ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০, ২৪ চৈত্র ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে তিন প্যাকেজ নির্ধারণ

মন্ত্রিসভায় হজ প্যাকেজ অনুমোদন

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১২:০০ এএম

২০২০ সালের হজ প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে হজে যাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। দূরত্বের উপর ভিত্তি করে এসব প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ এর খসড়ার চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে হজ প্যাকেজের খসড়ার অনুমোদন দেয়া হয়।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ-১ এর আওতায় ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা, প্যাকেজ-২ এর আওতায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং নতুন প্যাকেজ-৩ এর আওতায় খরচ পড়বে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীর জন্য ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকার প্যাকেজ প্রস্তাব করা হয়েছে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনার হজ এজেন্সিগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ প্যাকেজ-২ ও প্যাকেজ-৩ এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একাধিক প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। সউদী আরবে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৯ জিলহজ বা ৩০ জুলাই পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, প্যাকেজ-১ এর মাধ্যমে হজ করতে চার লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং প্যাকেজ-২ এ তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হবে। আর নতুন প্যাকেজ-৩ এর মাধ্যমে হজে যেতে খরচ হবে তিন লাখ ১৫ হাজার টাকা। আগে দুটি প্যাকেজের মাধ্যমে হজে যাওয়া যেতো। গতবারের চেয়ে এবার প্যাকেজ-১ এ খরচ বেড়েছে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। আর প্যাকেজ-২ এ খরচ বেড়েছে ১৬ হাজার টাকা। এই তিনটি প্যাকেজ অনুসরণ করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায়ও হজ এজেন্সিগুলোকে যাত্রী পরিবহন করতে হবে। সরকারি ব্যবস্থাপনার প্যাকেজ-১ এর হজযাত্রীরা পবিত্র মসজিদুল হারাম চত্বরের সীমানা থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ মিটারের মধ্যে, প্যাকেজ-২ এর হজযাত্রীরা সর্বোচ্চ ১৫০০ মিটারের মধ্যে এবং প্যাকেজ-৩ এর হজযাত্রীরা ১৭০০ মিটারের অধিক দূরত্বে অবস্থান করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, আগে দূরত্বের উপর ভিত্তি করে এসব প্যাকেজ নির্ধারণ ছিল না এবার দূরত্বের উপর ভিত্তি করে প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩১ জুলাই হজ হতে পারে। সউদী আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জন হজে যেতে পারবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জন হজে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তিনি বলেন, হজযাত্রীর বিমান ভাড়া, সউদী আরবের বাড়ি ভাড়া, সার্ভিস চার্জ, মুয়াল্লিম ফি, জমজমের পানি, খাবার খরচ এবং অন্যান্য ফি হিসাব করে ২০২০ সালের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনার জন্য তিনটি প্যাকেজ এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার এজেন্সিগুলোর জন্য একটি প্যাকেজের প্রস্তাব করা হয়েছে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর ও রাজকীয় সউদী সরকারের হজ ও ওমরাহ বিষয়ক উপমন্ত্রীর সঙ্গে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর মক্কায় বাংলাদেশ সরকার ও রাজকীয় সউদী সরকারের মধ্যে এ বছরের দ্বি-পাক্ষিক হজ চুক্তি সম্পাদিত হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বিমানের টিকেট বাবদ গৃহীত অর্থ হজ এজেন্সি ব্যাংক থেকে উত্তোলন করতে পারবে না। সরাসরি বিমানের ব্যাংক হিসাবে চলে যাবে। হজযাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী সরাসরি পে-অর্ডারের মাধ্যমে এয়ারলাইন্সকে পরিশোধ করতে হবে এবং সউদী আরবের বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ ও পরিবহন বাবদ গৃহীত অর্থ আইবিএএন (ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নাম্বার)-এর মাধ্যমে সউদী আরবে প্রেরণ ব্যতীত এজেন্সি উত্তোলন করতে পারবে না। এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা ফিক্সড করা হয়েছে। গতবছর বিশেষ কনসেশনে ১০ হাজার টাকা কমানো হয়েছিল। এ বছর রুট মক্কা ইনিশিয়েটিভের অধীন শতভাগ হজযাত্রীর সউদী আরবের প্রি-এরাইভাল ইমিগ্রেশন ঢাকায় সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি জানান, প্রত্যেক হজ এজেন্সি কমপক্ষে ১০০ জন এবং সর্বোচ্চ ৩০০ জন হজযাত্রী প্রেরণ করতে পারবে। হজ এজেন্সি ব্যতীত অন্য কোনো এজেন্সিকে হজযাত্রীর টিকেট বিক্রয়ের জন্য দেয়া যাবে না। কোনো হজ এজেন্সিকে কোনো অবস্থাতেই ৩০০-এর বেশি টিকিট দেয়া যাবে না। হজ পালনের জন্য সউদী আরব গমনের জন্য হজযাত্রীর পাসপোর্টের মেয়াদ ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকতে হবে। প্রতি ৪৪ জন হজযাত্রীর জন্য একজন করে গাইড নিয়োগ করা হবে। হজযাত্রীদের কোরবানি বাবদ ব্যয়ের অর্থ ইসলামী ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ করার জন্য রাজকীয় সউদী সরকারের পক্ষ থেকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এজন্য হজযাত্রীকে প্যাকেজ মূল্যের অতিরিক্ত ৫২৫ সউদী রিয়ালের সমপরিমাণ ১২ হাজার ৭৫ টাকা সঙ্গে নিতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেশি বিধি-বিধান পালন করে এককভাবে ব্যবসা করার সুযোগ দিয়ে ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স (সংশোধিত) নীতিমালা-২০২০’ এর খসড়ার অনুমোদন দিয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, নীতিমালাটি ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর ছিল। ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে বলে সংশোধনী এনেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে বিদেশি কোনো ডিজিটাল প্রতিষ্ঠান দেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ ছাড়া ব্যবসা করতে পারবে না এবং দেশি ডিজিটাল প্রতিষ্ঠানগুলোর শর্তগুলো প্রাধান্য দেয়া হবে। এখন বিদেশি প্রতিষ্ঠান আমাদের বিধি-বিধান পালন করে এককভাবে ব্যবসা করতে পারবে।

তিনি জানান, আর ডিজিটাল কমার্স খাতে বিদেশি কোম্পানির ৫১:৪৯ সমানুপাতে মালিকানা ব্যবস্থায় নিয়োগ করার কথা থাকলেও বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শতভাগ মালিকানার প্রস্তাব করা হলে মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেনি। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষেণের লক্ষ্যে ডিজিটাল কমার্স খাতে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধি-বিধান প্রতিপালন করার বিষয় অনুমোদন করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নে স্থাপন করা হবে। আইনে ৫৫টি ধারা রয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চ্যান্সেলর, ভাইস-চ্যান্সেলর, কোষাধ্যক্ষ নিয়োগসহ সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও অর্থ কমিটির কাজ নিয়ে আইনে উল্লেখ রয়েছে। অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় চ‚ড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (3)
Kablu Husan ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:৪২ এএম says : 0
এত দাম কেন ?
Total Reply(0)
Abm Atiqur Rahman Liton ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:৪৩ এএম says : 0
Well done. Nirontor doa o shuv kamona roilo.
Total Reply(0)
নাসির উদ্দিন ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:৪৮ এএম says : 0
আমার মতে প্যাকেজ মূল্য ঠিকই আছে
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন