ঢাকা, সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২০, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ১৪ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

ইসলামী জীবন

মানবাধিকার ও ইসলাম

মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান | প্রকাশের সময় : ২৭ মার্চ, ২০২০, ১২:০৮ এএম

সাত
তাদের উপর কোন প্রকার নির্যাতন চালাবে না, তাদের মনে আঘাত দিবে না।” “Bukhari, Abu Abdullah Ismail, Ibid, Vol, 1, P, 9 ”। শুধু তাই নয়, মহানবী সা. স্বীয় দাস যায়েদকে মুক্ত করে দিয়ে নিজের প্রতিপাল্য হিসেবে গ্রহণ করে দাসদেরকে মর্যাদার আসনে সমাসীন করেছেন। জাতিসংঘের The Universal Declaration of Human Rights- এর ৪নং অনুচ্ছেদে এবং International of civil and political Rights (ICCPR) এর ৮নং অনুচ্ছেদেও দাসত্বের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বংশ কৌলিণ্য ও বর্ণবাদ বিষয়ে মহানবী সা. বলেন, “কোন অনারব ব্যক্তির ওপর কোন আরববাসীর এবং কোন কৃষ্ণাঙ্গের উপর কোন স্বেতাঙ্গের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের একমাত্র মাপকাঠি হল তাকওয়া।” “Al-Jahiz-Amrinb Bahr, kitab- Al- Bayan wal Tabyyan, P-54” । উক্ত বক্তব্যে মহানবী সা. বংশ কৌলিণ্য বর্ণবাদ প্রথাকে স্থান দেননি।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর The Declaration on the Elimination of all forms of Racial Discrimination এর অনুচ্ছেদ-এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বৈষম্য হল মানব মর্যাদার বিরুদ্ধে একটি অপরাধ এবং তা United Nations Charter the universal Declaration of Human Rights এর পরিপন্থী এবং জাতিসমূহের বন্ধুত্বপূর্ণ সহাবস্থানের পথে বাধা স্বরূপ। “বেরা মন্ডল ও মো. শাহজাহান মন্ডল, প্রাগুক্ত, পৃ. ১১১-১১২”।
বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানবাধিকার : বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থা ১৯৪৮ সালের ১০ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ঘোষিত The Universal Declaration of Human Rights- এর উত্তরাধিকার লালন করছে। বিশ শতকের প্রথম থেকেই মানব সভ্যতা অত্যন্ত অসহায়ভাবে দুটো ভয়াবহ বিশ্বযুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছে। মানবাধিকারের ললাটে কালিমা লেপন করে এতে লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ নারী-পুরুষ- শিশু বর্বরতম হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়। অতঃপর ভার্সাই চুক্তি ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংস্তুপের উপর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। “আহমদ, ড. এ.বি. এম শামসুদ্দীন, মদীনা সনদের আলোকে মানবাধিকার ঘোষণা, তা.বি.পৃ. ৮০”। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় একনায়কত্ব ও ফ্যাসিবাদের ভয়াবহতা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলার প্রেক্ষাপটে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ভয়াবহতা, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলার প্রেক্ষাপটে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সৃষ্টিকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের মাধ্যমে সর্বপ্রথম মানবাধিকারের প্রতি বিশ্বসমাজের উৎকণ্ঠা প্রকাশ পায়। ফলে নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি আন্তর্জাতিক চেতনা সৃষ্টি হয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৪৫ সালে সানফ্রান্সিসকো শহরে জাতি সংঘের সনদ প্রণয়নকালে এর স্থপতিগণ মৌলিক মানবাধিকার, ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও মানুষের মর্যাদার প্রতি তাঁদের আস্থা ব্যক্ত করেন। “রেবা মন্ডল, প্রাগুক্ত, পৃ. ২৮-৩১”।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সভায় ৩০টি অনুচ্ছেদ সম্বলিত যে মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় তার ৩ থেকে ২১ পর্যন্ত অনুচ্ছেদসমূহে ১৯টি নাগরিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার স্থান পেয়েছে এবং এর ২২ থেকে ২৭ পর্যন্ত অনুচ্ছেদসমূহে ৬টি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার স্বীকৃত হয়েছে। মানবাধিকারের এই সর্বজনীন ঘোষণা গৃহীত হওয়ার পর স্বাধীনতা প্রাপ্ত প্রায় সকল রাষ্ট্রের সংবিধানে উক্ত ঘোষণাপত্রে বর্ণিত মানবাধিকার সমূহ মর্যাদা সহকারে স্থান পেয়েছে। জাতিসংঘ তার সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জন্য মানবাধিকারের এই সনদ অনুসরণ বাধ্যতামূলক করে নি। কিন্তু এটি অনুমোদন লাভ করার পর সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে এতে স্বেচ্ছামূলক করে নি। কিন্তু এটি অনুমোদন লাভ করার পর সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে এতে স্বেচ্ছামূলক স্বাক্ষর প্রদানপূর্বক নিজ নিজ দেশে তা বাস্তবায়নের আহবান জানানো হয়। কোন দেশ এই সনদ কতটুকু অনুসরণ করছে তা পর্যবেক্ষণও এ সম্পর্কিত রিপোর্ট প্রদানের জন্য জাতিসংঘ একটি স্থায়ী মানবাধিকার কমিশন গঠন করে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই কমিশনের শাখা রয়েছে যার মাধ্যমে জাতিসংঘ তার সদস্য রাষ্ট্রসমূহের মানবাধিকার বিষয়ক যাবতীয় রিপোর্ট অবহিত হয়।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
M. Ashraf Hossen Tuhin ৫ মে, ২০২০, ২:২২ পিএম says : 0
অত্যন্ত দূঃখের বিষয় এই যে, ইসলামে স্পষ্ট ভাষায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাংলাদেশে লকডাউনে ঘটেছে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে। আন্তর্জাতিক ভাবে ইয়েমেন, সিরিয়া, ইরাক সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিরস্ত্র ও শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে। আরবদের নিজেদের মধ্যেই এই অত্যাচার জুলম, আর নির্যাতন লক্ষ্যনীয়। সৌদি জোটদের স্বস্মন্বয়েে ইয়েমেনে নিরিহ এ্যতিম শিশুদের শিবীরে বোমা হামলায় লাখ লাখ ইয়েমেনি শিশুর মৃত্যু ঘটানো হয়েছে। তাদের অনাহারে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে। রয়েছে চিকিৎ ও খাদ্য নিষেধাজ্ঞা। যদিও সম্প্রতি করোনা প্রাদুর্ভাবে তাদের দেশে সাময়িক যুদ্ধ বিরতি ঘোষনা করা হয়েছে। সিরিয় এক আঘাতপ্রাপ্ত মৃত্যুপথযাত্রী শিশু, মৃত্যুর আগে বলেছিল, “আমি আল্লাহকে সব বলেদিব।” হয়তো সেইশিশুর আর্তনাদেই কেঁপে উঠেছে প্রকৃতি। বিশ্বকে তছনছ করে দিয়েছে। আমি মানবিক কারণে মৃত্যুদন্ড শাস্তির বিরোদ্ধ্যে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন