ঢাকা, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২০, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৫ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

মুসলিমদের কাঁধে মহামারীর দায়

বিজেপির নয়া হাতিয়ার করোনাভাইরাস

দ্য ফিনান্সিয়াল টাইম্স | প্রকাশের সময় : ৫ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০২ এএম

ভারতের রাজধানীতে সঙ্ঘটিত কয়েক দশকের সবচেয়ে ভয়াবহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় ৫০ জনেরও বেশি নিহত হওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর আবারো সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। মোদি সরকারে বিরুদ্ধে নিজেদের ত্রুটিগুলি ধমাচাপা দিতে ধর্মীয় সঙ্ঘাতের ইন্ধন যোগানোর অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহলের। ভারতের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, নয়াদিল্লির একটি জনবহুল এলাকায় মুসলিম আলেমদের এক সভায় অংশগ্রহণকারীরা সমগ্র ভারতে করোনাভাইরাস ছড়াতে সহায়তা করেছে।

গত মাসে ২শ’ জনেরও বেশি লোকের ধর্মীয় সমাবেশ করার ওপর স্থানীয় সরকারের নিষেধাজ্ঞা সত্তে¡ও ভারতজুড়ে তাবলীগ জামাতের হাজার হাজার অনুসারী নয়াদিল্লির নিজামউদ্দিনে প্রধান সদর দফতরে সমাবেশ করে। ভারতের ২ হাজার নিশ্চিত করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে প্রায় ৩শ’ ৭০ জন মার্চের সেই সমাবেশের সাথে সম্পৃক্ত বলে জানায় ভারতীয় প্রশসন।

ভারতীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাবেশকারীরা কাশ্মীরের পর্বতমালা থেকে শুরু করে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ থেকে তামিলনাড়ু পর্যন্ত পুরো ভারতজুড়ে তাদের পরিবার ও সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে নয়াদিল্লি পুলিশ জায়গাটি সিল করে এবং তাবলীগের বিশাল আস্তানাগুলোতে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১ হাজার ৮শ’ অনুসারী এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের হাসপাতালে এবং আলাদা কোয়ারেন্টাইনে নিয়ে যায়।

ইতোমধ্যে মুসলিম সমাবেশের কারণে ভারতের করোনাভাইরাস সঙ্কট আরো প্রকট হওয়ার খবর দেশটির হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারতের ধীরগতির অর্থনীতির ব্যর্থতা ঢাকতে নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি চরম উস্কানিমূলক সাম্প্রদায়িক বক্তৃতার আশ্রয় নিয়েছে। এভাবে তারা ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুকে বারবার একটি কুখ্যাত অভ্যন্তরীণ হুমকি হিসাবে চিত্রিত করেছে।
এদিকে বিগত মাসগুলিতে সমগ্র এশিয়া জুড়ে ধর্মীয় সংগঠনগুলি বড় ধরনের জমায়েতের বিরুদ্ধে কড়া নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বহু আধ্যাত্মিক নেতাসহ সমাবেশ করে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে এক বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় ১০ হাজার সংক্রমণের অর্ধেকেরও বেশি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জনসমাবেশ থেকে শুরু হয়েছিল। পরবর্তী বিচ্ছিন্ন সংক্রমণগুলি কোরিয়ার ছোটো গির্জাগুলির সমাবেশ থেকে হয়েছিল। সিঙ্গাপুরের বৃহত্তম দুুটি করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবও দেশটির গীর্জাগুলির সাথে সংশ্লিষ্ট।

ভারতের উত্তরের রাজ্য পাঞ্জাবে এক শিখ ধর্মগুরু বেশ কয়েকটি বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যুবরণ করেন। তার সংক্রমণ তার পরিবারের ১৯ সদস্য এবং তার সংস্পর্শে আসা হাজার হাজার মানুষকে কোয়ারেন্টাইনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

তারপরেও তাবলীগের বিশাল সমাবেশগুলোই বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের ব্যাপক বিস্তারের কারবারী হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। টেলিভিশনের উপস্থাপক অর্ণব গোস্বামী ভারতের অন্যতম সর্বাধিক দেখা নিউজ চ্যানেলে মন্তব্য করেছেন, ‘এগুলো বিপজ্জনক ব্যক্তি। এরা লকডাউন ভেঙেছে। তারা আমাদের সকলের বিষয়ে আপোস করেছে। আমরা যখন জিতছিলাম তখন তারা আমাদের পরাজিত করার জন্য সবকিছু করেছে।’

অশোক বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক আলী খান মাহমুদাবাদ বলেছেন, ‘জাতীয় ঐক্যের মুহূর্ত হিসাবে মহামারীটিকে ব্যবহার করার পরিবর্তে মুসলিমদের আরও দোষী দেখানোর ও আরও বেশি দোষ চাপানোর প্রতিযোগিতা চলছে।’
ভারত ৩ সপ্তাহের লকডাউনের ২য় সপ্তাহ পার করছে যা দেশটির দরিদ্র গোষ্ঠির জন্য বিশেষ সমস্যা সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে বিশ্লেষকরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, বিজেপি সঙ্কট মোকাবেলার ক্ষেত্রে তার সরকারের ব্যর্থতার উপর জনগণের ক্ষোভকে অন্যদিকে ঘোরাতে মুসলিমবিরোধী মনোভাব জোরদার করতে পারে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (14)
Khaled Hossain ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৬ এএম says : 0
এটা ভারতে এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে! কিছুদিন আগে এক শিখ ধর্মগুরুর বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিল- সে নাকি ৪০ হাজার মানুষের মধ্যে করোনা বিস্তার করেছে!!
Total Reply(0)
Saiful Islam Saif ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৬ এএম says : 2
শুধু মুসলমানদের পায়খানায় গন্ধ খোঁজাই বিজেপির মুল লক্ষ।
Total Reply(0)
Awsomeboy Rubel ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৬ এএম says : 2
4 ঘন্টার মধ্যে গোটা ভারত লক ডাউন হয়ে গেলো, কিন্তু দিল্লী গণহত্যা চলেছিল 4 দিন ধরে।
Total Reply(0)
Mahmud Hussain Khan ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৬ এএম says : 0
You are right
Total Reply(0)
MD Mahabub Howlader ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৬ এএম says : 2
এই হিন্দুত্ববাদী মোদি সরকার যতদিন থাকবে ততদিন একটার পর একটা ইস্যু বানিয়ে মুসলিম নিধনে ব্যাস্ত থাকবে। উগ্রবাদী মোদির টার্গেট মুসলিম নিধন। মুসলিম দেশগুলোর উচিত এখনি একটি ব্যবস্থা নেওয়া।
Total Reply(0)
Sujon Miah ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৭ এএম says : 2
কাপির যদি জানতো কিয়ামত কি কোরয়ান জানতো তা হলে সে বুজতো
Total Reply(0)
Towfiq Ahmed ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৭ এএম says : 2
এরা এমন সুযোগের অপেক্ষায় ছিল
Total Reply(0)
এম.এম হাসান ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৭ এএম says : 1
মুসলিমরা ভুল করেছে।এসব জামাত তারা এড়িয়ে যেতে পারতেন এই সময়ে।সরকারও দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছে।আর সুযোগ সন্ধানীরা একটা ইস্যু খুঁজছে যে করোনা পরবর্তী কিভাবে একটা মুসলিম বিদ্বেষ এবং সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা বাঁধানো যায়।কারণ সরকার তো সাম্প্রদায়িক হাঙ্গামা বাঁধানোর অনুকূল এখন।
Total Reply(0)
Jakir Hossain ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৮ এএম says : 2
বিজেপি সরকার কেন একটি সম্প্রদায়ের উপর দায় চাপানোর চেষ্টা করতেছে যা এই সময়ের জন্য একটি শিশুসুলভ আচরণ। যেখানে পৃথিবীর প্রতিটি দেশ করোনার সাথে যুদ্ধ করতেছে আর বিজেপি সরকার আছে কার উপর দায় চাপানো যায় সেটা নিয়ে। আচ্ছা মুসলিমরা তো ভারতেরই নাগরিক। সাধু সময় থাকতে সাবধান হয়। দায় চাপানো বন্ধ কর। না হলে সব শেষ হয়ে যাবে
Total Reply(0)
Showkat Ali ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪৮ এএম says : 2
এই ভয়ংকর বিপদের সময় ও ভারত ইসলাম কে নিয়ে বিদ্রোপ করে এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে তাবলীগ কে হেয় করছে,যতটা না তারা দোষী তার চেয়ে তিন গুণ দোষ দিয়ে ভারতে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিচ্ছে, ধর্মীয় ট্যাগ দিয়ে তাদের উপর জুলুম করছে,, আমি খলফ করে বলতে এই ভারত করোনায় ধ্বংস হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারণ আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে জালেম দেরকে এই ভাবেই ধ্বংস করেছে, আর ভারত তো সেখানে চুনোপুঁটি।
Total Reply(0)
Ashraf Hossen Babu ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৫০ এএম says : 2
ওখানে গণজমায়েত কিন্তু লুকিয়ে হয়নি প্রশাসনের সামনে দিয়ে হয়েছে কারণ যারা বিদেশী তারা বিমানে এসেছে সরকার আর একটি ধর্মীয় দাঙ্গা বাঁচানোর চেষ্টা করছে প্রশাসনের লোকজন কি আগে ঘুমিয়ে ছিল এই অবস্থায় ভারতের জনগণের উচিত হবে সহনশীল হওয়া
Total Reply(0)
আনোয়ার হোসেন ৪ এপ্রিল, ২০২০, ১১:০৬ এএম says : 0
বিজিপির কাজেই হচ্ছে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে ক্ষমতা দখলকরে রাখা।
Total Reply(0)
মিজান ৪ এপ্রিল, ২০২০, ৯:০২ এএম says : 1
সরকারের মুসলমানদের বিপদসঙ্কুল সময থেকে উদ্দার না করে উল্টো তাদেরকে সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার করছে। এটা খুবই লজ্জাজনক এবং আতঙ্কের বিষয়। সরকার এবং সকল ভারতীয় জনতার উচিত উক্ত সমস্যা থেকে মুক্তি লাভে সকলকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।
Total Reply(0)
মোঃ আশরাফ-উলআলম ৫ এপ্রিল, ২০২০, ১২:৪২ এএম says : 0
বিজেপির আর এক নাম ভারতীয় জঘন্য পার্টি।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন