ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ইসলাম বিদ্বেষ ছড়ালে কঠিন শাস্তির হুঁশিয়ারি আমিরাতি প্রিন্সেসের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৩:৫৩ পিএম

সোশ্যাল মিডিয়ায় হিন্দুত্ববাদীদের ইসলামবিরোধী প্রচারণার বিরুদ্ধে এবার মুখ খুলেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রিন্সেস হেন্দ আল কাসিমি। তিনি এ ধরণের প্রচারনা না করার জন্য টুইটার ব্যবহারকারীকে সাবধান করে দিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার এক টুইট বার্তায় প্রিন্সেস বলেন, ‘শাসক পরিবার ভারতীয়দের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ, তবে তার জন্য আপনাদের অভদ্রতা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি বলেন, ‘সমস্ত কর্মচারীদেরকে তাদের কাজের জন্য বেতন দেয়া হয়, কেউ এমনিতে কাজ করে না। যে দেশ থেকে তুমি তোমার রুজি ও রুটি অর্জন করছো, সেই দেশকেই তোমরা ঘৃণা করছ। তোমাদের উপহাস নজর এড়িয়ে যাবে না।’ তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে ৫৩ টি মুসলিম দেশ থেকে ভারতীয়রা বছরে ১২০ বিলিয়ন ডলার অর্জন করেন।

সউদী আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ইত্যাদির মতো উপসাগরীয় দেশগুলোতে ডানপন্থী ভারতীয় প্রবাসীদেরকে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে দেয়ার জন্য মুসলমানদের দোষারোপ করতে দেখা যায়, যার ফলে তারা ইসলামের সমালোচনা শুরু করে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘করোনার জিহাদ’ বলে প্রচার করতে থাকে। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রচুর ভারতীয়কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে তাদের পোস্টের জন্য বিতাড়ন করার সত্ত্বেও, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তাদের কথিত ইসলামফোবিক পোস্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্চ মাসে নয়াদিল্লিতে তাবলিগী জামায়াতের একটি ধর্মীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বাড়ার অভিযোগ ওঠে। গত সপ্তাহে, প্রিন্সেস হেন্দ সৌরভ উপাধ্যায় নামের একজনের টুইটের স্ক্রিনশট শেয়ার করেছেন যার অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। প্রিন্সেস হেন্দ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতে কেউ প্রকাশ্যে বর্ণবাদী এবং বৈষম্যমূলক মন্তব্য করলে তাকে খুঁজে বের করা হবে এবং তাকে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে।’

একটি হিন্দু-জাতীয়তাবাদী দ্বারা পরিচালিত একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রিন্সেস হেন্দকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তিনি ‘হিন্দুফোবিয়ার’ নিন্দা করবেন কিনা, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে, তিনি হিন্দুদের সাথে বেড়ে উঠেছেন এবং বেশিরভাগ আমিরাতি হিন্দী বলতে পারে। তিনি বলেন, ‘এখানে কেউ হিন্দুদের ঘৃণা করে না।’ পৃথক পোস্টে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ভারত ‘ভাল বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেনে এবং বলিউডের সিনেমা ও ভারতীয় খাবারের প্রতি তার ভালবাসা প্রকাশ করেন।

প্রসঙ্গত, দুবাইয়ে হিসাবরক্ষক হিসাবে কাজ করা এক ভারতীয় নাগরিকের মুসলিম বিরোধী পোস্ট ভাইরাল হবার পর তাকে আরব আমিরাত সরকার দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে। আমিরাতে কর্মরত আরেক ব্যক্তির পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভের সৃষ্টি করলে তাকেও আমিরাত সরকার বহিস্কার করে। কুয়েতে বার্গার কিংয়ের একটি শাখা তাদের এক ভারতীয় গোঁড়া হিন্দু কর্মচারীর বৈষম্যমূলক পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পরে তাকে বরখাস্ত করেছে।

ভারতীয়দের এই মুসলিম বিদ্বেষী মনোভাব ও কর্মের নিন্দা জানিয়েছেন জহরানী আবিদী, আবদুর রহমান নাসার, প্রিন্সেস হেন্দ আল কাসেমি সহ আরও অনেক উচ্চপদস্থ আরব ব্যক্তিবর্গ। কুয়েতের আইনজীবী এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিচালক মেজবেল আল শারিকা জেনেভাতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলে ভারতীয় মুসলমানদের বিষয়টি উত্থাপন করার কথা ঘোষণা করেছেন। তিনি সহিংসতার প্রমাণাদি জোগাড় করার জন্য ভারতীয় মুসলমানদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন। সউদী আলেম আবিদ জহরানী জিসিসি এবং মধ্য-প্রাচ্যে কাজ করা ব‍্যক্তি যারা মুসলমান ও ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে সেই সমস্ত ব্যক্তির তালিকা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (20)
Bablu ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৫:২৯ পিএম says : 0
Day passing become night now open your eyes,
Total Reply(0)
Jahangir alam ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৪:৫৯ পিএম says : 0
Thanks
Total Reply(0)
Md. Shamsul Hoq ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৪:০০ পিএম says : 0
Thanks.
Total Reply(0)
habib ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৪:১৫ পিএম says : 0
its true but it is too late to realize it.. Muslim leader should taken action immediately against Indian Government...they are frequently killing Muslim in India.
Total Reply(0)
A Mannan ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৪:৪২ পিএম says : 0
দুনিয়ার সব মুসলিম দেশের বিশেষ করে আরব দেশ গুলোর নেতাদের উচিত ভারতীয় উগ্র হিনদুদের অপরাধগুলোর ব্যাপারে সোচচার হওয়া
Total Reply(0)
AHM Babar Siddiqui ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৬:১২ পিএম says : 0
আলহামদুলিল্লাহ, ইমরানের জাতিসংগে ভাষণের পরে এখন অনেক নেতাই মুখ খুলছে -
Total Reply(0)
Muhammad Azizul Haque ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৫৮ পিএম says : 0
Good job
Total Reply(0)
Altaf ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৮:০৭ পিএম says : 0
ধন্যবাদ
Total Reply(0)
syed ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৮:৪০ পিএম says : 0
এমন জগন্য মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে,আপনারা প্রতিবাদ করেছেন,তাই আপনাদেরকে সালাম জানাই।
Total Reply(0)
Syed shamim ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৯:০৩ পিএম says : 0
এমন জগন্য মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন,তাই আপনাদের সালাম জানাই।
Total Reply(0)
jack ali ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৯:২৮ পিএম says : 0
All the middle east ruler do not follow Qur'an and Sunnah of our Beloved Prophet [SAW]. These ruler are spending billion billion dollar to maintain their Luxurious life whereas majority muslims around the world are poor and hungry. These poor and hungry muslim have 100% right on their wealth. So now on expel all the non-believer from Arabian Peninsula and bring muslim around the world to work. It is impermissible to hire disbelievers and bring them to the Arabian Peninsula. Recruiting disbelievers, such as idolaters, Magi, Jews, Christians, and others to wok and live among the Muslims, brings about grave ham and consequent corruption, evils and temptations and the expected negative effects. It is easy for them to impart their disbeliefs and traditions among Muslims, which may affect them. Recruiting them is a way of helping their falsehood and supporting their economy, thus achieving their plots against the Muslims. It is authentically reported from the Prophet (peace be upon him) that he commanded Muslims to cause the disbelievers to leave the Arabian Peninsula. It is related by Al-Bukhari in his Sahih Book of Hadith from Ibn `Abbas that he, i.e. the Prophet, on his death-bed, gave three orders (including): "Expel the pagans from the Arabian Peninsula..." That is why the Prophet (peace be upon him) expelled the Jews from Al-Madinah and prevented them from living there. He caused them to leave to Khaybar. Upon the conquest of Khaybar, he was about to expel the remaining Jews, whom he left to work in Khaybar but they asked him to remain for (Part No. 14; Page No. 389) the purpose of cultivation. Therefore, the Prophet (peace be upon him) left them for this purpose. When the Muslims became strong and there was no more need, `Umar ibn Al-Khattab (may Allah be pleased with him) expelled them from the Arabian Peninsula during his reign. Thus, it is impermissible to retain a work contract with a disbeliever. You are not obliged to fulfill the contract until its end. This is not included in the generality of Allah's (Exalted be He) saying: O you who believe! Fulfil (your) obligations. This is not applied to this case as some may wrongly think, such as those who told you. The Ayah (Qur'anic verse) means that it is obligatory to fulfill your obligations with Allah (Exalted be He) and with people. The contracts made with Allah (Exalted be He) are like religious obligations. Contracts with people are the lawful ones according to the Book of Allah and the Sunnah (whatever is reported from the Prophet) of His Prophet (peace be upon him). A contract that contradicts the Qur'an and Sunnah is illegal and thus, no one should make or fulfill them. May Allah grant us success. May Allah's Peace and Blessings be upon Prophet Muhammad, his family and Companions.
Total Reply(1)
elu mia ৬ মে, ২০২০, ৭:৫৪ পিএম says : 0
Beautifully said.
jack ali ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ৯:৩০ পিএম says : 0
This woman should observe hizab. Hizab is fard for women. It is a great crime against Allah [SWT] not to observe Hizab.
Total Reply(0)
মোঃ আশরাফ-উল আলম ২৩ এপ্রিল, ২০২০, ১০:১৮ পিএম says : 0
হিন্দু উগ্রবাদিতা দমনের এখনিই সময়।
Total Reply(0)
জিয়াউর রহমান ২৪ এপ্রিল, ২০২০, ৪:৩৫ এএম says : 0
অনেক দিন পর ভাল বন্ধুদেশ সম্পর্কে জানা হলো আরব দেশের।
Total Reply(0)
md akash ২৪ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৩৬ এএম says : 0
হিন্দুরাই সন্ত্রাসী,
Total Reply(0)
Md. Humyun Kabir ২৪ এপ্রিল, ২০২০, ৯:৫৮ এএম says : 0
I like this declaration, Please drive out this Hindu from this Muslims country. Because they do not know anything without sex and anti Muslims work.
Total Reply(0)
Arif ২৪ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৪০ পিএম says : 0
right now
Total Reply(0)
Arif ২৪ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৪১ পিএম says : 0
right now
Total Reply(0)
MD abdur rahim ২৪ এপ্রিল, ২০২০, ১০:২৬ পিএম says : 0
আমার মতে মুসলিমদের একটা আলাদা সংগঠন তৈরি করা দরকার যেন ইসলাম বিদ্বেষী কোন প্রচার প্রচারণা করতে না পারে রুখে দাঁড়ানোর জন্য।
Total Reply(0)
রফিকুল ইসলাম ২৪ এপ্রিল, ২০২০, ১১:৪১ পিএম says : 0
এই প্রিন্সেস অচিরেই তাঁর মন্তব্য প্রত্যাহার করবেন । কারণ, তাঁর দেশের শিকড়ে শিকড়ে ভারতীয়দের বাস । তাঁর দেশের রাজন্যবর্গ ও প্রিন্সরা ভারতীয় নর্তকী ও বারবণিতাদের সারা বছরের ক্লায়েন্ট ।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন