ঢাকা, বুধবার, ০৩ জুন ২০২০, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ১০ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

তথ্য গোপন করে মহামারী এড়ানো যাবে না -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ এপ্রিল, ২০২০, ১:০৭ পিএম

তথ্য গোপন করে এই মহামারী এড়ানো যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মোকাবিলা করা যাবে না। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে এই রোগের ভয়াবহতা বুঝিয়েই জনগণকে কোয়ারেন্টাইন মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ, সুরক্ষা ও প্রতিকারে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য দিয়ে মানুষের আস্থা তৈরি করা উচিত। সরকারের তথ্য গোপন পলিসির সমালোচনা করার কারনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গত কয়েকদিনে বিএনপির ১২ নেতাকর্মী ও চিকিৎসকদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অবিলম্বে তাদের মুক্তি দিন।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভিডিও কন্ফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে রোগের পরীক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তবে দেশে পরীক্ষা নিয়ে নানা জটিলতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী কিংবা সরকারী পরিসংখ্যানের আপডেট এখন কেউ আর বিশ্বাস করছে না। অন্ধ হলেই কি বন্ধ হবে প্রলয়!
‘এই সংকটময় সময়ও বিএনপি জনগণের পাশে নাই। তারা সরকারের সমালোচনা করে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপতৎপরতায় লিপ্ত।’ সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, আমি বলতে চাই- গণতন্ত্রকে যাদুঘরে পাঠিয়েছেন বলেই সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরাকে অপতৎপরতা হিসেবে অভিহিত করছেন। সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে সমালোচনা করাকে প্রকৃত গণতন্ত্রে অপতৎপরতা হিসেবে গণ্য করে না। আপনাদের গণতান্ত্রিক মানস নেই বলেই সমালোচনা শুনলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এই মহাদুর্যোগে যখন মানুষ জাতীয় ঐক্যের কথা বলছে তখন ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য বিভাজন ও বিভেদেরই প্রতিফলন। কি কারণে যেন আপনারা সমালোচনার শঙ্কায় অস্থির থাকেন। করোনা প্রতিরোধ বা মোকাবেলায় বাংলাদেশ যদি এতটাই সক্ষম হতো তাহলে ইউরোপিয়ান, আমেরিকান ও জাপানীরা দেশ ছেলে যাচ্ছেন কেনো?
তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন তিনি কোয়ারেন্টাইনে থেকে কি বিএনপির সমালোচনা ছাড়া কিছুই বোঝেন না? যখন করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হলো তখন আমরাই রাজপথে নেমেছি, সারাদেশের সর্বত্রইা প্রথম সচেতনতা শুরু করেছি। আমরা এবং আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই দুঃসময়ে দেশের সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শ্রেণী-পেশার সংগঠন অর্থাৎ সর্বস্তরের জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করার আহবান জানিয়েছেন। সামাজিক, রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক সকল ভেদাভেদ ভুলে এখন সকলের একজোট হওয়ার সময়। আমাদের দল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সারাদেশে যে যেভাবে পারছেন দলের নির্দেশ অনুযায়ী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। বিএনপিই একমাত্র দল যারা দেশের প্রতিটি দুঃসময়ে জনগণের পাশে থেকেছে এবং আছে।
রিজভী বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বারবার যিনি গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছেন, তাকে দীর্ঘ ২৬ মাস বিনা দোষে কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে সাময়িক মুক্তি দেয়া হয়েছে। তিনি গুলশানস্থ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। এমতাবস্থায় তার নিরাপত্তার জন্য মাননীয় চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আইজি বরাবরে আবেদন করলেও এ বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে আমি অবিলম্বে বিএনপির মাননীয় চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পুলিশের আইজিপির কাছে অনুরোধ করছি।
রিজভী বলেন, মহামারী ‘নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯)’ পুরো বিশ্বকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছে। দুর্যোগের কাছে মানুষের অর্থ, অস্ত্র, ক্ষমতা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। সামান্য উঁচু-নীচুর ব্যবধানেও যেখানে মানুষ মানুষকে প্রতিপক্ষ-প্রতিযোগী ভাবতো, আজ মৃত্যুর ভয় সবাইকে জড়োসড়ো করে ফেলেছে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গের বিভেদহীন দূত হিসেবে প্রতিদিন শত শত মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে নতুন নতুন মানুষের দুয়ারে হাজির হচ্ছে প্রাণঘাতী করোনা। লাখ লাখ মানুষকে সংক্রমণ আর হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু বিশ্বকে আজ এক কাতারে দাঁড় করিয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল বুধবার পর্যন্ত সারাদেশে ১৭৫৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৪ জনের মধ্যে কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ধরা পড়েছে। বাংলাদেশে সামাজিক পর্যায়ে সংক্রমিত হচ্ছে বলে স্বীকার করলেও তা মৃদু মাত্রায় রয়েছে বলে দাবী করেছে সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ। সরকার বলছে-সবকিছু নিয়ন্ত্রণে, পশ্চিমা মিডিয়া বলছে-আগামী দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের গণমাধ্যমও এ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল। মৃত্যু হানা দিচ্ছে দেশে দেশে। আর করোনা যদি এখনি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা যায় তবে তা ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনবে। ইতোমধ্যে বিদেশী কুটনীতিকরা দলে দলে ঢাকা ছাড়ছেন। আমরা মনে করি সরকারের নীতির কারণেই দেশের করোনা পরিস্থিতির আসল চিত্র ফুটে উঠছে না। ভেতরে ভেতরে সংক্রমণ হতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে। আজকের পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, গতকাল ২৪ ঘন্টায় করোনার উপসর্গ জ্বর, সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মারা গেছেন বেশ কয়েকজন। আর সরকারী হিসাবে মারা গেছে একজন।
রিজভী বলেন, এক্ষেত্রে পরীক্ষা বাড়ানোর পাশাপাশি লকডাউনকোয়ারেন্টাইনকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষজ্ঞদের শঙ্কা-হঠাৎই বাড়তে পারে ভয়াবহতা। সেক্ষেত্রে লকডাউন চালিয়ে যাওয়া, আরো বেশি বেশি টেস্ট করে পজেটিভ রোগী খুঁজে আইসোলেশনে নিয়ে আসা কাজে আসতে পারে। সেনাবাহিনী আজ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা মনে করি-সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এ বিপদ ঠেকানো সম্ভব নয়।
এসময় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইয়াজ্জেম হোসেন রোমান উপস্থিত ছিলেন।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (3)
*শওকত* ২ এপ্রিল, ২০২০, ১:৫৬ পিএম says : 0
আপনাদের কাছে সঠিক কোন তথ্য থাকলে তা প্রকাশ করুন।
Total Reply(0)
MAMUN ২ এপ্রিল, ২০২০, ১:৫৭ পিএম says : 0
ATODIN VALOI CHILO BUT KORONA ASTE NA ASTE AMADER RAJNITI VIDRA PAGOLER MOTO PAGLAMI KORTACE.OISOB PAGOLER MPDDEY ENI AKJON.HE ALLAH AMADER KORONAR PASHAPASHI ADER HAT THAKE ROKKHA KORON.
Total Reply(0)
Mohammed Shah Alam Khan ২ এপ্রিল, ২০২০, ৯:৪৮ পিএম says : 0
এমনিতেই রেজভী সাহেব একজন প্রমাণিত মিথ্যাবাদী এবং তাঁর মধ্যে আমি কখনও রাজনীতের গুনা গুন উপলব্ধি করিনি এটাই সত্য। সেদিকথেকে বিচার করলে কোন বুদ্ধিমান ব্যাক্তি তাঁর লিখা পড়ে অযথা সময় নষ্ট করবেনা এটাও সত্য। তারপরও আমি তাঁর বক্তব্য পড়ে থাকি কারন আমি জানি রেজভী সাহেব হচ্ছেন লন্ডনে পালাতক আসামী তারেক জিয়ার আজ্ঞা বাহক। বক্তব্য কোন দিকে মোড় নিবে এটা রেজভী সাহেব রাজনীতিবিদ হলে অবশ্যই নজরে রাখতেন। কিন্তু আমরা কি দেখছি তিনি সেদিকে কোন নজর দেন না, লন্ডনে পালিয়ে থাকা সাজাপ্রাপ্ত আসামী যা বলেন সেটা গ্রহণযোগ্য হউক বা না হউক রেজভী সাহেব সেটাই অনর্গল বলে ফেলে সমালোচনার সম্মুখীন হন। আর আমরা লন্ডনের সেই পালাতক আসামীর রাজনৈতিক অযোগ্যতা সম্পর্কে আরো অবগত হই। রেজভী সাহেব বলেছেন বিশ্ববাসী আজ করোনাভাইরাসের কারনে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে এটা সত্য কিন্তু বিশ্বের কোন রাষ্ট্রের বিরোধী দলগুলোকে আমরা সরকারের সমালোচনা করতে শুনছিনা। এমনকি পাশের দেশ ভারতের বিরোধী দলীয় নেত্রী সোনিয়া গান্ধী সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রিজভী সাহেবের দলের লোকজন করোনাভাইরাস নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা রকম গুজব ছড়িয়ে জনগণকে দ্বিধাগ্রস্ত করে সরকার ছূটি দিয়ে ঘরে কোয়ারেন্টান করার নির্দেশ দেয়ার পরও সাধারণ লোক গুজবকারীদের প্রচারে সরকারের কথা না শুনে বরং সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে দেশকে বিপদ্গ্রস্থ করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। এখন সরকার যখন তাদেরকে হাঁতে নাতে ধরে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নিচ্ছে তখন রেজভী সাহেব এসব দুষ্কৃতিকারীদের বাচানোর প্রচেষ্টায় লিপ্ত। সাথে সাথে আজ দেশ যখন মহামারীর সাথে লড়ছে তখন রেজভী সাহেব রাজনৈতিক ফায়দা নেয়ার জন্যে মিথ্যা ও বিভ্রান্ত মূলক বক্তব্য দিয়ে তারক জিয়া ও বেগম জিয়াকে সামনে আনার চেষ্টা করেছে এবং দলীয় কর্মীদেরকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করছে এটা স্পষ্টভাবে তাঁর বক্তব্যে ফুটে উঠেছে। আল্লাহ্‌ আমাদের দেশের বর্তমান বিরোধী দলের নেতাদেরকে সততার সাথে রাজনীতি করার ক্ষমতা দান করুন। সাথে সাথে দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী রাজনৈতিক দল ঘটন করার ক্ষমতা বিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের প্রদান করুন। আমীন
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন