ঢাকা, শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২০, ২১ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ শাবান ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

করোনা আতংকে মৃত্যুর নিরবতা যেন সিলেটে

সিলেট ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ২৬ মার্চ, ২০২০, ৭:৩১ পিএম

করোনা আতংকে দেশ, বিশে^র মতো মৃত্যুর নিরবতা বিরাজ করছে প্রবাসী অধ্যূষিত সিলেটও। সেনাবাহিনী মাঠে নামার পর চিত্র আরো গভীরে পৌছেছে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইর হচ্ছে না, নগরীতে গাড়ি চলাচল হাতেগোনা। জনশূন্য ভূমি, ঘরে-বাইরে সবখানে আতঙ্ক। আতংক মোকাবেলায় একমাত্র মন্ত্র কেবল ধর্মীয় প্রার্থনা। এর বাইরে রোগি সেবক সবই অসহায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমিত তান্ডবে। সিলেট বিভাগে করোনো আক্রান্ত এখনও কেউ না হলে সন্দেহ সংশয়ের বিস্তৃতির শেষ নেই। ভাইরাস সনাক্তকরণ কীট সিলেটে এখন্ও আসেনি। বিদেশ ফেরতকদের আনোগোনায় সিলেট করোনা ঝুঁকিতে থাকায় বিভিন্ন মহল দাবী তোলেন সনাক্তকরণ কীট সহ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতির। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে সবই শুন্য। সিলেট শহীদ ডা: শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে করোন আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০০টি বেড করোনা আক্রান্ত বা সন্দেহভাজনদের জন্য। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা: সুশান্ত কুমার মহাপাত্র এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, মাত্র ৫টি বেড ্ও ২ জন ডাক্তার রয়েছেন ্ওই হাসপাতালে করোনা আইসোলেশনে। এই ডাক্তারদের তদারিক বা কর্তব্য কেবল মাত্র কাগজে কলমে। কেননা করোনা আতংক ডাক্তারদের মধ্যে বেশি ক্রিয়াশীল করে তোলেছে। তারা পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্টও (পিপিই) সংগ্রহে কর্মবিরতি ঘোষনা করেন। নিজস্ব চেম্বার বন্ধ করে দিয়েছেন। সিলেটের ডাক্তার পাড়া বলে খ্যাত ষ্টেডিয়াম এলাকা এখন স্তব্ধ। হাসপাতালগুলোতে ডাক্তাররা একান্ত কোন কাজ না হলে আসছেন না। বলতে গেলে কর্তব্য কর্ম
ভূলে আত্মগোপনে সকল শ্রেনীর ডাক্তাররা। হাসপাতালগুলোতে সাধারন কোন অপারেশনেও পিপিই ছাড়া ডাক্তারা আগ্রহী হচ্ছেন না। সিলেট বিভাগ গণদাবী ফোরামের সভাপতি চৌধুরী আতাউর রহমান আজাদ এডভোকেট বলেন, আমরা করোনা প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বারবার দাবী তোলেছি কিন্তু সেই দাবী কর্তৃপক্ষ গ্রহন করেনি বলেই করোনা সনাক্তকরণ কোন ব্যবস্থা প্রবাসী অধ্যূষিত সিলেটে হয়নি। সেকারনে করোনা সন্দেহে দুই জন প্রবাসী মৃত্যুবরণ করলেন, করোনা সনাক্ত না করে নিতান্ত সন্দেহবশত: তাদের রোগ উপযোগী চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়েছে তারা। পরিনামে মৃতুর মুখে পতিত হন ্ওই দুই প্রবাসী। তিনি আরো বলেন, করোনা সচেতনার পরিবর্তে ডাক্তাররা আতংক ছড়াচ্ছেন সাধারন রোগিদের মধ্যে। তারা সর্বপ্রকার চিকিৎসা সেবা অঘোষিতভাবে বন্ধ করে রেখেছেন। এদিকে, সিলেট ্ওসমানী বিমানবন্দরে ফ্লাইট স্বাভাবিক থাকায় প্রতিদিনই প্রবাসীরা সিলেটে আসছেন। বিমানবন্দরের পরীক্ষিা নিরীক্ষার পর সন্দেহজনক হলে ডা: শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আইসোলেশনে বা হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ প্রদান করছে কর্তৃপক্ষ। করোনার সংক্রম রোধে বা সর্তকতা নিশ্চিতে আজ বৃহস্পতিবার থেকে সিলেট নগরীসহ সকল উপজেলায় টহলে নেমেছে সেনাবাহিনী। সিলেট নগরীর বন্দর, জিন্দাবাজার, আম্বরখানা ও সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ, বিশ্বনাথসহ অন্যান্য উপজেলায় সেনাবাহিনীকে টহল দিতে ও বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘর থেকে বের না হতে পরামর্শ দিতে দেখা যায়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামাজিক সঙ্গ নিরোধ এবং হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে আজ টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। সিলেটের সব এলাকায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানোর লক্ষ্যে সামাজিক দূরত্ব ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুবিধার্থে প্রশাসনকে সহায়তায করছেন সেনা সদস্যরা। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে তারা জেলা ও বিভাগীয় করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা ব্যবস্থা, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সিলেটে সেনাবাহিনীর টহল শুরু হয়েছে।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন