ঢাকা, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ শাবান ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

করোনা শনাক্ত কিট চট্টগ্রামে

ফৌজদারহাটের ইনস্টিটিউট চিকিৎসায় পুরোদমে প্রস্তুত হবে কবে? আইসিইউ সঙ্কট রয়েই গেছে : সমন্বয়ের অভাব

শফিউল আলম | প্রকাশের সময় : ২৬ মার্চ, ২০২০, ১২:০১ এএম

দীর্ঘতর অপেক্ষার পর চট্টগ্রাম অবশেষে পেলো করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণ কিট। এসেছে গতকাল বুধবার। এরফলে কিছুটা হলেও এলো স্বস্তি। তবে শহরতলীর ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এ করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসার জন্য পুরোদমে উপযোগী ও প্রস্তুত হবে কবে? এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েই গেছে।
তাছাড়া চট্টগ্রাম করোনায় বড় ঝুঁকির এলাকা হলেও এখানে চিকিৎসার ক্ষেত্রে আইসিইউ সঙ্কট রয়েছে। তাছাড়া পদে পদে আছে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সমন্বয়ের অভাব। অবশ্য মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতায় নিয়োজিত সেনাবাহিনী এসব দিক তদারক ও দেখভাল করলে সুরাহা বেরিয়ে আসবে এমনটি আশাবাদ চট্টগ্রামবাসীর মনে জেগেছে।
অন্যদিকে দেশের প্রধান চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে আগত বিদেশি জাহাজের নাবিকদের শোর পাস অর্থাৎ মহানগরীতে প্রবেশের পাস দেয়া বন্ধ করায় স্বস্তি রয়েছে জনমনে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চিকিৎসক ও নার্সদের জন্য জরুরি পারসোনাল প্রটেকশন ইকুুইপমেন্ট (পিপিই) চট্টগ্রাম ইপিজেডে একটি কারখানায় এক লাখ পিস তৈরি এবং ঢাকায় চালান যাওয়ার ফলে চট্টগ্রামেও এর সঙ্কট কাটানোর পথও খুলে গেছে। এতে ডাক্তার-নার্সরা সন্তুষ্ট।
করোনা টেস্ট কিট ঢাকা থেকে অবিলম্বে চট্টগ্রামে আনার জন্য গত মঙ্গলবার শেষ পর্যন্ত উদ্যোগ নেন চট্টলবীর মরহুম মহিউদ্দীন চৌধুরীর পুত্র নগরীর সংসদ সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া।
করোনা করোনাভাইরাস শনাক্তের কিট চট্টগ্রামে পৌঁছার ফলে শহরতলীর ফৌজদারহাট বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এ করোনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা এখন থেকেই শুরু করা সম্ভব হবে। একথা জানান, বিআইটিআইডির পরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী এবং হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদ। অবশ্য গতকাল পর্যন্ত কি পরিমাণ টেস্ট কিট এসেছে তা জানা যায়নি।
অন্যদিকে বিআইটিআইডিকেই চট্টগ্রামে প্রধানত করোনায় চিকিৎসার উপযোগী করে পুরোপুরি তৈরি রাখার জন্য সরকারের তরফ থেকে আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সহযোগী অধ্যাপক ও ফোকাল পারসন ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, কিট হাসপাতালে এসেছে। আমরা পরীক্ষামূলক কাজও শুরু করে দিয়েছি। এ নিয়ে আর দুশ্চিন্তার কারণ নেই।
অবশ্য আগের সপ্তাহেই এমনকি ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে’ চট্টগ্রামে সেই কিট আসার কথা ছিল। পরে বিআইটিআইডি মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং দুইজন টেকনিশিয়ান প্রশিক্ষণের জন্য ঢাকায় যান। তারা মঙ্গলবার কিট নিয়ে ফেরার কথা ছিল। তবে শুধুই প্রশিক্ষণ নিয়ে চট্টগ্রামে ফিরেন খালি হাতে।
এ অবস্থায় নানামুখী অনিশ্চয়তায় উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মঙ্গলবার দেখা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেকের সঙ্গে। তিনি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের সঙ্গেও কথা বলেন। তারা উপমন্ত্রী নওফেলকে বুধবার থেকে চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তকরণ শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেন।
এদিকে চট্টগ্রামে এখনও রয়ে গেছে আইসিইউ সঙ্কট। করোনা চিকিৎসায় চট্টগ্রামে জরুরি ও পর্যাপ্ত ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সুবিধা না থাকায় প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগকে। সংক্রমণের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাস আক্রান্ত্র রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সুযোগও নেই। এ নিয়ে চরম বিপাকে প্রশাসন। জনমনে আছে দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তা- কীভাবে হবে করোনায় চিকিৎসা? কোথায় যাবেন তারা? কার কাছে? অবশ্য স্বাস্থ্য বিভাগ আশ^স্ত করছে, এ ধরনের সঙ্কটকালীন সময়ে নগরীর সেরকারি হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। নেয়া হচ্ছে উদ্যোগ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন