ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

দক্ষিণাঞ্চলে নতুন শঙ্কা ঘরে ফেরাদের নিয়ে

বরিশাল ব্যুরো : | প্রকাশের সময় : ২৭ মার্চ, ২০২০, ১২:০৬ এএম

করোনাভাইরাস নিয়ে যুদ্ধকালীন অবস্থার মধ্যে সারাদেশ থেকে কয়েক লাখ মানুষ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় গ্রামের বাড়িতে আশ্রয় নেয়ায় শহরের চেয়ে এখন গ্রামের দিকেই বেশি নজরদারির দাবি উঠেছে। সংক্রমিত এলাকা থেকে যারা ফিরেছেন তাদের নিয়ে শঙ্কিত গ্রামবাসি। কিন্তু এত বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রাণের ভয়ে আদি ভিটায় ফিরে এসেছেন যে, তাদের কার কি শারিরিক অবস্থা, সে সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়াও দুরুহ হয়ে পড়েছে।


তবে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি কিছুটা জোরদার করা হয়েছে। গত দুদিন ধরে দক্ষিণাঞ্চলের সব শহর, বন্দর ও জনসমাগম এলাকাগুলোর ব্যবসা-বানিজ্য সহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ। শহরগুলোর পথঘাট অনেকটাই জনমানব শূণ্য। সশস্ত্র বাহিনী মাঠে নামার পরে স্থানীয় প্রশাসন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন প্রতিনিধিরারও খোঁজখবর রাখতে শুরু করেছেন। অনেক এমপি এখনো এলাকায় না ফিরলেও বেশিরভাগই মাঠ পর্যায়ে খোঁজখবর রাখছেন। একাধিক চিকৎসক জানিয়েছেন, এখন শুধু বিদেশ ফেরত নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশেষ করে যেসব এলাকায় এ রোগের সংক্রমন শুরু হয়েছে, সেখান থেকে আসা মানুষকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা উচিত। পাশাপাশি তাদেরকে এলাকা ও নিজ পরিবারের স্বার্থে আলাদা থাকারও তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগন। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের ৬ জেলার ৪২ উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ৬শ বিদেশ ফেরত হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। এর বাইরে প্রায় ৯শ সুস্থবস্থায় কোয়ারেন্টাইন শেষ করেছেন। তবে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেসন ওয়ার্ডে বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ৫ জন করোনার লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাদের অবস্থা উন্নতির দিকে বলে পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানিয়েছেন। তাদের রক্তের নমুনা আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়েছে।

করোনা আতঙ্কে গত সপ্তাহখানেক ধরেই রজধানী ছাড়তে শুরু করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। সড়ক, নৌ ও আকাশপথে তিল ধরার ঠাঁই ছিলনা। এর মধ্যেই ২৬ মার্চ থেকে টানা দশ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা আসার পরে ২৪ মার্চ সারা দেশ থেকেই দক্ষিণাঞ্চলমুখি জনশ্রোত শুরু হলেও ঐদিন দুপুর থেকে নৌযোগাযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়। ফলে চরম বিপাকে পড়েন ঘরমুখি মানুষ।

২৫ মার্চ রাতের প্রথম প্রহর থেকে ২৬ মার্চ মধ্যরাত পর্যন্ত সড়ক পথে বাস-ট্রাক ও পীকআপসহ যে যেভাবে পেরেছে পরিবার পরিজন নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে ফিরেছে। ২৬ মার্চ দিনভরই ঢাকা-মাওয়া-ভাংগা-বরিশাল মহাসড়কে ছিল ঘরমুখো আতঙ্কিত জনশ্রোত। এদের বেশিরভাগই সীমাহীন দূর্ভোগ সহ্য করে বরিশাল কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে পৌছে সেখান থেকে ৫ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে মিনিবাস টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন যানবাহনে পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী চলে গেছেন। বৃহস্পতিবারও দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ ট্রাক ও পীকআপে বরিশালে পৌছে যার যার গ্রামের বাড়ি ফিরেছেন।
গত তিনদিন আতঙ্কিত মানুষের গ্রামে ফেরার এ শ্রোতকে অনেকেই ’৭১-এর ২৬ মার্চ রাতে ঢাকায় পাক সেনাবাহিনীর বর্বর হামলার পরে প্রান নিয়ে ঘরে ফেরার সাথে তুলনা করেছেন। দীর্ঘ ৪৯ বছর পরে এক প্রাণঘাতি ভাইরাসের ভয়ে দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ যে যেভাবে পেরেছে ঘরে ফিরেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন