ঢাকা, শনিবার, ০৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১৩ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

শরণার্থীদের ওপর নাৎসিদের মতোই নির্যাতন করছে গ্রিস : এরদোগান

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৩ মার্চ, ২০২০, ১২:০২ এএম | আপডেট : ১২:০৭ এএম, ১৩ মার্চ, ২০২০

সিরিয়া থেকে পালিয়ে ইউরোপের দেশ গ্রিসে আশ্রয় নিতে চাওয়া শরণার্থীদের সঙ্গে নাৎসিদের মতো আচরণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। বুধবার তুরস্কের পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার সময় এরদোগান এ অভিযোগ করেন। এসময় শরণার্থীদের ওপর অত্যাচারের ভিডিও ফুটেজও পার্লামেন্টে দেখান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সিরিয়া থেকে পালিয়ে তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া প্রায় দশ হাজার শরণার্থী ইউরোপের দেশ গ্রিসে আশ্রয় নিতে চাইছে। আর এদের প্রতিরোধ করার জন্য গ্রিস নাৎসিদের মত আচরণ করছে। আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, নাৎসিরা জার্মানিতে যা করেছে সেটির সঙ্গে এই ছবিগুলোর কোনো পার্থক্য নেই বলে উল্লেখ করেন এরদোগান। তাদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে এটি বর্বরতার শামিল। তবে শরণার্থীদের অত্যাচারের যে ভিডিও ফুটেজ স¤প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছড়িয়েছে সেটি ভুয়া বলে দাবি করেছে গ্রিস। সিরিয়ায় যুদ্ধের কারণে সেখান থেকে পালিয়ে আসা ৩৬ লাখ শরণার্থী তুরস্কে আশ্রয় নিয়েছে। এসব শরণার্থীর ইউরোপে যাওয়া ঠেকাতে তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে এরদোয়ানের অভিযোগ ইইউ ওই চুক্তি ভঙ্গ করেছে। আর চুক্তি ভঙ্গ করায় তুরস্ক চাইছে এসব শরণার্থীদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠাতে। প্রসঙ্গত, গত মাসে তুরস্ক ঘোষণা দেয়, এই কয়েক লাখ শরণার্থীকে নিজ ভ‚খÐে আটকে রাখা তাদের পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না। এএফপির খবরে বলা হয়, শরণার্থীদের গ্রিসে প্রবেশ ঠেকাতে টিয়ার গ্যাস ও পানি কামান ব্যবহার করতে দেখা গেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের। এক মাসের জন্য আশ্রয়ের আবেদনগুলো স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে গ্রিস। দেশটি জানায়, গত দুই সপ্তাহে অন্তত ৪২ হাজার লোককে অবৈধভাবে নিজ ভ‚খÐে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়েছে। তুর্কি পার্লামেন্টে গ্রিক সীমান্তের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে এরদোগান বলেন, সেখানে যা দেখা যাচ্ছেÑ নাৎসিরাও ঠিক এমনটিই করত। জার্মানির নাৎসিদের সঙ্গে এর কোনো ফারাক নেই। ‘নিরপরাধ লোকজনের ওপর গুলি করা হচ্ছে, সব ধরনের অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে তাদের সঙ্গে। বিশ্ববিবেকের সামনেই তারা এই বর্বরতা চালাচ্ছে।’ কাজেই পশ্চিম ইউরোপীয় ধনিক দেশগুলোতে অভিবাসীদের পথ সহজ করে দিতে তাদের গ্রিসে ঢুকতে অনুমতি দেয়ার আহŸান জানান তুর্কি প্রেসিডেন্ট। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, কেন গ্রিস তাদের এভাবে আটকে রাখছে? কেনইবা নাৎসিদের মতো তাদের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে? এর আগে গ্রিসের বিরুদ্ধে গুলি করে চার অভিবাসীকে হত্যার অভিযোগ করেছিলেন এরদোগান। যদিও সেটিকে ভুয়া খবর বলে অস্বীকার করেছ এথেন্স। গ্রিস জানায়, ইউরোপীয় সীমান্তের সুরক্ষা দেয়া তাদের দায়িত্ব। আল-জাজিরা।

 

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন