ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

কুষ্টিয়ায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা

প্রকাশের সময় : ৫ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

এস এম আলী আহসান পান্না, কুষ্টিয়া : আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূলে থাকায় এ বছর কুষ্টিয়ায় পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কুষ্টিয়ার ৬ উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ যেমন বেড়েছে তেমনি মাঠে মাঠে ছেয়ে গেছে সবুজের সমারোহ। কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি মৌসুমের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও সব উপজেলাতেই পাট আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে। রয়েছে বাম্পার ফলনেরও সম্ভাবনা।
জেলা কৃষি-স¤প্রসারণ অধিদফতর তথ্যসূত্রে জানা গেছে, খরিপ-১ ও ২০১৬-১৭ আবাদী মৌসুমে গোটা জেলার জন্য পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ৩৭ হাজার ৫ শত ২০ হেক্টর নির্ধারণ করলেও তা ছাড়িয়ে আবাদ হয়েছে ৪২ হাজার ৩শত ৮০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে দৌলতপুরে ১৭ হাজার ১শত হেক্টর জমিতে। এছাড়া কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৮শত ৫০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৬শত ৮০ হেক্টর; কুমারখালীতে লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১শত ৬৫ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৫ হাজার ৪শ ৩৫ হেক্টর; খোকসা উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার ৫০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৮ শত ৮৫ হেক্টর; মিরপুরে লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ৩শত ৮৩ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ৮ হাজার ৯ শত ৫৫ হেক্টর; ভেড়ামারা উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১ শত ৬০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৩ শত ২৫ হেক্টর এবং দৌলতপুরে লক্ষ্যমাত্রা ১৬ হাজার ৯ শত ১০ হেক্টর, অর্জন হয়েছে ১৭ হাজার ১শত হেক্টর জমিতে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক হায়াত মাহ্মুদ বলেন, গতবারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষককূলে পাটচাষে নতুন করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দারুণভাবে বিরাজ করছে। সঙ্গত কারণেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে আবাদ। পাট কৃষকের ঘরে ওঠা পর্যন্ত তেমন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উঁকি দিচ্ছ বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা। কৃষিমনে বিরাজিত এ উদ্দীপনাকে ধরে রাখতে সরকারিভাবে কাক্সিক্ষত বাজারদর নিশ্চিতকরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
তবে এ অঞ্চলে পরিত্যক্ত পুকুর জলাশয় কমে যাওয়ায় পাট পচনে বিপাকে পড়তে হয় চাষিদের। পাট পচনে কৃষি-স¤প্রসারণ অধিদফতর প্রদত্ত রিবন-রেটিং পদ্ধতি কৃষককূলে আসলেও এটি ব্যয়বহুল, ঝামেলাপূর্ণ ও স্বল্প পরিমাণের পচনব্যবস্থা হওয়ায় এ প্রযুক্তিতে আগ্রহী হচ্ছে না কৃষকেরা”।
গোটা জেলার কৃষকমনে দারুণভাবে বিরাজমান এ উৎসাহ-উদ্দীপনাকে কাজে লাগাতে মৌসুমের পূর্বে থেকেই পাট বিক্রয়ের নিশ্চয়তা প্রদানপূর্বক বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পচন ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি কৃষিজ সহায়তামূলক ব্যবস্থা অত্যাবশ্যক বলে দাবি গোটা কুষ্টিয়া জেলার পাটচাষী মহলের। জনমনে বিরাজিত এ দাবির বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এলে কুষ্টিয়ায় আবারো রেকর্ড পরিমাণ পাট উৎপাদন হবে ফিরে পাবে আবহমান গ্রামবাংলার অতীত ঐতিহ্য। বিদেশে রফতানি করে অর্জন হবে বৈদেশিক মুদ্রা, সেই সাথে দেশের অর্থনীতিতে যোগ হবে নতুন মাত্রা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন