ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

হত্যার দায় স্বীকার সন্ত্রাসী ট্যারান্টের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ মার্চ, ২০২০, ১২:০৬ এএম

নিউজিল্যান্ডের আলোচিত ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৫১ মুসলিমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে সেই সন্ত্রাসী ব্রেন্টন ট্যারান্ট। গত বছর ওই হামলা চালিয়ে সে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশিসহ মোট ৫১ জন মুসলিমকে হত্যা করে। এ সময় ওই দুটি মসজিদে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করছিলেন। সেখানে প্রবেশ করে সে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। আর সেই দৃশ্য ফেসবুকে লাইভ স¤প্রচার করে। এতে ৫১ জন মুসল্লিকে হত্যার দায় স্বীকারের পাশাপাশি অন্য ৪০ জনকে হত্যাচেষ্টার কথা স্বীকার করেছে ব্রেন্টন ট্যারান্ট। একই সঙ্গে স্বীকার করেছে এক দফা সন্ত্রাসের অভিযোগ। এর আগে সে অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। এ অবস্থায়ই জুনে তার বিচার হওয়ার কথা ছিল।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কে নিউজিল্যান্ড এখন লকডাউন। এ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার ক্রাইস্টচার্চ হাই কোর্টে ব্রেন্টন ট্যারান্ট ওই অভিযোগ স্বীকার করে। তবে এ সময় আদালতে শুনানিতে কোনো সাধারণ মানুষকে উপস্থিত থাকতে দেয়া হয়নি। তবে মসজিদ দুটির প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকতে দেয়া হয়। বিচারক ক্যামেরন ম্যান্ডার বলেছেন, এটা দুঃখজনক যে, করোনাভাইরাসের কারণে বিধিনিষেধে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি, যখন অপরাধী তার দোষ স্বীকার করেছে।

স্বঘোষিত শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী ব্রেন্টন ট্যার‌্যান্ট এর আগে হত্যাকাÐের দায় অস্বীকার করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে ৫১টি হত্যার অভিযোগ, ৪০টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিজের আগের সিদ্ধান্ত বদলাতে মানসিকভাবে স্থির হলে দ্রæতই আদালতের শুনানির আয়োজন করা হয়। তার সামনে যখন অভিযোগগুলো পড়ে শোনানো হচ্ছিল, তখন অকল্যান্ড কারাগার থেকে ভিডিওলিংকের মাধ্যমে ক্রাইস্টচার্চের উচ্চ আদালতকে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি দোষী।’ জবানবন্দি দেয়ার সময় ক্যামেরার দিকে একাগ্রচিত্তে তাকিয়ে ছিলেন তিনি। নিজের এই মত বদলানোর ক্ষেত্রে সাবেক এই জিম প্রশিক্ষক কিংবা তার আইনজীবীর কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এর মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রথমবারের মতো দোষী সাব্যস্ত হওয়া কোনো সন্ত্রাসী হলেন এই অস্ট্রেলীয়।

দক্ষিণ প্রশান্তমহাসাগরীয় দেশটিতে কোনো মৃত্যুদÐের বিধান নেই। কিন্তু বাদবাকি জীবন তাকে কারাগারেই কাটাতে হবে। সন্ত্রাসী ও হত্যার অভিযোগের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদÐের আইন রয়েছে। শুনানিতে জনসাধারণের কাউকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া হয়নি। ট্যার‌্যান্ট ও তার আইনজীবী ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন। হামলার ঘটনায় আহত ও হতাহতদের পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য আক্রান্ত দুই মসজিদের একজন প্রতিনিধিকে শুনানিতে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেয়া হয়। শুনানিকালে বিচারপতি ক্যামেরন ম্যান্ডার বলেন, এটি দুঃখজনক, যখন আসামি দোষ স্বীকার করলো, তখন বর্তমানে আরোপ করা কোভিড-১৯ বিধিনিষেধের কারণে আহত ও হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা আদালতে উপস্থিত থাকতে পারলোনা। তিনি বলেন, আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু না হওয়া পর্যন্ত এবং আহত ও হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা স্বশরীরে আদালতে উপস্থিত থাকতে পারার মতো পরিস্থিতি না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে সাজা দেয়ার কোনো উদ্দেশ্য নেই। সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন