ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৯ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

অভ্যন্তরীণ

চাল কিনতে গিয়ে বাড়ছে ঝুঁকি

সাদিক মামুন, কুমিল্লা থেকে | প্রকাশের সময় : ৮ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০০ এএম

কুমিল্লা নগরীর চকবাজার এলাকায় রূপালী সিনেমা হল মোড়। রাস্তার একপাশে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। গাদাগাদি করে লাইনে দাঁড়িয়ে ১০ টাকা কেজি দরের চাল নিতে এসেছে অন্তত তিন শতাধিক নারী-পুরষ। কেউ কেউ সাথে ঘরের ছোট্ট শিশুকে সাথে নিয়ে এসেছেন।

সবার মুখে মাস্ক থাকলেও কম দরে চাল কেনার টানে ছুটে আসা নিম্ন আয়ের এসব মানুষ গাদাগাদি দাঁড়িয়ে ভুলে গেছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ঝুঁকি শত মানুষের ভিড়ের মধ্যেও থাকতে পারে। হয়তো কেউ না কেউ চাল কিনতে এসে ঘরে ফিরছেন করোনা ঝুঁকি নিয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন শোর চিৎকার করেও কোনভাবেই ওদেরকে বুঝাতে পারছেন না, এভাবে গাদাগাদিতে করোনা ভাইরাস হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কিন্তু কে শুনে কার কথা।

গতকাল সকালে কয়েকশত নারী-পুরুষের গাদাগাদির লাইন দেখে পথচারী ও স্থানীয়রা বলাবলি করছিলেন, আসলে ওরা ঘরের শূন্য হাড়ির যাতনায় রোদে পুড়ে কম টাকায় বেশি চাল নিতে এসে রোগবালাইয়ের ভাবনা চিন্তা করছেন না। শ্রমজীবি নিম্ন আয়ের কর্মহীন মানুষের খাদ্য সঙ্কট নিরসনে সারাদেশের ন্যায় কুমিল্লাতেও শুরু হয়েছে সরকারের খোলা বাজারে (ওএমএস) ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি কার্যক্রম। সপ্তাহে প্রতি রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে ১০ টাকা দরে জনপ্রতি ৫ কেজি করে চাল নিতে পারবেন।

গতকাল খোলা বাজারে চাল কেনার দিনক্ষণ হওয়ায় সকাল ৮টা থেকেই রূপালী সিনেমা হল লাগোয়া চলাচলের ফুটপাতে লাইন করে জড়ো হতে থাকে লোকজন। সকাল ১১টায় চাল বিক্রি শুরুর কথা। এসময়ের মধ্যে বিক্রিস্থল সিনেমা হলের সামনে থেকে পূর্ব দিকে মহিলাদের লাইন ডাচ-বাংলা ব্যাংক ও পশ্চিম দিকে বাস টার্নিমাল পর্যন্ত পুরুষদের লাইন গিয়ে ঠেকে। প্রতি বিক্রির দিন দুইশো লোক চাল কিনতে পারবে। কিন্তু গতকাল লাইনে ছিল তিন শতাধিক। সাড়ে ১১টায় চাল বিক্রি শুরু হলে দেখা দেয় হুলস্থুলকান্ড। গাদাগাদি, ঠেলাঠেলিতে এক অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন চাল নিতে আসা লোকদেরকে নিরাপদ দূরত্বে থেকে দাঁড়ানোর জন্য শোর চিৎকার করে আহবান জানালেও কেউ শুনে না কারো কথা। এমন দৃশ্যও দেখা গেছে যারা চাল মেপে দিচ্ছেন, তাদের ওপর হুমরি খেয়ে পড়ছেন ক্রেতারা। এরকম অনিরাপদ পরিস্থিতির মধ্যদিয়ে দুপুর পর্যন্ত চলে খোলা বাজারের চাল বিক্রির পালা।
কম দরের চাল নিতে আসা গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী ক্রেতা বলেন, দূরে থাকলে চাল পেতে সন্ধ্যা হবে। রোগ হলে এমনিতেই হবে। গাদাগাদিতে আর কি হবে। এক পুরুষ ক্রেতা বলেন, গাদাগাদি করে চাল নিতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে, আবার করোনা ভাইরাসের ভয়ও হচ্ছে। কিন্তু করবো। চাল নিতে এসে দূরত্ব মানা সম্ভব হচ্ছে না।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন