ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০২ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

বন্দরে লকডাউন ১০০ পরিবার

করোনায় নারীর মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ : | প্রকাশের সময় : ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০০ এএম


করোনায় বন্দরের এক নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকায় ১০০ পরিবার লকডাউন করে দিয়েছে প্রশাসন। মৃত্যুবরণকারী নারী কখনো দেশের বাইরে যায়নি। তাদের বাড়ির কেউ বিদেশফেরত নয়। বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে প্রশাসনকে।
গত বৃহস্পতিবার ৫০ বছর বয়সী ওই নারীর দাফন স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হওয়ায় অজানা একটা শঙ্কা রয়েই যাচ্ছে মানুষের মাঝে। কেননা, মৃত্যুর পর এই নারীকে গোসল দিয়েছেন কেউ, হাসপাতাল থেকে লাশ বয়ে বাড়ি এনেছেন তার পরিবারের লোকজন। আক্রান্ত এই নারীর সংস্পর্শে ছিলেন অনেকেই। আবার তার সংস্পর্শে থাকা মানুষগুলোও অন্যদের সংস্পর্শে গিয়েছেন। ফলে, ওই নারীর দাফনের দু’দিন পর্যন্ত তার পরিবারের লোকজন অবাধে চলাফেরা করেছে। এ বিষয়গুলোই প্রশাসনকে ভাবিয়ে তুলেছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুক্লা সরকার জানান, গত রোববার বন্দর উপজেলার সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলবাগ এলাকার ৫০ বছর বয়সী ওই নারী শ্বাসকষ্ট ও জ্বরে আক্রান্ত হলে স্বজনরা তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে তাকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলে স্বজনরা তা না মেনে ওই দিনই তাকে বাড়িতে ফেরত নিয়ে যান। পরদিন ওই নারী আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। পরে কুর্মিটোলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীর নমুনা সংগ্রহ করে আইইডিসিআরে পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, স্বজনরা ওই নারীর লাশ বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর আগে ওই নারীর হার্ট এ্যাটাক হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে স্বজনরা স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে ভেবে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দাফন করেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে আইইডিসিআরে পরীক্ষায় তার করোনাভাইরাস পজিটিভ আসলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ওই এলাকা লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নেয়।
নিহত নারীর বাড়িসহ আশপাশের পরিবারগুলো লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। রসুলবাগ এলাকায় প্রবেশের তিনটি রাস্তার দুইটি পথ সরু হওয়ায় টিনের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেয়া হয়েছে। মূল সড়কের পাশে আক্রান্ত বাড়ির প্রবেশের গলির মুখে পাঁচজন পুলিশ নিয়মিত টহল দেয়ার জন্য মোতায়েন করা হয়েছে। যে দুটি সড়ক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সেখানেও দু’জন করে পুলিশ নিয়মিত পাহাড়ায় থাকবে।
এছাড়া স্থানীয় পাঁচজন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি তারাও নজরদারি করবেন যাতে ওই একশ’ পরিবারের কোনো সদস্য বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন। এদিকে ওই নারীর সংস্পর্শে থাকা সদর হাসপাতালের এক ওয়ার্ডবয়কে করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে চিকিৎসা প্রদানকারী এক ডাক্তারসহ আরও ১০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন