ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

নিষিদ্ধ যানে সয়লাব

হাইকোর্ট ও ডিএমপির নির্দেশনা মানছে না পুলিশ

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

নিষেধাজ্ঞা আছে। অথচ নিষিদ্ধযানে সয়লাব সারাদেশ। রাজধানী ঢাকায় এখন নিষিদ্ধ ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশার ভিড়ে চলা দায়। অথচ নিষিদ্ধ যান ইজিবাইক রাজধানীতে যাতে চলতে না পারে সেজন্য কঠোর নির্দেশনা আছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের। খোদ পুলিশ সেই নির্দেশ মানছে না। এর আগে হাইকোর্ট এক আদেশে মহাসড়কে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করেছিলেন।

কিছু অংশ বাদ দিয়ে সারাদেশে মহাসড়কে এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, নসিমন, করিমন, ভটভটিসহ ব্যাটারিচালিত রিকশা। পুলিশকে ম্যানেজ করেই চলছে এসব। ঢাকায় চলাচলরত ইজিবাইক থেকে প্রতিদিন তোলা হচ্ছে লাখ লাখ টাকা চাঁদা। যার সিংহভাগ যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতার পকেটে। একটি বেসরকারি সংস্থার হিসাবে ঢাকায় চলাচলরত ইজিবাইকের ব্যাটারি রিচার্জ করার জন্য কমপক্ষে ৬শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুতের অপচয় হচ্ছে। এর মাশুল দিচ্ছে ভোক্তা আর বিদ্যুত চুরির টাকা লুটেপুটে খাচ্ছে বিদ্যুত বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারি।

মহাসড়কে ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করার আগে থেকেই রাজধানীর অলি-গলিতে ইজিবাইক চলাচল শুরু করে। ২০১৫ সালের ১ আগস্ট দেশের ২২টি মহাসড়কে সব ধরণের থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ করার পর পুলিশ অনেকটা তৎপর হয়ে ওঠে। সে সময় ঢাকার বাইরে থেকে বেশ কিছু ইজিবাইক ঢাকায় চলে আসে। আইনের প্রয়োগ না থাকায় এখন মৌমাছির মতো ইজিবাইকে ভরে গেছে পুরো রাজধানী। নগরীর যে কোনো এলাকায় বের হলে ব্যটারীচালিত এসব যানের ভিড়ে হাঁটাই দায়। সাথে যোগ হয়েছে মোটরচালিত রিকশা। এই দুইয়ে মিলে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা ।

জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকায় ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা এক লাখেরও বেশি। আর অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের হিসাবে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় ইজিবাইকের সংখ্যা এখন দুই লাখের কাছাকাছি। রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকার অলি-গলিতে এখন ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশার ছড়াছড়ি। এগুলো চলাচলে বাধা না দেয়ায় দিন দিন সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে এগুলোর ভিড়ে রাস্তায় পায়ে হাঁটাও দুস্কর হয়ে পড়েছে। জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদব মো. ইনসুর আলী ইনকিলাবকে বলেন, এসব যানবাহন কোনো মানসম্মত যানবাহন নয়। প্রতিনিয়ত এসব যান দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, পঙ্গু হচ্ছে। আবার এসব যান থেকে প্রভাবশালীরা মাসে কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি করছে। তিনি বলেন, আমি এসব অবৈধ যান বন্ধের জন্য বহু চেষ্টা করেছি। সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছি। অথচ কোনো এক অশুভ শক্তির জোরে এগুলোর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যা মানুষের জন্য হুমকী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, নগরীর মিরপুর-১, ১০, পল্লবী, দারুস সালাম, বিমানবন্দর, তুরাগ, দক্ষিণখান, উত্তরখান, বনশ্রী, আজিমপুর, জিগাতলা বাসস্ট্যান্ড ও বাসাবো-মাদারটেক, যাত্রাবাড়ী, কদমতলী, ডেমরা, জুরাইন, শ্যামপুর, মোহাম্মদপুর, আদাবর, রামপুরা, খিলগাঁও, সিপাহীবাগ, বনশ্রী, বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, মেরাদিয়াসহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশা চলাচল করছে নির্বিঘ্নে। ঢাকায় এসব চলাচলের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকায় গড়ে উঠেছে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট। ক্ষমতাসীন দলের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা এই সিন্ডিকেটের হোতা। তারা প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলছে। এই চাঁদার টাকায় অনেকেই বাড়ি-গাড়ির মালিক বনে গেছেন। এই সিন্ডিকেটের বদৌলতে বিদ্যুতের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও পুলিশের পেটেও যাচ্ছে লাখ লাখ টাকা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার নিষিদ্ধ এসব যান বন্ধ করার কথা বলা হলেও বাস্তবে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। এতে দিন দিন এসব যানের সংখ্যা বাড়ছেই। বাড়ছে দুর্ঘটনা, প্রাণহানি। সাথে পরিবহন সেক্টরের বিশৃঙ্খলাতো আছেই। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এর আগে বলেছেন, করিমন, নসিমনসহ তিন চাকার কোনো যানবাহন মহাসড়কে চলতে পারবে না। এ সব যানবাহনের আমদানি বন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নম্বরবিহীন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধে প্রশাসনকে আগে থেকেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী বহুবার এসব যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধের কথা বললেও কার্যত এর কোনো ফল মেলেনি। বরং রাজনৈতিক কারণেই এগুলো ব্যাঙের ছাতার মতো বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয়, এর আগে ২০১৭ সালে আইন করে মহাসড়কে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়। হাইকোর্টও এক আদেশে এসব যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পুলিশকে কিছু নির্দেশনা দেয়। কিন্তু কোনো নিষেধাজ্ঞাই কার্যকর হয়নি। সিন্ডিকেটের কারণে বরাবরই ভেস্তে গেছে সরকারের উদ্যোগ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের মহাসড়কগুলোতে এসব যান চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনায় মানুষের প্রাণহানী ঘটছে। ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে, ঢাকা-ময়মনসিংহ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এখনও সদর্পে চলছে এসব নিষিদ্ধ যান। চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের দেয়া টোকেন নিয়ে এসব যান চলাচল করে। এক হাজার টাকা দিয়ে টোকেন নিলে মহাসড়কে পুলিশ আর বাধা দেয় না।

রাজধানীর প্রতিটি থানা এলাকার অলি-গলিতে এখন ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক ও মোটরচালিত রিকশার ছড়াছড়ি। এগুলো চলাচলে বাধা দেয়ার উপায় নেই। কারণ এর নেপথ্যে আছে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতারা। আছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ। নগরীর শ্যামপুর, কদমতলী ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় হাজার হাজার ইজিবাইক ও মোটরচালিক রিকশার পরিচালনার নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় নেতা ও প্রভাবশালীরা। কদমতলী থানা এলাকায় ইজিবাইকের বেশ কয়েকটি রুটের মধ্যে রায়েরবাগ ও মোহাম্মদবাগ রুটে চলাচল করে পাঁচ শতাধিক ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা। রায়েরবাগের এই রুট নিয়ন্ত্রণ করে জাহাঙ্গীর নামে এক ব্যক্তি। মোহাম্মদবাগে নিয়ন্ত্রণ করে লিটন ও তার দুই ভাই। প্রতিদিন এখানে ইজিবাইক প্রতি ১৫০ টাকা রিকশা প্রতি ৬০ টাকা হারে চাঁদা তোলা হয়। এলাকাবাসীর হিসাব মতে, শুধু এই দুই রুট থেকেই মাসে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে। এছাড়া বড়ইতলা থেকে বিক্রমপুর প্লাজা, পোস্তগোলা থেকে পাগলা, ধোলাইরপাড় থেকে শনিরআখড়া, জুরাইন মেইন রাস্তা থেকে মুরাদপুর হয়ে কোদারবাজার পর্যন্ত আছে একটি করে রুট। প্রতিটি ইজিবাইক থেকে প্রতিদিন দেড়শ’ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সহস্রাধিক ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারির চার্জ দেয়ার জন্য মুরাদপুর এলাকাতেই আছে কয়েকটি গ্যারেজ। যেগুলোতে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ নেয়া আছে বিদ্যুত বিভাগের স্থানীয় প্রকৌশলীতে ম্যানেজ করে। স্থানীয়রা জানান, এই এলাকায় বিদ্যুত চুরির নেপথ্যে নাসির ও তার সিন্ডিকেটের লোকজন। ব্যাটারিচালিত রিকশা তৈরী করা হয় পাটেরবাগ, দনিয়া, রায়েরবাগ, ডেমরা, কাজলা, ভাঙ্গাপ্রেসসহ বিভিন্ন এলাকায়। দনিয়া এলাকায় চলাচলকারি ৬ শতাধিক ইজিবাইক ও রিকশার চাঁদা তোলে মরণ নামে একজন। প্রভাবশালীদের হয়ে সে চাঁদার টাকা তোলে। সেখান থেকে মোটা অঙ্ক যায় থানায়।

অন্যদিকে, নগরীর মিরপুর ১০ নং গোলচক্কর থেকে ইজিবাইক,প্রাইভেট সিএনজি ও চ্যাম্পিয়ন নামের কিছু বাস চলাচল করে। ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে প্রতিদিন ৪০০ টাকা হারে চাঁদা দিয়ে চলছে এসব অবৈধ যানবাহন। স্থানীয় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারা এসব অবৈধ যান থেকে চাঁদা তোলে। স্থানীয়রা জানান, এই এলাকায় ৪ শতাধিক যান চলাচল করে। এর মধ্যে কিছু চলে ১০ নং গোলচক্কর থেকে মিরপুর ১৪ হয়ে ভাষানটেক এবং কিছু মিরপুর ১৪ হয়ে কচুক্ষেত পর্যন্ত চলাচল করে। এ ছাড়া শতাধিক প্রাইভেট সিএনজি ও চ্যাম্পিয়ন বাস ফিটনেস, রুট পারমিট ও চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই চলাচল করে। মিরপুর ১১ নং সেকশনের পল্লবী মিডটাউন শপিং মলের সামনে থেকে রূপনগর আবাসিক এলাকা পর্যন্ত চলাচল করে প্রায় একশ’ ইজিবাইক। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় সরকারদলীয় কয়েকজন নেতা। মিরপুর ১ নম্বর থেকে আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় চলে ১০০-১৫০টি ইজিবাইক। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করেন স্থানীয় শ্রমিক লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন। তার নিয়োগকৃত লাইনম্যানরা প্রত্যেক ইজিবাইক থেকে টাকা আদায় করে।

ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনের পাশে আশকোনা এলাকায় কয়েকশ’ ইজিবাইক চলাচল করছে। স্থানীয়দের মতে, এখানে ইজিবাইকের সংখ্যা ৭ শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে। বিমানবন্দর রেল ক্রসিং থেকে আশকোনা হয়ে বউড়া ও হলান পর্যন্ত চলাচল করে তিন শতাধিক ইজিবাইক। বিমানবন্দর রেল ক্রসিং থেকে দক্ষিণখান ও কাঁচকুড়া পর্যন্ত চলাচল করে প্রায় চারশ’।

এই এলাকায় ইজিবাইক চালানোর জন্য প্রতিদিন ১৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। স্থানীয়রা জানান, নিষিদ্ধ এ যানগুলো মাঝে মধ্যেই উত্তরার প্রধান সড়কে উঠে যায়। পুলিশকে টাকা দিয়ে চলাচল করে বলে এরা প্রধান সড়কে উঠতেও দ্বিধা করে না। চালকরা জানান, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার লোকজন এই টাকা তোলে। চালকরা জানান, এই এলাকায় ইজিবাইক নামানোর সময় ১৬শ’ টাকা করে দিতে হয়। রামপুরা টিভি সেন্টারের কাছ থেকে বনশ্রী হয়ে সিপাহীবাগ চলাচল করে শতাধিক ইজিবাইক। এ ছাড়া বেশ কিছু লেগুনা চলাচল করে। যেগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই এবং সেগুলোর ফিটনেসও নেই। লেগুনাগুলো রামপুরা টিভি সেন্টারের কাছ থেকে বনশ্রী হয়ে মাদারটেক প্রজেক্টের মুখ পর্যন্ত যায়। একজন ইজিবাইক চালক জানান, বাইক চলাচলের জন্য তারা প্রতিদিন ৫০ টাকা করে দেন। এ টাকা নেয় সিপাহীবাগের এক নেতা। এ ছাড়া তারা মাসে ২০০ টাকা করে ট্রাফিক পুলিশকে দিতে হয়। সবুজবাগ থানার খিলগাঁও বিশ্বরোড থেকে বাসাবো হয়ে মাদারটেক, নন্দীপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় দু’শ ইজিবাইক চলাচল করে। প্রত্যেকটি ইজিবাইক থেকে প্রতিদিন ৮০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। পরিবহন শ্রমিক নেতারাই স্বীকার করেছেন, গোটা রাজধানীতে ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে দিনে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি হচ্ছে। এই চাঁদার টাকার ভাগ অনেকেই পায়। যে কারণে সরকার বার বার উদ্যোগ নেয়ার পরেও এগুলো বন্ধ হচ্ছে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
ash ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ২:২২ এএম says : 0
MAFIA R DOL DESH CHALALE, MAFIA STYLE E DESH CHOLE, SHEKHANE KONO LAW BA BAD BADHOKOTA THAKE NA
Total Reply(0)
Riaz Ahmed ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৫১ এএম says : 0
This is our Bangladesh. Amar sonar bangla ami tomay valobashi
Total Reply(0)
Abdullah Al-Mamun. রংপুর। ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৫২ এএম says : 0
আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে দেশের উচ্চ আদালতকে এগিয়ে আসা খুবই জুরুরী।
Total Reply(0)
Mahmud Hussain ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৫২ এএম says : 0
আমাদের দেশে এমন অনেক কিছুই আছে যা আইনে নিষিদ্ধ, আইন অমান্য করলে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধানও আছে অথচ মানুষ বীরদর্পে আইন ভাংছে, আইন ভাঙার এ প্রবণতা রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই, নেই আইনের প্রয়োগ। কেন ? কেন এ অবস্থা হল ? কেবল ট্রাফিক,চালক বা যে কোন ভংগকারীকে দোষ দিলেই কি এই কেন এর উত্তর মিলবে ? এর জন্য আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে এদেশে গত ৪০ বছর ধরে রাষ্ট্র যন্ত্র কীভাবে আইন কানুন লংঘন করেছেন ? দেশের আদালত পাড়ায় কিভাবে চলছে টাকার বিনিময়ে আইন ভাংগা গড়া, বিচার কেনা বেচার খেলা । যে দেশে টাকার বিনিময়ে সুবিচার কেনা যায়, মিথ্যার জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব হয় এই আদালতের মাধ্যমেই- সে দেশে কেন এরকম অরাকতা চলবে না ? তাই এর জন্য দরকার সব কিছুই একেবারে বদলে ফেলতে হবে। এর কোন বিকল্প নাই।
Total Reply(0)
G. M. Mahabubur Rahman ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৩ এএম says : 0
বাহ ! কি চমৎকার আইন আমাদের আছে । অথচ এর প্রয়োগ নেই তিলমাত্র, নেই বাস্তবায়নের উদ্যোগও লেশমাত্র ! তা থাকলে যে আমাদের কতৃপক্ষ এবং ট্রাফিক ভাইদের আয় কমে যাবে !!
Total Reply(0)
Kazi Mahamudul Riad ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৩ এএম says : 0
একমাত্র সরকারের সহযোগিতায় জনগণই পারে গাড়ি চালানোর সময় চালকের মুঠোফোন ব্যবহার রোধ করতে। দক্ষ চালকই পারেন একটি বৃহৎ দুর্ঘটনার কবল থেকে নিজের আত্মরক্ষা সহ নিরীহ যাত্রী ও পথচারীদের রক্ষা করতে। আমাদের দেশে চালকদের ভিকেল ও ট্রাফিক আইন অনুযায়ী যে পরিমান প্রশিক্ষণ গ্রহন করা দরকার তা গ্রহণ না করে স্বল্প সময়ে ভারী যানবহন চালানোর সক্ষমতা নিজ সাহসে যোগিয়ে নেয়। এটি একটি বৃহৎ কারণ । এ ব্যাপারে সরকার ও ভিকেল প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট কে এ ব্যাপারে নতুন আইন ও নীতিমালা প্রনয়ন করা প্রয়োজন।
Total Reply(0)
M. Shawkat Ali ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৪ এএম says : 0
সংবিধানে লেখা আছে 'আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান'। তবে সংবিধানের পবিত্রতা রক্ষা করা বা একে মেনে চলার জন্য শপথকারীরা এই সব বিধির ধার ধারেন বলে মনে হয় না। কারন এই আপ্তবাক্যটি বিশেষ কয়েকটি শ্রেণির জন্য বাধ্যতামুলক নয়। যেমন যারা সংঘশক্তির অধিকারী, যারা সরকারী দল করে, যারা অর্থ ও প্রতিপত্তিশালী বা যারা গুন্ডাবাহিনী লালন করে তাদের জন্য। ড্রাইভাররা যেহেতু সংঘশক্তির মালিক সেহেতু তাদের জন্য আইন প্রযোজ্য হবে না এটাই এদেশে বাস্তব সত্য, তা তারা ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে গাড়ী চাণিয়ে যত লোকই রাস্তাঘাটে মারুক না কেন।
Total Reply(0)
Shadikur Rahman ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:৫৪ এএম says : 0
বাস ট্রাকের চালকরা যখন গাড়ী চালায় তখন তারা নিজেদের বারাক ওবামার চাইতেও বেশী ক্ষমাশীন মনে করেন। তারা অবাধে সকল আইন উপেক্ষা করে, যাত্রীদের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তাই করেন না।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন