ঢাকা, রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২ চৈত্র ১৪২৬, ১০ শাবান ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

রোহিঙ্গা সঙ্কটের আগ মুহূর্তের ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে আসামের বন্দিশিবির

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৫ মার্চ, ২০২০, ১২:০১ এএম

রোহিঙ্গা সঙ্কটের আগ মুহূর্তের ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দিচ্ছে আসামের বন্দিশিবির। কারণ রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর প্রাক্কালে একই ধরনের আলামত দেখা গেছে মিয়ানমারের রাখাইনে। ২০১৯ সালের ২২ ডিসেম্বর ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সানাউল্লাহ আসামের রাজধানী গোয়াহাটি থেকে ৬০ কিলোমিটার দ‚রে কালাহিকাশ গ্রামে তার প‚র্বপুরুষের বাড়িতে বসে টেলিভিশন দেখছিলেন। সিটিজনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্টের বিরুদ্ধে সারা দেশে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর এই প্রথমবারের মতো সমাবেশে বক্তৃতা করতে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই আইনের অধীনে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে আসা অমুসলিম ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে ভারতের নাগরিকত্ব দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। মোদি তার বক্তৃতায় বললেন, “নাগরিকত্ব আইন বা [ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটেজেন্স] এর সাথে ভারতের মুসলিমদের কোন সম্পর্ক নেই। তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই”। মোদি আরও বললেন যে, তার রাজনৈতিক বিরোধীরা গুজব রটাচ্ছে যে, মুসলিমদেরকে বন্দিশিবিরে পাঠিয়ে দেয়া হবে। “কেউ দেশের মুসলিমদেরকে বন্দিশিবিরে পাঠাচ্ছে না, আর ভারতে কোন বন্দিশিবির নেইও... ভারতের মুসলিমদের মোটেই আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই”। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের চেয়ে সম্প‚র্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা হয়েছে সানাউল্লাহর। আসামের এনআরসি থেকে নাম বাদ পড়ায় ৫৩ বছর বয়সী এই যুদ্ধ-ফেরত সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে বিদেশি আখ্যা দেয়া হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৭ মে, তিনি যখন বিষয়টি মীমাংসার জন্য ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে যান, সানাউল্লাহকে গ্রেফতার করা হয় এবং আসামের গোয়ালপাড়ার বন্দিশিবিরে তাকে পাঠানো হয়। জানুয়ারির শেষের দিকে সানাউল্লাহর সাথে তার গ্রামে আমি দেখা করি। তিনি বললেন, “আমাকে যেখানে পাঠানো হলো, সেটা যদি বন্দিশিবির না হয়, তাহলে সেটা কি? যে বিল্ডিংগুলো সত্যি সত্যি দাঁড়িয়ে আছে, সেগুলোকে তিনি অস্বীকার করছেন। ওই বন্দিশিবিরে যে ১১টি যন্ত্রণাদায়ক দিন আমি কাটিয়েছি, সেটা আমি কখনও ভুলবো না”। আসামে যে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস প্রকাশ করা হয়েছে, সেটি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের চেয়ে দ্বিগুণ রাষ্ট্রহীন মানুষ সৃষ্টি করেছে। এই তালিকার পর ভারতের পার্লামেন্টে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট পাস করা হয়েছে। মিয়ানমারের মুসলিম সংখ্যালঘুদের সাথে এই ঘটনার আতঙ্কজনক মিল রয়েছে। ১৯৮২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করে এই রোহিঙ্গাদেরকে নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা হয়। ওই আইনে জাতিগত সংখ্যালঘুদের মিয়ানমারের জাতীয় জাতগুলোর অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। মিয়ানমারের নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে যে, তাদেরকেই শুধু নাগরিক হিসেবে গণ্য করা হবে যারা এই মর্মে দলিল দেখাতে পারবে যে, তাদের প‚র্বপুরুষরা ১৮২৩ সালের আগে মিয়ানমারে বসত গড়েছিল। আজকের রাখাইন রাজ্যে ওই সালে ব্রিটিশ শাসন শুরু হয়েছিল। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে ভয়াবহ বর্বরতা ও নৃশংসতা চালানো হয়েছে, সেটা মিয়ানমারের নাগরিকত্ব হিসেবে তাদের স্বীকৃতি না দেয়ারই ধারাবাহিকতার ফল। বহু দশক ধরে তাদেরকে বাঙালি অভিবাসী হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে আসছে, আসামে এখন যেটা করা হচ্ছে। আরেকটি শঙ্কা সৃষ্টিকারী মিলের দিক হলো আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর এর প্রভাব। রোহিঙ্গা সঙ্কট মিয়ানমার আর বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বিনিময়ের সমস্ত সম্ভাবনা নষ্ট করে দিয়েছে। ভারতের সাথে একই বিষয় ঘটতে পারে বলে এখন শঙ্কায় আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৭ মার্চ ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। কিন্তু তার সফরের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সফর বাতিল করা হয়েছে। যদিও বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য বিস্তারের কারণে এই সফর বাতিল করা হয়েছে। এর আগে, ২৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সংসদে জানিয়েছিলেন যে, সরকার ভারতের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তিনি আরও বলেন যে, “বাংলাদেশ এনআরসিকে ভারতের অভ্যন্তরীণ ইস্যু মনে করে। ভারত সরকারের সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশকে এই আশ্বাস দিয়েছেন যে, এই বিষয়টি বাংলাদেশের উপর কোন প্রভাব ফেলবে না”। দ্য থার্ড পোল, এসএএম।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন