ঢাকা, সোমবার, ২৫ মে ২০২০, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০১ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

সম্পাদকীয়

সক্ষমতা বাড়াতে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে

| প্রকাশের সময় : ২৮ মার্চ, ২০২০, ১২:০৩ এএম

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশে এখন অঘোষিত লকডাউন চলছে। শ্রেণি নির্বিশেষে প্রত্যেকের মধ্যেই আতঙ্ক। রাজধানীর রাস্তা-ঘাট ফাঁকা। পারতপক্ষে কেউ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় এই লকডাউন প্রাথমিক পদক্ষেপ হলেও দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সরকারের সংশ্লিষ্টরা করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষমতার কথা বেশ জোরেশোরে বললেও প্রস্তুতি যে অত্যন্ত অপ্রতুল, তা প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। দেশে আল্লাহর রহমতে করোনার প্রাদুর্ভাব এখন পর্যন্ত আশংকাজনক পর্যায়ে না গেলেও প্রতিদিনই আক্রান্তদের সংখ্যা বাড়ছে। গতকাল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৮ জন। সুস্থ হয়েছে ১১ জন। এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে ৫ জন। তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে দেশে করোনাভাইরাসের সার্বিক পরিস্থিতি বোঝা যাবে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা মোকাবেলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

বিশ্লেষকরা বারবার বলেছেন, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে ক্ষেত্রে আমরা দেরি করে ফেলেছি। শুরুতে বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় খুব একটা আমলে নেয়নি। প্রস্তুতির বিষয়টি কেবল সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গত ২১ মার্চ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জরুরি সেবার জন্য ১০০টি আইসিইউ প্রস্তুত। পর্যায়ক্রমে আরো ৫০০ ইউনিট স্থাপন করা হবে। বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমানে প্রস্তুত রয়েছে মাত্র ২৯টি আইসিইউ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্বশীলরা যতটা প্রচারণায় ব্যস্ত, প্রস্তুতিতে ততটাই পিছিয়ে। এ অবস্থায় সামনে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে। তার উপর রয়েছে লোকবল সংকট, প্রশিক্ষণের অভাব এবং ব্যবস্থাপনার অনভিজ্ঞতা। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ১০-২০ শতাংশকে আইসিইউতে রাখার প্রয়োজন হতে পারে। অথচ ভেন্টিলেশনের সংখ্যা ন্যূনতম পর্যায়ে নেই। ঢাকা ছাড়া দেশের বাকি ৬৩ জেলায় ভেন্টিলেশন সুবিধা নেই। যদিও আক্রান্তদের চিকিৎসার্থে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল মিলিয়ে ৫টি হাসপাতালে ৪৫১৫ আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হয়েছে; তথাপি এই প্রস্তুতির বাইরে অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতি অত্যন্ত সীমিত অবস্থায় রয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান অনুযায়ী, একটি দেশের হাসপাতালে যতগুলো শয্যা থাকে তার ১০ শতাংশ আইসিইউ থাকতে হয়। ন্যূনতম ৪ শতাংশ থাকতেই হবে। আমাদের দেশে সরকারি হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ৩১২২০টি। হিসাব অনুযায়ী, আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর থাকার কথা ৩০০০ এর বেশি। ন্যূনতম হলেও ১২০০ থাকতে হবে। অথচ দেশে রয়েছে মাত্র ২২১টি আইসিইউ। এর মধ্যে সবগুলোতে ভেন্টিলেশনের সুবিধা নেই। দেশের স্বাস্থ্য খাতের এই চিত্র বলে দিচ্ছে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় আমরা কতটা নাজুক পর্যায়ে রয়েছি। অথচ শুরুতে গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতি নিলে এমন পরিস্থিতি হতো না। আমাদের দেশের অপ্রতুল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং সেবার মানের কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি পরিবার-পরিজন নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে যাচ্ছেন। এদিকে আইইডিসিআর-এ করোনা আক্রান্ত সন্দেহে অনেকে ফোন করেও খুব কমই সাড়া পাচ্ছে। অনেককে টেস্টের জন্য দীর্ঘ সিরিয়ালে থাকতে হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনাভাইরাস মোকাবেলায় দেশের প্রস্তুতি যে সন্তোষজনক নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যাবতীয় ঘাটতি দূর করতে সরকারের দ্রæত ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। এখন আর শৈথিল্য প্রদর্শনের সুযোগ তো নেই, বরং গতি বাড়াতে হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। দেশে ইউনাইটেড, অ্যাপোলো, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড, স্কয়ার, ল্যাবএইডের মতো মানসম্পন্ন আরো বেশ কিছু হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতালে চিকিৎসার আধুনিক সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এই হাসপাতালগুলোকেও করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে হবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি হাসপাতালগুলো এগিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া বিশেষায়িত হাসপাতাল আইসিডিডিআরবিসহ বিভিন্ন হাসপাতাল বিভিন্ন রোগ ব্যাধির ক্রাইসিসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সব হাসপাতালও করোনা মোকাবেলায় এগিয়ে আসতে পারে। চীন দশ হাজার টেস্ট কিট, চিকিৎসকদের জন্য দশ হাজার পিপিই, এক হাজার ইনফ্রারেড থার্মোমিটার এবং পনের হাজার মাস্ক দিয়েছে। দেশটি আরো সহায়তা দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। সরকারের উচিত হবে, চীনের সহায়তা নিয়ে করোনা মোকাবেলা কার্যক্রমকে বেগবান করা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন