাস করি। নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ফ্ল্যাট কিনার পর ও বিদেশে অর্থপাচারকারী মুনসীফ আলী আমাদেরকে দুষ্কৃতিকারী, কুচক্রী বলে আখ্যা দিয়েছেন। এমনকি এখানে কোন প্রবাসী ফ্ল্যাট ক্রয় করেননি বলে ও চ্যালেঞ্জ করেছেন। সেই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে পাসপোর্ট হাতে নিয়ে প্রবাসীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন। তারা বলেন, ফ্ল্যাট ক্রয় করে আজ ১৬ বছর যাবত রেজিষ্ট্রেশন না পেয়ে নানা বিড়ম্ভনা ও হুমকি ধমকির শিকার হয়ে গত ২৮ জানুয়ারী আমরা আরেকটি সংবাদ সম্মেলনে আমাদের বক্তব্য তুলে ধরেছিলাম। গত ১৫ ফেব্রুয়ারী মাল্টিপ্ল্যানের চেয়ারম্যান মুনসীফ আলীর পক্ষে তার লোকজন পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের বিরুদ্ধে চরম মিথ্যাচার করেছেন এবং হিংস্বাত্বক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তিনি রেজিষ্ট্রেশন প্রসঙ্গে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পুরোটাই মনগড়া ও বিভ্রান্তিকর। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে রেজিষ্ট্রেশন করে দিতে তারা দীর্ঘদিন থেকে প্রস্তুত এবং চিঠি চালাচালি করছেন। এমনটি যদি হয়ে থাকে তাহলে ২০১৮ সালের ৩ মার্চ মুনসীফ আলী ঢাকা থেকে এসে জরুরী ভিত্তিতে ফ্ল্যাট মালিকদের নিয়ে বৈঠকে বসে ২০১৯ এর মার্চ মাসের মধ্যে রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করে দেয়া হবে কেন বললেন। সেই সমঝোতাপত্রে তিনি নতুন করে চুক্তিপত্র হবে বলে ও উল্লেখ করেন। তিনি সেদিন বলেছিলেন, চুক্তিপত্রে ভুলবশতঃ সেলস পারমিশন ফি আপনাদেরকে দেয়ার কথা উঠে এসেছে। নতুন চুক্তিপত্রে সেটি তুলে নেয়া হবে। এছাড়া মসজিদ নির্মাণ, দেয়াল নির্মাণসহ অন্যান্য সুবিধাগুলো নতুন চুক্তিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে তিনি লিখিত অঙ্গিকার দেন। অথচ কিছুদিন পর ঢাকায় গিয়ে তিনি বলেন আর কোন চুক্তিপত্র হবেনা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে আমরা নাকি সার্ভিস চার্জ দিচ্ছিনা। সার্ভিস চার্জ না দিতেই আন্দোলন করছি। তা পুরোটাই মিথ্যে এবং সাজানো নাটক। আমাদেরকে চুক্তির সময় বলা হয়েছে সার্ভিস চার্জ মাত্র ৩ হাজার টাকা। ১৬ বছর পর এসে যখন রেজিষ্ট্রেশনের জন্য আমরা চাপ দেই তখন আমাদের কাঝে চিঠি আসে সেলস পারমিশন ফি ও সার্ভিস চার্জসহ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এরই মধ্যে মাত্র তিন মাসের মাথায় আরেকটি চিঠি আসে যেখানে উল্লেখ করা হয় সেলস পারমিশন ফি ব্যাতীত শুধুমাত্র সার্ভিস চার্জ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। সার্ভিস চার্জ বলতে ঢাকা থেকে সিলেট আসা যাওয়া এবং বিভিন্ন কাগজ সত্যায়নের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। চুক্তিনামার ২৮ নং ধারায় উল্লেখ আছে কোম্পানী সকল দায় দেনা পরিশোধ করে এলোটির নিকট ফ্ল্যাট হস্তান্তর করবে। অথচ ব্যাংকের সাইনবোর্ড টানানো রয়েছে এখনো। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেছে সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করা হলে ব্যংক ঋণ পরিশোধ করে দেয়া হবে। সার্ভিস চার্জের সাথে ব্যাংক ঋণের কোন সম্পর্ক নেই। সংবাদ সম্মেলনে ফ্ল্যাট মালিকরা অভিযোগ করে বলেন, এখন রেজিষ্ট্রেশন না দিয়ে উল্টো হুমকি ধমকি এবং গালিগালাজ করা হচ্ছে আমাদেরকে। ১৫ ফেব্রুয়ারী সংবাদ সম্মেলন করার পর দিন ১৬ ফেব্রুয়ারী সকালে মাল্টিপ্ল্যানের গেইটের সামনে গাড়ি দাঁড় করিয়ে তিনি আমাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে দেখে নেবেন বলে হুমকি দিয়েছেন। ইতিমধ্যে এসএমপির শাহপরাণ থানায় আমরা প্রত্যেকে সাধারণ ডায়েরী করেছি। এছাড়া সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক. মেয়র, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দফতরে এসব বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদফতরে সার্ভিস চার্জ বাড়ানোর বিষয়ে আমাদের লিখিত অভিযোগটি এখন বিচারাধীন। আমাদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ব্যাংক ঋণ পরিশোধ না করে তিনি এসব টাকা বিদেশে পাচার করছেন। কানাডায় বাড়ি করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী বান্ধব। তিনি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে মোমেন বারবার বলেন প্রবাসীরা দেশে বিনিয়োগ করুন। ব্যাংকে অলস টাকা ফেলে রাখবেননা। এ পরিস্থিতিতে আমরা কিভাবে বিনিয়োগ করবো । আমাদের একজন ফ্ল্যাট মালিকের পিতা সম্মানীত মুক্তিযোদ্ধা আতাউর রহমান কুনু মিয়াকে সে হুমকি দিয়ে বলেছে ৫ লাখ টাকায় মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার বানিয়ে ফেলবে। মাল্টিপ্ল্যানে কেউ ফ্ল্যাট বিক্রি করতে চাইলে মুনসীফ আলীকে ৭ লাখ টাকা দিতে হয়। কারণ রেজিষ্ট্রেশন না থাকায় তাদের অফিসের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। ফলে গত ১২ বছর থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে প্রশাসন ও সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ৪২ জন প্রবাসী ফ্ল্যাট মালিকের ফ্ল্যাট নম্বরসহ তালিকা উপস্থাপন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আশরাফ হোসেন পাঠোয়ারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নুর মোহাম্মদ চৌধুরী, আতাউর রহমান কুনু, হালিমা বেগম চৌধুরী, রুহেল আহমদ, আব্দুল কাদির, মাহবুব আলম প্রমুখ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন